kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বেপরোয়া বাস ঢাকায় কাড়ল চার প্রাণ

বিভিন্ন স্থানে সড়কে নিহত আরো ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বেপরোয়া বাস ঢাকায় কাড়ল চার প্রাণ

নির্দিষ্ট লেনে চলার বিধি ও গতিসীমা না মেনে ঢাকার সড়কে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন গাড়িচালকরা। ভারী ও বড় যানবাহনের সঙ্গে গতির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন মোটরবাইক ও অটোরিকশার চালকরাও। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উত্তরায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর প্রাণ গেছে অভি পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায়। আগের মধ্যরাতে যাত্রাবাড়ীতে অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেছে মামা-ভাগ্নের। জানা গেছে, বেপরোয়া গতিতে চালানো বাসের ওই চালকদের নিয়োগপত্র ছিল না। রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন স্থানে গতকাল সড়কে প্রাণ হারিয়েছে আটজন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার সামনে গতকাল দুপুর পৌনে ২টায় অভি পরিবহনের বেপরোয়া গতির বাসটি একটি চলন্ত মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে দুই আরোহী নিহত হন। নিহত লিটন (৩৫) ছিলেন গাজীপুরের বাসিন্দা। তাঁর পরিচয় শনাক্ত করেন এক আত্মীয়। নিহত অন্যজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ জানায়, উত্তরা পূর্ব থানার সামনের সড়কে ওই বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী ছিটকে পড়ে যান। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁদের দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। বাসের চালক সোহেলকে আটক এবং বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেটের সামনের সড়কে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বাসের ধাক্কায় মামা-ভাগ্নের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহত আনোয়ার হোসেন (৪০) ও তাঁর ভাগ্নে সালাউদ্দিন (২২) মতিঝিল এলাকায় জারের পানি সরবরাহের ব্যবসা করতেন। তাঁরা বসবাস করতেন সাদ্দাম মার্কেট এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দাম মার্কেটের সামনের সড়ক পার হওয়ার সময় অনাবিল পরিবহনের একটি বাস তাঁদের ধাক্কা দেয়। গুরুতর অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে শেষরাতে তাঁরা মারা যান। নিহত দুজনের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া সাংবাদিকদের জানান, আনোয়ার ও সালাউদ্দিনকে স্থানীয় লোকজন রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে কুড়িল যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় উঠার পর দেখা যায় চালক সানাউল্ল্যাহ রাস্তা একটু ফাঁকা পেলেই গাড়ি যেন উড়িয়ে নিতে চান। বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনকে পাশ কাটিয়ে ছুটে চলছিলেন তিনি। মাঝেমধ্যে এক হাত দিয়ে চোখ ঘষছিলেন। বেশির ভাগ সময়ই তাঁর অটোয় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার। বনানী পার হয়ে একপর্যায়ে অটো থামিয়ে চোখে-মুখে পানি দিয়ে ঘুমভাব কাটিয়ে আবার সামনে ছুটছিলেন সানাউল্ল্যাহ। চলতে চলতে তিনি জানালেন, ১০ বছর আগে রিকশা চালাতেন, তার পর থেকে অটোরিকশা চালাচ্ছেন। সানাউল্ল্যাহ বললেন, তাঁর কোনো নিয়োগপত্র নেই। ১৬ ঘণ্টা ধরে যাত্রী টানছেন।

ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ খোকন জানান, ঢাকা মহানগরীতে ১৫ হাজার অটোরিকশা চলাচল করে। এর মধ্যে আট হাজার অটোরিকশা ২৪ ঘণ্টাকে দুই ভাগ করে চলছে দুই শিফটে। বাকি সাত হাজার অটোরিকশা চালানো হচ্ছে এক শিফটে। সব মিলিয়ে অটোচালক আছেন ৩৫ হাজার। তিনি স্বীকার করেন, বেশির ভাগ চালকেরই প্রশিক্ষণ নেই। অনেক অটোতে গতিনির্ধারক যন্ত্রও নষ্ট হয়ে গেছে। মালিকের চাপে পড়ে বেশি ট্রিপ দিতে গিয়ে তাঁরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, নিয়োগপত্র থাকলে শ্রমঘণ্টা অনুসারে এসব চালককে মালিকরা খাটাতে পারেন। নিয়োগপত্র না দেওয়ায় মালিকরা চালকদের অতিরিক্ত সময়ে গাড়ি চালাতে বাধ্য করছেন।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকার সড়কে গতিসীমা মেনে গাড়ি না চালানোর বিষয়টি কমাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আরো জোরদার করা হবে।

এদিকে চট্টগ্রামের পটিয়া ও মিরসরাই, নরসিংদী, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে গতকাল আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার শান্তিরহাট এলাকায় গতকাল সকালে যাত্রীবাহী দুই বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও ১৫ যাত্রী আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুক (৪০), কক্সবাজারের বাসিন্দা জাহিদ হোসেন (৩৮) ও তাঁর স্ত্রী নিগার সুলতানা (৩৫)।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : মিরসরাইয়ে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মস্তাননগর এলাকায় গতকাল সকালে রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পারভীন আক্তার (৪২) নামের এক নারী নিহত হন। তিনি উপজেলার শাহেরখালী ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া এলাকার শহীদ মেম্বারবাড়ীর আবুল হাশেমের স্ত্রী। অন্যদিকে একই দিন সকালে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কে বালুবাহী পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান (২৫) নিহত হন। নোমান ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়নের আবদুল করিমের ছেলে।

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : কালীগঞ্জ-মল্লিকপুর সড়কের মস্তবাপুরে গতকাল দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আদনান (৩) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। আদনান মস্তবাপুর গ্রামের মিজানুর রহমান খানের ছেলে।

নরসিংদী : শিবপুরে বাসচাপায় উজ্জ্বল মিয়া (৩৫) নামের এক প্রাইভেট কারের চালক নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুরের চৈতন্যা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। উজ্জ্বল কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর এলাকার মফিজ উদ্দীনের ছেলে।

হাওরাঞ্চল : কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর শহরের পৈলনপুরে গতকাল বিকেলে প্রাইভেট কার চাপায় রাফি (৫) নামের একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা