kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

ঐতিহ্য ভেঙে পেছাল বইমেলা

পেছাল জাতীয় কবিতা উৎসবের উদ্বোধনও

বিশেষ প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঐতিহ্য ভেঙে পেছাল বইমেলা

মহান ভাষা সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখে মাসব্যাপী ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ শুরুর যে রীতি প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল ধরে চলে আসছে, এবার তার ব্যত্যয় ঘটল। ঐতিহ্য ভেঙে বইমেলা এবার ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে শুরু হবে ২ ফেব্রুয়ারি।

সরস্বতী পূজার কারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ৩০ জানুয়ারি থেকে পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারিতে নেওয়ায় বইমেলার উদ্বোধনও এক দিন পেছানো হলো। এ নিয়ে লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের খেসারত এখন সবাইকে দিতে হচ্ছে। কেবল বইমেলা নয়, পিছিয়ে যাচ্ছে জাতীয় কবিতা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও।

বইমেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী গতকাল রবিবার বইমেলার তারিখ পেছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিটি নির্বাচন ১ ফেব্রুয়ারি নেওয়ার কারণে বইমেলার উদ্বোধন পেছাতে তাঁরা বাধ্য হয়েছেন। বইমেলার উদ্বোধনের জন্য যে ধরনের আইন-শৃঙ্খলার প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়, তা নির্বাচনের দিন সম্ভব নয়। তা ছাড়া নির্বাচনের দিন সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে, মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যাবে না, তাই বাস্তব কারণে বইমেলা উদ্বোধনে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঐতিহ্য অনুসারে ১ ফেব্রুয়ারি সরকার প্রধান বইমেলা উদ্বোধন করে থাকেন।

রাজধানীতে বইমেলার পাশাপাশি জাতীয় কবিতা উৎসব আয়োজনও দীর্ঘদিনের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া জাতীয় কবিতা পরিষদের দুই দিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব বিগত ৩৩ বছরের (ব্যতিক্রম একবার) ধারাবাহিকতায় ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সিটি নির্বাচনের কারণে এবার কবিতা উৎসবও এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত। কবিতা উৎসব এখন ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

বইমেলার উদ্বোধন পিছিয়ে দেওয়াকে ভালোভাবে দেখছেন না লেখক-প্রকাশকরা। নন্দিত কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের খেসারত এখন সবাইকে দিতে হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি বইমেলার শুরু এটা নতুন কিছু নয়; আবার লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষাও কয়েক বছর থেকে একই তারিখে শুরু হচ্ছে। এখন সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেল। নির্বাচনের তারিখ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল আচরণ করলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।’

সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও অনন্যার স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ভুলের খেসারত সবাইকে দিতে হচ্ছে। তারা শুরু থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে তারিখটি নির্ধারণ করলে এত কিছুর ওলটপালট করতে হতো না।’

প্রকাশক ওসমান গণি বলেন, ‘বইমেলা শেষ হওয়ার পর থেকেই মানুষ অপেক্ষায় থাকে আবার কখন পহেলা ফেব্রুয়ারি আসবে। এটা জাতীয় রুটিন ওয়ার্কের মতো হয়ে গেছে। কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম, এমনকি হরতাল-ধর্মঘটের মধ্যেও বইমেলার কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়েনি। এবার পিছিয়ে দেওয়াটা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। এটা যেহেতু পিছিয়ে দেওয়া হলো, তাই আমার দাবি থাকবে মুজিববর্ষ উপলক্ষে এটা তাহলে ১৭ মার্চ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হোক।’

জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পর্যায়ে জ্ঞানচর্চার বড় দুই অনুসঙ্গ বইমেলা ও জাতীয় কবিতা উৎসব পহেলা ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়—এটা আমাদের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা বছরই এর প্রস্তুতি চলে। সারা দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কবিরা আসেন আমাদের উৎসবে। এক দিন পিছিয়ে দেওয়ার কারণে বিদেশি অতিথিদের রাখার ব্যাপারে আমাদের বাড়তি বিড়ম্বনা পোহাতে হবে। এই বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।’

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় (এক মাস) ধরে চলা এই বইমেলা। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাস লিপিয়ার হওয়ার কারণে মেলা ২৯ দিন অনুষ্ঠানের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধন এক দিন পিছিয়ে যাওয়ার কারণে সময়সীমাও এক দিন কমে গেল। ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলা চলবে বাঙালির এই প্রাণের মেলা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা