kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

পুঁজিবাজার উন্নয়নে ছয় নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুঁজিবাজার উন্নয়নে ছয় নির্দেশনা

পুঁজিবাজার উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাজার গতিশীল করতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। স্বল্প সময়ে বাস্তবায়ন করা যায় এমন ছয়টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কিছু পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নীতিনির্ধারণী ওই সভায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বিএসইসির পক্ষ থেকে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুঁজিবাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নীতিনির্ধারণী সভায় বাজার গতিশীল এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা হয়। পুঁজিবাজার গতিশীল করতে স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়ন করা যায় এমন ছয়টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পদক্ষেপগুলো হলো—পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মার্চেন্ট ব্যাংকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করা, রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের-আইসিবি বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা ও দেশীয় বাজারে আস্থা সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ এবং পুঁজিবাজারে মানসম্পন্ন আইপিও বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুজাতিক ও সরকারি মালিকানাধীন লাভজনক কম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণ। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়।

সভা সূত্রে জানা যায়, বাজারের বর্তমান বেগতিক অবস্থা থেকে উত্তরণে স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে উন্নয়নে ভালো কম্পানির আইপিও আনা, সরকারি ও বহুজাতিক কম্পানিকে তালিকাভুক্তকরণ, সর্বোপরি বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরাতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্রমান্বয়ে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

বিগত ২০১৯ সালজুড়ে আশা-নিরাশার মধ্য দিয়ে কেটেছে পুঁজিবাজার। বছরজুড়ে মন্দাবস্থার কারণে বাজারে সক্রিয় হতে পারেনি বিনিয়োগকারীরা। চলতি বছর পুঁজিবাজারে পতনের মাত্রা বাড়লে সংকট বাড়ে। অব্যাহত শেয়ার বিক্রির চাপে গত সোম ও মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটে। সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

গত দুদিন পুঁজিবাজারের মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী। মূলত শেয়ার কেনার পরিমাণ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাড়ায় মূল্যসূচকে উত্থান ঘটেছে। কিন্তু লেনদেনের ক্ষেত্রে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বরং ২০০ কোটি টাকার ঘরেই ঘুরপাক খাচ্ছে পুঁজিবাজার। সংকট উত্তরণে সব মহলের নানা চেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল পুঁজিবাজারে বড় উত্থান ঘটেছে। মূল্যসূচকে উত্থানের পাশাপাশি এক দিনেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে চার হাজার ৮১১ কোটি টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা