kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

তাবিথের প্রচারে হামলা সাংবাদিকসহ আহত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তাবিথের প্রচারে হামলা সাংবাদিকসহ আহত ২০

ডিএনসিসি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল গতকাল গাবতলী এলাকায় প্রচারণায় গেলে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় নেতাকর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরে রক্ষার চেষ্টা করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচন উপলক্ষে প্রচার কার্যক্রম চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে গাবতলীর আনন্দনগর তেলের মিল এলাকায় তাবিথ আউয়ালের প্রচারে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মুজিব সরোয়ারের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ ঘটনায় ডিএনসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেমের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাবিথ আউয়াল। এদিকে তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারে হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এদিকে হামলার ঘটনায় গতকাল রাত ৯টায় আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি দারুসসালাম থানায় মামলা দিতে গেলেও সেটি গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তাবিথ আউয়ালের মিডিয়া সমন্বয়কারী মাহমুদ হাসান।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে গাবতলী পর্বতা সিনেমা হলের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন তাবিথ আউয়াল। সেখান থেকে এগিয়ে আনন্দনগরের তেলের মিল এলাকার সামনে পৌঁছলে ৭০-৮০ জনের একটি দল পেছন থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় প্রচারে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা তাবিথ আউয়ালকে ঘিরে বেষ্টনী তৈরি করেন। হামলাকারীরা তাবিথ আউয়ালের প্রচারের কাছে পৌঁছলে ওই এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় তাবিথ আউয়াল মুখ ও মাথায় আঘাত পান। তবে তাঁর আঘাত গুরুতর না হওয়ায় ফের প্রচারে নামেন তাবিথ। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর তাবিথের পথসভায় ফের হামলা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ সময় পুলিশ বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝখানে অবস্থান নেয়। হামলায় শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম, যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার সাইফুদ্দিন রবিন, সাঈদ খানসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ৯  নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মুজিব সরোয়ারের নেতৃত্বে এই হামলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তাবিথ আউয়াল।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেছিলাম। পেছন দিক থেকে কাপুরুষের মতো আমাকে টার্গেট করে হামলা করা হয়েছে। আমার সহকর্মী নেতৃবৃন্দকে আঘাত করা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর কথা হলো, এই হামলা পুলিশের সামনে হয়েছে।’

তাবিথ বলেন, ‘এই হামলা ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঠেলাগাড়ি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী মুজিব সরোয়ারের লোকেরা করেছে। আমি আশা করছি, পুলিশ এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

গতকাল বিকেলে ইব্রাহিমপুরে তাবিথের প্রচারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু যুক্ত হন। পরে কচুক্ষেত স্বাধীনতা চত্বরে পথসভা করেন তাঁরা। পথসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এবার আমরা ভোট চুরি করে নির্বাচন করতে দেব না। এবার দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে।’

এ সময় তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘যত হামলা করা হোক, আমি প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিতে চাই, হামলা করে কোনো লাভ হবে না। কারণ জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। জনগণকে নিয়ে আমরা ১ ফেব্রুয়ারি বিজয়ী হব।’

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ : হামলার ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তাবিথ আউয়াল। হত্যার উদ্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করেন তিনি। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, ‘প্রাণে বেঁচে গেলেও আমিসহ আমার নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন। আমি মাথায় আঘাত পেয়েছি। ঘটনার সময় পুলিশ আইনুযায়ী সক্রিয় থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।’

বিএনপির প্রতিবাদ : এক বিবৃতিতে ডিএনসিসি নির্বাচনের প্রচারে তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, শাসকগোষ্ঠীর সন্ত্রাসী বাহিনী তত হিংস্র ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও ভয়ভীতিমুক্ত করতে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা