kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

দেশ-বিদেশে প্রতিক্রিয়া

রোহিঙ্গা সুরক্ষায় বড় অগ্রগতি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা সুরক্ষায় বড় অগ্রগতি

ফাইল ছবি

‘জেনোসাইড’ থেকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) আদেশকে মাইলফলক হিসেবে দেখছেন রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকরা। আইসিজের রায়কে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুুল মোমেন বলেছেন, “এটি মানবতার জয়, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মীদের জন্য মাইলফলক। এ বিজয় গাম্বিয়া, ওআইসি (ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা), রোহিঙ্গা এবং অবশ্যই বাংলাদেশের। সৃষ্টিকর্তা মানবতার ও ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’  (মানবতার মা) শেখ হাসিনার মঙ্গল করুন।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক আদালত আইসিজে সর্বসম্মতিক্রমে চারটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ মঞ্জুর করেছেন। এ ছাড়া আইসিজে মিয়ানমারকে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে চার মাসের মধ্যে প্রথম প্রতিবেদন এবং এরপর প্রতি ছয় মাস পর পর প্রতিবেদন দিতে বলেছে।

মামলায় গাম্বিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া সে দেশের আইনমন্ত্রী আবুবকর এম তামবাদুই বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ অবসানে এই ছোট্ট পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন তাদের সুরক্ষায় সারা বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে।

নেদারল্যান্ডসে সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল আজিজ আবু হামেদ এ রায়কে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মামলার রায় শুনতে গতকাল বৃহস্পতিবার আইসিজেতে উপস্থিত ছিলেন রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রাজিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, “‘প্রভিশনাল মেজার্স’ (অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা) হচ্ছে প্রাথমিক পদক্ষেপ। এটি মামলাকে ধরে রাখবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব। জেনোসাইডের যে আলামতগুলো রয়েছে, সেগুলো যেন মিয়ানমার বিনষ্ট না করে।’’ রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। রোহিঙ্গারা ৬৫ বছর ধরে কোনো দিশা পাচ্ছিল না। হয়তো এটি মাত্র শুরু। আমি মনে করি, এ শুরুর ঘটনাটিই আমাদের বিচারিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এতটুকু পাব এটিও আমি আশা করিনি। যেটি হয়েছে, সেটি মাত্র শুরু। স্বপ্নটা আরো বাড়িয়ে দিল।’

কূটনৈতিক সূত্র মতে, আইসিজেতে মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করানোর নেপথ্যে বাংলাদেশের মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ ওআইসিতে প্রস্তাব পাস করিয়ে গাম্বিয়াকে দিয়ে মামলা করিয়েছে। তাই মিয়ানমারের এই জবাবদিহি উদ্যোগে বাংলাদেশের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “আদালত (আইসিজে) ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেছে এবং মিয়ানমারের দাবিও নাকচ করেছে। আদালত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ওপর জেনোসাইড ও নৃশংসতা বন্ধ করতে বলেছে। আশা করা যায়, এমন রায় বিশ্বে জেনোসাইড ও জাতিগত নির্মূলের পুনরাবৃত্তি ঠেকাবে।” 

যুক্তরাজ্যে বার্মিজ রোহিঙ্গা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুন খিন আইসিজের রায়কে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইউরোপে রোহিঙ্গাদের সংগঠন ‘ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের’ সহপ্রতিষ্ঠাতা রো নে সান লুইন রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আমরা খুব খুশি। আমাদের দুর্ভোগ আজ আন্তর্জাতিক আদালতে স্বীকৃতি পেল।’

এদিকে আইসিজেতে গতকাল রায়ের পরপরই মানবাধিকার সংগঠনগুলো মিয়ানমারকে রায় পুরোপুরি মেনে চলার তাগিদ দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ফোরটিফাই রাইটস এক বিবৃতিতে সু চির সরকারকে বলেছে, ‘রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিন। আইসিজের আদেশ মেনে চলুন।’

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে এক বিবৃতিতে ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টের মহাসচিব স্যাম জারিফি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে এ আদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। জেনোসাইড সনদের আওতায় রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় এ আদেশ মিয়ানমারের জন্য মেনে চলা অপরিহার্য।’ তিনি বলেন, ‘আইসিজের এ আদেশ পুরোপুরি মেনে চলতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানানো এবং সহযোগিতা করা বিশ্বের সব রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য আবশ্যিক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা