kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

ক্যাম্পের মাদক ছড়িয়ে গেছে গোটা মোহাম্মদপুরে

এস এম আজাদ   

১৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্যাম্পের মাদক ছড়িয়ে গেছে গোটা মোহাম্মদপুরে

মোহাম্মদপুরের মাদক স্পটগুলোতে এখনো নতুন ও পুরনো বিক্রেতাদের সহযোগীদের গোপন কারবার চলছে।

গত রবিবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর অন্যতম মাদক স্পট জেনেভা ক্যাম্প ও বাঁশবাড়ী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও বেচাবিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।

বাঁশবাড়ী এলাকার এক কারবারি বলছিলেন, বস্তির মাদক কারবারের হোতা মনিরা বেগম মনিসহ কয়েকজন পালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন আবার ফিরেছেন। তাঁরা গোপনে কারবার শুরু করেছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে ভাসমান বিক্রেতা।

জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় জটলা করে দাঁড়ানো তিন তরুণকে ইয়াবা কারবারি হিসেবে শনাক্ত করে স্থানীয় একটি সূত্র। সূত্র মতে, তারা মাদক বিক্রেতা আসলামের ‘সেলসম্যান’। আসলাম ক্যাম্পের বাইরে থেকে ইয়াবা সরবরাহ করেন। তাঁর সহযোগীরা জহুরী মহল্লা ও ক্যাম্পের এক পাশে গোপনে ইয়াবা বিক্রি করে।

ক্যাম্পের দুই বাসিন্দা বলছিলেন, অভিযানের কারণে মাদক কারবার কমলেও বন্ধ হয়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে অনেকে এসে নিয়ে যাচ্ছে। কারবারিদের অনেকেই এসব এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছেন। কেউ কেউ মোহাম্মদপুরের বাইরে থেকেও এ এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করে। ‘চায়না দারোগা’ ছদ্মনামে মোহাম্মদপুর থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) অভিযানের নামে মাদক কারবারিদের ‘ধরা-ছাড়ার’ বাণিজ্য করেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয় লোকজন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে মোহাম্মদপুর থানা এলাকা। গত বছরের ১০ অক্টোবর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। জেনেভা ক্যাম্পে মাদক কারবারিদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ১৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয় ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি ছাড়াও মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে তাঁর নামেও।

মোহাম্মদপুরের ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দারের প্রধান সমস্যা মাদক। রাজধানীর সবচেয়ে বড় মাদক স্পট জেনেভা ক্যাম্প এবং সাবেক কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে এবার সিটি নির্বাচনেও মাদক নির্মূল বড় বিষয় হয়ে সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে, জেনেভা ক্যাম্পে মাদকের সবচেয়ে বড় কারবারি ইশতিয়াক সাভারের আমিনবাজারে থেকে কারবার করছিলেন। অভিযান শুরু হলে স্ত্রী পাখি বেগমকে নিয়ে গাঢাকা দেন তিনি। সব সংস্থার তালিকায় থাকা জেনেভা ক্যাম্পের ৮২ জনের মধ্যে ইশতিয়াক ওরফে কামরুল শীর্ষ কারবারি। এর পরই নাম থাকা নাদিম ওরফে পচিশ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। অন্যতম ইয়াবা কারবারি ফারজানা আক্তার পাপিয়া ও তাঁর স্বামী জয়নাল আবেদীন পাচুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অবশ্য র‌্যাবের দুই দফায় ব্লক রেইড ও পুলিশের অভিযানে তিন শতাধিক আটক হলেও শীর্ষস্থানীয় কারবারিদের কেউ ছিলেন না।

সূত্রগুলো বলছে, মাছুয়া সাইদ, সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম ওরফে ভাইয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ আছে। অভিযানের আগেই ক্যাম্পে খবর পৌঁছে যেত। তাই বড় কারবারিরা আগেই সটকে পড়েন। এখন ক্যাম্পের ভেতরে মাদকদ্রব্য রেখে বিক্রি করার প্রবণতা কমে গেছে। কিছু কারবারি টাউন হল, আজিজ মহল্লা, জহুরী মহল্লা, পাকা ক্যাম্প ও মার্কেট ক্যাম্প এলাকায় আস্তানা গেড়েছেন। এ ছাড়া সেলিম, আব্বাস, মোল্লা আরশাদসহ অর্ধশতাধিক সহযোগীদের মাধ্যমে কারবার করছেন। তাঁদের কয়েকজন গ্রেপ্তারের পর জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।

৩২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী দলের ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বাসার কাছেই জেনেভা ক্যাম্প। আমি ২০১৬ সালেই এখানে মাদক কারবার বন্ধ করার জন্য নানা তৎপরতা শুরু করি। এখন বলা হয় ৮০ শতাংশ ভালো হয়েছে। এবার কাউন্সিলর হতে পারলে যতটুকু আছে তা চিরতরে দূর করব ইনশাআল্লাহ।’

একই ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম মতিন বলেন, ‘আমি সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার আছি। যেই করুক তার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আসিফ আহমেদ বলেন, ‘মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এখন সচেতন নাগরিকরা।

তাদের নিয়ে মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ে তোলা হবে।’

জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘মাদক কারবারিদের ধরতে আমাদের নজরদারি আছে। জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় টহল টিম থাকে। খবর পেলেই ধরা হয়। কাউকে ধরতে পারলে কোনো ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মোহাম্মদপুর সার্কেলের পরিদর্শক সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘জেনেভা ক্যাম্পে গোপনে মাদক কারবার চলছে—এ খবর আমরাও পাই। তবে স্পটে ধরা যায় না। অনেক কারবারি বাসা ভাড়া নিয়ে করছে। তাদের ধরতে নজরদারি শুরু হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা