kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক

এজেন্টদের নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ ইসির

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এজেন্টদের নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ ইসির

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গতকাল বুধবার বিকেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, ‘এজেন্ট যাবেন ভোটকেন্দ্রে। তাঁরা যখনই ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তখনই আমাদের ওপর দায়িত্ব এসে যায়। তিনি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পর তাঁকে যদি কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ আসে, তখন দেখা হবে।’

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘কোনো ধরনের অনিয়ম ও ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখতে চাই না। ভোটে বিচ্যুতি হলে কাউকে ছাড়ব না। গাফিলতি সহ্য করা হবে না। অনিয়মে কারা জড়িত তা দেখে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চার কমিশনার, ইসির সিনিয়র সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশের আইজি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকার পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, দুই সিটির নির্বাচনে সামগ্রিক পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে ভোটের দিন ও আগে বেশ কিছু ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে সহিংসতা হতে পারে এমন আশঙ্কা করেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা। এ ছাড়া ফেসবুকসহ সামাজিক নানা যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব রটিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা হতে পারে বলেও জানান তাঁরা। বৈঠকে প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রের পাহারায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৬ জন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন সদস্য রাখতে ইসির প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে এনআইডির ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম ইভিএমের ওপর নিবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, ইভিএম ছিনতাই করে কোনো লাভ নেই।

সিইসি বলেন, ‘সবার নজর ঢাকা সিটির ভোটের দিকে।

আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। ভোটে সবাই মহা উৎসবের আমেজে রয়েছে। এর যথাযথ গুরুত্ব অনুধাবন করে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেন্দ্র থেকে কেউ যেন এজেন্ট বের করে দিতে না পারে এবং আসা-যাওয়ার পথে যাতে কোনো বাধার সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি দেখতে হবে। কোনো অভিযোগ পেলে পদক্ষেপ নিতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমি চাই কোনো অভিযোগ, অনিয়ম, বিচ্যুতি যেন আমাদের পর্যন্ত না আসে। ছোটখাটো কোনো সমস্যা হলে নিজ নিজ বাহিনীর প্রধানদের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবেন। কোনো বিচ্যুতি হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।’

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, গোয়েন্দাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে মোট ১৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া তাঁদের কাছে এমন কোনো রিপোর্ট নেই, যাতে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। সব সময় তাঁরা সতর্ক আছেন। কোনো সমস্যা থাকলে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, ভোটের মাঠে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪০ হাজার সদস্য থাকবে। সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন সদস্য থাকবে। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স র‌্যাব ও বিজিবি থাকবে।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে এখন পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো ঘটনা ঘটেনি। ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে। আমি মনে করছি, শেষ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং আমরা তা বজায় রাখব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা