kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

চট্টগ্রাম বন্দরের পুরো জলসীমা দস্যুতামুক্ত

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম বন্দরের পুরো জলসীমা দস্যুতামুক্ত

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় আসা বাণিজ্যিক জাহাজে চুরি-দস্যুতার ঘটনা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বিগত বছরে এই জলসীমায় ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। অথচ এর আগের বছর ২০১৮ সালেও এ ধরনের ৯টি ঘটনা ঘটে। দস্যুতার ঘটনা শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

বাণিজ্যিক জাহাজে সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরি প্রতিরোধে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংগঠন রিক্যাপ ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে। গত ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বন্দরে দস্যুতার ঘটনা কমে আসার সাফল্যে বাংলাদেশের প্রশংসা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর শফিউল বারি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চুরি-দস্যুতার ঘটনা রেকর্ডে নতুন কৌশল নেওয়ায় এই সফলতা এসেছে। আগে দেশের বাইরে অবস্থানকালে কোনো জাহাজে চুরি-দস্যুতা ঘটার পর জাহাজ কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় পৌঁছে অভিযোগ করত। ফলে দোষটা আমাদের ওপর পড়ত। নতুন নিয়মে যেকোনো বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে চুরির ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ প্রমাণসহ তা আমাদের অবহিত করতে হবে। এরপর কোস্ট গার্ড তাত্ক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়ার পরই সেই অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। আইএসপিএস (ইন্টারন্যাশনাল পোর্ট অ্যান্ড শিপিং ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি) কমপ্লায়েন্স অনুযায়ী এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কেউ মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার সুযোগ পাচ্ছে না। এই সাফল্য আমরা ধরে রাখতে চাই।’

রিক্যাপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় বিগত ১২ বছরের মধ্যে ২০১৯ সালেই কেবল দস্যুতার ঘটনা শূন্যে নেমেছে। এর আগে ২০১০ সালে সর্বোচ্চ ২১টি, ২০১১ সালে ১৪টি, ২০১২ সালে ১২টি, ২০১৫ সালে ১০টি, ২০১৬ সালে একটি, ২০১৭ সালে ১১টি এবং ২০১৮ সালে ৯টি দস্যুতা-চুরির ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদন মতে, ২০১৯ সালে এশিয়াজুড়ে বিভিন্ন দেশের জলসীমায় ৮২টি ঘটনা রেকর্ড করেছে রিক্যাপ। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর সবচেয়ে বেশি ৩১টি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে সিঙ্গাপুর-মালাক্কা প্রণালিতে। ইন্দোনেশিয়ায় ঘটেছে ২৩টি; যদিও আগের বছরের তুলনায় কমেছে। প্রতিবেদন মতে, ভারতে দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে পাঁচটি, যা ২০১৮ সালের চেয়ে বেশি। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় আটটি, ফিলিপাইনে ছয়টি ও ভিয়েতনামে দুটি ঘটনা ঘটেছে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের বহির্নোঙর ও জলসীমায় আসা জাহাজে চুরি-দস্যুতা-ডাকাতির ঘটনা বাড়লে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পণ্য পরিবহনে বাড়তি জাহাজ ভাড়া আরোপ করে বিদেশি জাহাজ মালিক ও শিপিং লাইনগুলো; এতে বিপাকে পড়তে হয় দেশীয় আমদানি-রপ্তানিকারকদের। আর বাংলাদেশমুখী রুটে জাহাজ ভাড়া দিতে চায় না বিদেশি জাহাজ মালিকরা। ১২ বছরের মধ্যে এই প্রথম উদ্বেগ কাটিয়ে স্বস্তিতে আছে বন্দর ব্যবহারকারীরা।

বিদেশি শিপিং লাইন গ্যালাক্সি বাংলাদেশের (জিবিএক্স) হেড অব অপারেশনস মুনতাসির রুবাইয়াত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ব প্রেক্ষিত চিন্তা করলে বাংলাদেশ জলসীমায় জাহাজে যেসব ঘটনা ঘটত সেগুলো একেবারেই নগণ্য। এমন ছোট্ট ঘটনায়ও আমাদের বিপাকে পড়তে হতো। বন্দর, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সমন্বিত প্রয়াসে এখন ছোট্ট চুরির ঘটনায়ও তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এতে নিরাপদ বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল হবে সন্দেহ নেই।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষ দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা সাড়ে সাত নটিক্যাল মাইল থেকে বেড়ে ৫০ নটিক্যাল মাইলে উন্নীত হয়েছে। বহির্নোঙরে সাগরের সীমানা সীতাকুণ্ড থেকে বেড়ে মহেশখালীর মাতারবাড়ী, কুতুবদিয়া হয়ে সোনাদিয়া পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে পুরো জলসীমা চুরি-দস্যুতামুক্ত রাখা বন্দরের জন্য এখন নতুন চ্যালেঞ্জ।

এসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, ‘বন্দরের বাড়তি জলসীমাকেও কঠোর তদারকির মধ্যে আনতে জরিপ চলছে। স্টাডি শেষ হওয়ার আগে সাময়িকভাবে আমরা মাতারবাড়ীতে একটি রিসিভার বসিয়ে ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (ভিটিএমআইএস) সঙ্গে সংযুক্ত করছি। তাতে বন্দর ভবন থেকেই ক্যামেরার সাহায্যে সব জাহাজের গতিবিধি প্রত্যক্ষ করা যাবে। এ ছাড়া একটি টিমও তদারকির জন্য আমরা সেখানে পাঠাচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা