kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১

১৬৪ কাউন্সিলর প্রার্থী মামলার আসামি

আশরাফ-উল-আলম লায়েকুজ্জামান ও জহিরুল ইসলাম   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



১৬৪ কাউন্সিলর প্রার্থী মামলার আসামি

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অনেক কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, দুর্নীতি, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে গুরুতর অভিযোগে মামলা রয়েছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়া বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সমর্থন পাওয়া অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলমান। প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হলফনামায় মামলার বিবরণী ঘরে ‘প্রযোজ্য নয়’ শব্দ ব্যবহার করে অনেক প্রার্থী মামলার তথ্য গোপন করেছেন। সর্বাধিক মামলা রয়েছে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। এসব মামলার মধ্যে বেশির ভাগ রাজনৈতিক মামলা বলে দাবি করা হলেও বিএনপির একাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, হত্যাসহ নারী নির্যাতনের মামলাও রয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতে সাধারণ কাউন্সিলর পদে মোট ৫৮৬ প্রার্থীর মধ্যে ১৬৪ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির সমর্থন পাওয়া প্রার্থী যেমন রয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।

হলফনামার তথ্যানুসারে বিএনপি সমর্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ৪৮ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ৭০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে ডিএনসিসিতে আওয়ামী লীগ ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন ও ডিএসসিসিতে ৯ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ডিএনসিসিতে ১৩ জন এবং ডিএসসিসিতে ১৫ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

ডিএনসিসির ৪ নম্বর ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাব্বির রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে ৩৬টি। মামলার তথ্য গোপনের প্রমাণও মিলেছে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে। ডিএনসিসির ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করছেন সালাউদ্দিন রবিন। মামলাসংক্রান্ত কোনো তথ্য তিনি হলফনামায় দেননি। তাঁর বিরুদ্ধে মাহাবুবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ১৬ লাখ টাকার প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। সালাউদ্দিন রবিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি আদালতে টাকা জমা দিয়ে মামলা মীমাংসা করেছি।’ তবে তিনি হলফনামায় এসংক্রান্ত কোনো তথ্য দেননি। মামলাটি বর্তমানে চলমান। একইভাবে ডিএনসিসির ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আবু তাহেরের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা ছিল। তিনি খালাস পেয়েছেন। তিনিও হলফনামায় বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

ডিএনসিসি ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৬৩টি মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলো বিচারাধীন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থীর হলফনামায় দেখা যায়, অতীতে তাঁদের নামে মামলা ছিল। তবে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়।

ডিএসসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাসুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দুটি। মারধর করে গুরুতর জখম করার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। ২০১৮ সালে খিলগাঁও থানায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তাধীন।

ডিএসসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. সামছুল হুদার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ২৭টি। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা।

ডিএসসিসির ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হারুনর রশীদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখম করার অভিযোগে একটি মামলা বিচারাধীন। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা দ্রুত বিচার আইনে শাহবাগ থানায় একটি মামলা রয়েছে। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী খাজা হাবিবুল্লার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা ও একটি মাদক আইনের মামলাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে একটি, হত্যা মামলা একটি এবং হত্যাচেষ্টার আরেকটি মামলাসহ ৩৬টি মামলা রয়েছে। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মীর আশরাফ আলী আজমের বিরুদ্ধে চকবাজার ও লালবাগ থানায় দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা, খিলক্ষেত থানায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর একটি এবং ভূমি দখলের একটি মামলা রয়েছে। লালবাগ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাও ছিল। মামলাটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।

ডিএসসিসির ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি মামলা, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. মাসুদের বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি ও ডেমরা থানায় দুটি ডাকাতির মামলা, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি ভয়ভীতি দেখানোর মামলা বিচারাধীন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অস্ত্র মামলা এবং ২০০১ সালে করা আরেকটি ডাকাতি মামলা ছিল। এই তিন মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধে গুরুতর জখমসহ হত্যাচেষ্টার একটি মামলা রয়েছে। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শেখ মোহাম্মদ আলমগীরের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানো এবং হত্যাচেষ্টার দুটি মামলা রয়েছে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আবদুল বাসিত খানের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে। যা হাইকোর্টের নির্দেশে বর্তমানে স্থগিত।

ডিএনসিসির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ফরিদুর রহমান খান ইরানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টার মামলা ছিল। ওই মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একটি, চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার আরেকটি মামলা রয়েছে। ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর জখম করার অপরাধে একটি, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, চুরি ও মারধরের অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার একটি মামলা রয়েছে। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি, চাঁদাবাজির একটি এবং হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলা রয়েছে। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সলিম উল্লাহ সলুর বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা, দুটি অস্ত্র, দুটি চাঁদাবাজি, একটি মাদক এবং দুটি দুর্নীতির মামলা ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে করা ১০টি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ফোরকান হোসেনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন।

আওয়ামী লীগের ১৮ প্রার্থী : ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও দলের বিদ্রোহী ১৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাঁরা হলেন ডিএনসিসির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ফোরকান হোসেন, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আবুল কাশেম, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের শফিকুল ইসলাম, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীর আলম, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের শফিকুল ইসলাম শফিক, ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল হোসেন বেনু, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদুর রহমান খান ইরান, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সোহেল শেখ, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল হাসেম।

ডিএসসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আবুল বাসিত খান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোমিনুল হক সাঈদ, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শেখ মো. আলমগীর, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ময়নুল হক মঞ্জু, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সরোয়ার হোসেন আলো, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের মশিউর রহমান, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মাসুদ, ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলম ও ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের খাইরুজ্জামান।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা