kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন

বিচার পদ্ধতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিচার পদ্ধতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

‘নির্ধারিত রায়ে বিচারকাজ পরিচালনা’—এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিচার চলছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা একের পর এক প্রস্তাব তুলছে আর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সেগুলো বাতিল করে দিচ্ছে রিপাবলিকানরা। একই পরিণতি হবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসনের অভিযোগগুলোরও।

পরিণতি জানা থাকলেও তুমুল বিতর্কের মধ্য দিয়ে সিনেটে গত মঙ্গলবার শুরু হয় ট্রাম্পের অভিশংসনের বিচার। প্রথম দিনই সাক্ষী ডাকা থেকে শুরু করে বিচার পদ্ধতি নিয়ে ডোমোক্র্যাটদের ১১টি প্রস্তাব বাতিল করে দেয় রিপাবলিকানরা। সিদ্ধান্ত হয়, তিন দিনের মধ্যে বাদী ও বিবাদী তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। তারপর হবে ১৬ ঘণ্টার প্রশ্নোত্তর। আর সামনের সপ্তাহে চূড়ান্ত ভোট।

আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে স্টেট অব ইউনিয়নের ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। তার আগেই প্রেসিডেন্টের জন্য বিব্রতকর এই অভিশংসন অভিযোগের ল্যাঠা চুকিয়ে ফেলতে চায় রিপাবলিকানরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে (সিনেটের মোট আসন ১০০টি। এর মধ্যে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি) রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে ডেমোক্র্যাটরা এঁটে উঠতে পারছে না। মঙ্গলবার প্রথম দিনে তাদের সব কটি প্রস্তাব সিনেটে মুখ থুবড়ে পড়ে। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে আবারও সিনেটের বসার কথা ছিল। বাদীপক্ষ অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটদের এদিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার কথা।

অভিশংসনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ১৮ ডিসেম্বর ডেমোক্রেটিক পার্টি নিয়ন্ত্রিত নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের রায় দেয়। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে চলমান বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকের ফাঁকে দেওয়া এক টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই বিচারকে ‘ভাঁওতাবাজি, সরষের মধ্যে ভূত খোঁজা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এ প্রক্রিয়া ‘অত্যন্ত অসম্মানজনক’।

এই বিচারপ্রক্রিয়ায় বাদীপক্ষের দায়িত্ব পালন করছে ‘অভিশংসন ব্যবস্থাপক’ নামে পরিচিত হাউসের ডেমোক্র্যাটরা। বিবাদীপক্ষে আছে ট্রাম্পের আইনি দল। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় অভিশংসন ইস্যুতে মিলিত হয় সিনেট। বুধবার রাত ২টা পর্যন্ত চলে দুই পক্ষের বিতর্ক। বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক ও ভোটাভুটি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবই আসে রিপাবলিকান পার্টির মত অনুসারে। সিনেটে রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল দুই দিনের মধ্যে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করতে চাইলেও দলীয় সদস্যদের বিরোধিতার কারণে তা আর পেরে ওঠেননি। সময় এক দিন বাড়িয়ে তিন দিন রাখা হয়েছে। এরপর ১৬ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে সিনেটরদের প্রশ্ন করার জন্য।

তারপর পুরো প্রক্রিয়াটি ফের সাক্ষ্য-প্রমাণ পেশ করার বিতর্কিত ইস্যুতে গিয়ে দাঁড়াবে। আর এ ব্যাপারে শেষ কথাটি বলবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং অভিশংসন মামলার দেখভালকারী জন রবার্টস। এর আগে তিনি সিনেটরদের নিরপেক্ষ বিচার পরিচালনা করার ব্যাপারে শপথ পাঠ করান। ডেমোক্র্যাটরা বিশেষ করে দুজন সাক্ষীকে ডাকার ব্যাপারে বিশেষভাবে আগ্রহী—হোয়াইট হাউসের ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফ মিক মুলভানে এবং সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন।

গত মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটরা সাক্ষী ডাকাসহ হোয়াইট হাউস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু নথি চাওয়ার প্রস্তাবও তোলে; যদিও সেগুলো ধোপে টেকেনি। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর হাউসের অভিশংসন বিষয়ক দলের প্রধান অ্যাডাম স্কিফ বলেন, বেশির ভাগ আমেরিকানই জানে, ‘এখানে নিরপেক্ষ বিচার হবে না। তারা জানে সিনেট পক্ষপাতহীন নয়। তারা জানে, রায় পূর্বনির্ধারিত।’

ট্রাম্পকে অভিশংসন করতে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দুটি প্রস্তাব উঠেছে। এর মধ্যে একটিও যদি পাস হয়ে যায় তাহলেই দপ্তর ছাড়তে হবে এই ধনকুবের সাবেক ব্যবসায়ীকে।

গত জুলাই মাসে এ সংকটের সূচনা। ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ফোন করে তাঁর (ট্রাম্পের) রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য চাপ দেন। ইউক্রেনে বাইডেনের ছেলের ব্যবসা ছিল। তদন্ত শুরু না করলে তিনি ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তা বন্ধেরও হুমকি দেন। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, এর মাধ্যমে ট্রাম্প দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যা তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার। পরে হাউস এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করলে তাতে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য দিতে দেননি ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটরা বলছে, এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন তিনি, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

তবে ট্রাম্পের আইনি দলের দাবি, এই অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলেও সংবিধান অনুসারে প্রেসিডেন্ট অভিশংসন করা যায় না। তারা অভিশংসনপ্রক্রিয়া খারিজ করে দেওয়ার দাবি তুলেছে। সূত্র : সিএনএন, বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা