kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

নানামুখী শঙ্কা নিয়েও নির্বাচনে টিকে থাকতে চায় বিএনপি

এনাম আবেদীন   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নানামুখী শঙ্কা নিয়েও নির্বাচনে টিকে থাকতে চায় বিএনপি

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে বিএনপিতে তত শঙ্কাও বাড়ছে। নির্বাচনে জয়লাভ করা যাবে কি না, এমন আলোচনার চেয়ে প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবেন কি না, সে আলোচনাই দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশি হচ্ছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

২০১৫ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেক বেশি মাঠে নেমেছেন বলে দলটির নেতারা মনে করছেন। তাঁদের মতে, বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী তরুণ দুই মেয়র পদপ্রার্থীর নেতৃত্বে জড়ো হয়েছেন। তা ছাড়া পুলিশ প্রশাসনও আগের বারের তুলনায় এবার কিছুটা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। এমনটাই মনে করছে বিএনপির হাইকমান্ড। ফলে বড় ধরনের অঘটন না ঘটলে দলটি এবার নির্বাচনে টিকে থাকবে বলে জানা গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় মানুষের ঢল নামায় বুঝতে পেরেছি, আমরা জনগণের মন জয় করেছি। সরকার হস্তক্ষেপ না করলে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরো বলেন, ‘বেশ কয়েক জায়গায় হামলা হলেও সরকারের ভূমিকা এখনো আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। এটি নির্বাচনের শেষ দিকে আমরা বুঝতে পারব।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার ঠেলে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু বিএনপির প্রার্থীরা সেদিকে মনোযোগী নন। কারণ জনগণের কাছ থেকে তাঁরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।’    

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গেলে তাঁর গাড়িবহরে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ফলে প্রথম দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থাকলেও শেষ দিকে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ তৈরি হলে তাঁদের অংশগ্রহণ কমে যায়। সরকারের ইঙ্গিতেই ওই বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়, এমন বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের দিন দুপুরের আগেই ওই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি।

তবে এ বছর উত্তর ও দক্ষিণে মিছিল চলাকালে বেশ কয়েক জায়গায় বিএনপির প্রচারণায় হামলা হলেও তাতে পুলিশ ত্বরিত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে এখন পর্যন্ত বিএনপির মূল্যায়ন। দলটির দু-একজন নেতা এমনও মনে করেন, পুলিশের ভূমিকা এবার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পক্ষে। সর্বশেষ গতকাল রাজধানীর গাবতলী এলাকায় তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে পুলিশের ত্বরিত পদক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মুজিব সারোয়ারের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তবে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, ওই ঘটনার মতোই ইতিপূর্বে বিএনপির মিছিলে হামলার ঘটনাগুলোকে তাঁরা এখনই সরকার বা আওয়ামী লীগের সরাসরি ইন্ধনে হয়েছে বলে মনে করতে চাইছেন না। তাঁদের মতে, এসব ঘটনা হয়তো অতি উৎসাহী নেতাকর্মীরা বা স্থানীয় পর্যায়ে হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্টতা তাঁদের কাছে এখনো দৃশ্যমান নয়। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকারের ভূমিকা স্পষ্ট হবে বলে তাঁরা মনে করছেন।

ডিএনসিসির মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গাবতলীসহ বিভিন্ন জায়গায় এখন পর্যন্ত যে হামলা হয়েছে তা সরকারের পরিকল্পিত, এটি এখনই বলতে চাই না।’ তিনি আরো বলেন, ‘হয়তো অতি উৎসাহীরা এটি করেছে। তবে আগামী ১০ দিনে সরকারের ভূমিকা বোঝা যাবে। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণের ওপর এটি নির্ভর করছে।’

ডিএসসিসির মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইভিএমসহ বিভিন্ন কারণে নির্বাচন নিয়ে আমাদের শঙ্কা আছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারের যা ভূমিকা তাতে টিকে থাকতে পারব বলে মনে করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘টিকে থাকতে পারলে জয়ও আমাদের সুনিশ্চিত। তবে সরকারের ভূমিকা কিভাবে দৃশ্যমান হয় তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা