kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

অক্সফামের প্রতিবেদন

২১৫৩ ধনীর হাতে ৪৬০ কোটি দরিদ্র মানুষের চেয়ে বেশি সম্পদ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২১৫৩ ধনীর হাতে ৪৬০ কোটি দরিদ্র মানুষের চেয়ে বেশি সম্পদ

বিশ্বের দরিদ্রতম ৪৬০ কোটি মানুষের মোট সম্পদের চেয়েও বেশি সম্পদ রয়েছে মাত্র দুই হাজার ১৫৩ জন শীর্ষ ধনীর হাতে। দরিদ্রতম এ মানুষগুলো দুনিয়ার মোট জনগোষ্ঠীর ৬০ শতাংশ। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনকে সামনে রেখে গতকাল সোমবার ‘টাইম টু কেয়ার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক দাতব্য ফেডারেশন অক্সফাম।

সংস্থাটির মতে, এ বৈশ্বিক অসাম্য খুব মারাত্মকভাবে শিকড় গেড়েছে এবং মাত্র এক দশকেই বিলিয়নেয়ারের (শত কোটি ডলারের মালিক) সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এ বিষয়ে অক্সফাম কনফেডারেশনের চলতি বছরের প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে দাভোসে থাকা অক্সফাম ইন্ডিয়ার সিইও অমিতাভ বেহার বলেন, সুচিন্তিত বৈষম্যনাশী নীতি ছাড়া ধনী-দরিদ্রের এ পার্থক্য ঘুচবে না। আর খুবই কম সরকার আছে, যারা এমনটা করতে চায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমাদের বিশ্ব অর্থনীতিই বৈষম্য সংকটকে জিইয়ে রেখেছে। আর এ বৈষম্যের ভয়াবহতা দেখা যায় নারীর শ্রমের মজুরির বেলায়।’

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বের শীর্ষ ২২ ব্যক্তির হাতে যে সম্পদ রয়েছে, তা আফ্রিকা মহাদেশের সব নারীর সম্পদের চেয়েও বেশি। এতে আরো বলা হয়, প্রতিদিন বিশ্বের নারী ও তরুণীরা এক হাজার ২৫০ কোটি ঘণ্টা মজুরিবিহীন সেবাশ্রম দেন। প্রতিবছর বিশ্ব অর্থনীতিতে এ সেবাশ্রমের অবদানের পরিমাণ ১০ লাখ ৮০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। এ অবদান বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পের অর্থনীতির আকারের তুলনায় তিন গুণের বেশি।

প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে অক্সফাম ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী আমিতাভ বেহার বলেন, ‘আমাদের আজকের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে নারী ও তরুণীরা খুব সামান্যই উপকৃত হচ্ছেন। তাঁরা শত শত কোটি কর্মঘণ্টা রান্না, ধোয়ামোছা, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সেবায় ব্যয় করছেন। এ মজুরিবিহীন সেবাশ্রমই আমাদের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সামাজিক অগ্রগতির চাকার ‘প্রচ্ছন্ন ইঞ্জিন’ হিসেবে কাজ করছে। নারীরাই এ ইঞ্জিনকে চালিয়ে যাচ্ছেন, যাঁরা খুব সামান্যই শিক্ষা, মর্যাদাপূর্ণ জীবন অর্জনের সময় পান। আর সমাজ কিভাবে চলছে, তা বলার সুযোগও তাঁরা সামান্যই পান। অথচ তাঁরাই অর্থনীতির তলানির ফাঁদেই আটকে পড়েন।’

অক্সফাম কর্মকর্তা বেহার বিশ্ব অর্থনীতির বৈষম্যহীনতার মাত্রা বোঝাতে ভারতের বুচু দেবী নামের এক নারীর উদাহরণ তুলে ধরেন গণমাধ্যমের সামনে। তিনি বলেন, বুচু দেবী প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা কাজ করেন। তিনি হেঁটে তিন কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনেন, এরপর রান্না করেন, ছেলে-মেয়ের স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করেন এবং নিম্ন মজুরির একটি কাজ করেন। অন্যদিকে আপনি দেখবেন, দাভোসে জমায়েত হওয়া ধুনকুবেররা তাঁদের ব্যক্তিগত বিমান, ব্যক্তিগত জেট ও অতি সমৃদ্ধ জীবনধারা নিয়ে আছেন।’

‘এ বুচু দেবী শুধু একজনই নন। আমি প্রতিদিন ভারতে এমন নারীদের দেখি এবং বিশ্বজুড়েই একই গল্প। আমাদের এটি পরিবর্তন করা দরকার এবং নিশ্চিতভাবে এ বিলিয়নেয়ারদের বিস্ফোরণের ইতি ঘটাতে হবে।’

তাহলে এর প্রতিকার কী? বেহার বলেন, এর প্রতিকারের জন্য সরকারগুলোকে ধনীদের কর দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এ করের টাকা পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নত মানের স্কুলের মতো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে ব্যয় করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি বিশ্বের দিকে তাকান, দেখতে পাবেন ৩০টির বেশি দেশে প্রতিবাদ হচ্ছে। লোকজন রাস্তায় নেমেছে; কিন্তু তারা কী বলছে? তারা এ বৈষম্যকে মেনে নেবে না। তারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে আর জীবন যাপন করতে চায় না।’

ক্রেডিট সুইস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গ্লোবাল ওয়েলথ ডাটাবুক ২০১৯ এবং ফোর্বসের ২০১৯ বিলিয়নেয়ার তালিকাসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে অক্সফাম এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এতে দেখা দেখা গেছে যে বিশ্বের সরকারগুলো ব্যাপকভাবে ধনী ব্যক্তি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্প কর হারের আওয়াতায় রেখেছে এবং তাদের কাছ থেকে উপযুক্ত রাজস্ব আহরণ করতে পারছে না, যা দারিদ্র্য ও অসাম্য প্রতিরোধ করতে সহায়তা করতে পারে। বিপরীতে নারী ও তরুণীদের কাজের চাপ কমাতে সরকারগুলো খুব সামান্যই সরকারি সেবা অবকাঠামো তৈরিতে ব্যয় করছে।

এ প্রসঙ্গে বেহার বলেন, সরকারগুলো এই বৈষ্যম সৃষ্টি করেছে। তাদেরই তা দূর করতে হবে। সূত্র : অক্সফাম ওয়েবসাইট ও ডেইলি মেইল (ইউকে)।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা