kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

খসড়া তালিকা প্রকাশ

দেশে ভোটার ১০ কোটি ৯৬ লাখ

নতুন ভোটার ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪১ জন

বিশেষ প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশে ভোটার ১০ কোটি ৯৬ লাখ

সারা দেশের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, দেশে বর্তমান ভোটার ১০ কোটি ৯৬ লাখ ছয় হাজার ১৮৭ জন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশে নতুন ভোটার বেড়েছে ৫৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০৫ জন। তালিকায় নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪১ জন। অন্যদিকে দ্বৈত ভোটার ও মৃত্যুজনিত কারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ১৩ লাখ ৯২ হাজার ২৩৬ জনকে।

গতকাল সোমবার বিকেলে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ  করেন। এ তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

মোখলেসুর রহমান বলেন, গত বছর ভোটার সম্পর্কিত চার বছরের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০২ সালের ১ জানুয়ারির আগে যাদের জন্ম, তাদের এবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরের দুই বছরের তথ্য আগাম সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। তাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

খসড়া তালিকা নিয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগিডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহের পর দেশে বর্তমানে ভোটারসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৯৬ লাখ ছয় হাজার ১৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ পাঁচ কোটি ৫৩  লাখ ২৫ হাজার ২৯২ জন, নারী পাঁচ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার ৫৪২ জন এবং হিজড়া ৩৫৩ জন। এই খসড়া তালিকা ইউনিয়ন পরিষদ, থানা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব স্থানে প্রদর্শন করে রাখা হবে। এতে কোনো ভুল থাকলে বা কেউ যুক্ত হতে চাইলে বা কোনো সংশোধন করার থাকলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।  আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার)। এরপর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে ১ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।’

সাইদুল ইসলামের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিল ১০ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার ৮২ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিল পাঁচ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৯ জন এবং নারী ভোটার পাঁচ কোটি ১৬ লাখ ৬৭ হাজার ১১৩ জন। এই হালনাগাদে যোগ হয়েছে ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪১ জন নতুন ভোটার। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ১৬৩ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩৫৩ জন।

প্রথমবার হিজড়া ভোটার : এবার প্রথমবারের মতো হিজড়া ভোটারের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে সরকার বেশ কয়েক বছর আগে হিড়জাদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দিলেও ভোটার তালিকায় তারা তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়া হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পায়নি। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা বিধিমালায় জটিলতার কারণেই হিজড়াদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে বিধিমালা সংশোধনের পর এবারই প্রথম তাদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হলো। ভোটার তালিকা খসড়া প্রকাশের সময় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং অফিসাররা ছাড়াও ইসির ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভোটার তালিকা সংশোধন আইন উঠল সংসদে : এদিকে গতকাল সংসদ অধিবেশনে ভোটার তালিকা সংশোধন আইন উত্থাপন করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি উত্থাপন করেন। এর আগে বিকেল সোয়া ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। ‘ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল, ২০২০’ উত্থাপনের পর পরীক্ষা সাপেক্ষে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সেটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। 

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে প্রতিবছর ২ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে হালনাগাদ করার বিধান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ডাটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত করে সারা দেশে সিডি আকারে প্রস্তুত করা অনেক কষ্টসাধ্য। এ জন্য সময় বাড়ানো প্রয়োজন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২ মার্চ ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিলে ভোটার দিবসের সঙ্গে মিল রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ‘২ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চ’ করা হয়েছে। বিলটি পাস হলে হালনাগাদের সময় ৩০ দিন থেকে বেড়ে ৬০ দিন হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা