kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন

২৯টি ওয়ার্ডে তুমুল বিদ্রোহ আ. লীগে

তালিকায় আছেন এমপিপুত্রও

লায়েকুজ্জামান   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



২৯টি ওয়ার্ডে তুমুল বিদ্রোহ আ. লীগে

শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব কাটিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন জমে উঠেছে। দক্ষিণের ৭৫টি ওয়ার্ডে রিটার্নিং অফিসারের কাছে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন দলের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন অনেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কেউ প্রত্যাহার করেছেন দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে, কেউ বা দলীয় পদ খোয়ানোর ভয়ে। তবে নির্বাচনী মাঠে এঁদের নিয়ে রয়েছে ভিন্ন আলোচনা। চাউর আছে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলেও তাঁরা নিজস্ব সমর্থক বলয় নিয়ে নীরব আছেন। কেউ কেউ কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর বদলে দলীয় মেয়র প্রার্থীর ভোট চেয়ে দায় সারছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রত্যাহারের পরও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তত ২৯টি ওয়ার্ডে নির্বাচনী যুদ্ধে লড়ছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা।

এর মধ্যে কোনো কোনো ওয়ার্ডে রয়েছেন একাধিক বিদ্রোহী। বিদ্রোহী প্রার্থীরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত, সন্ত্রাসীদের দলীয় সমর্থন দেওয়া, দলের পদ-পদবিধারী বড় নেতাদের কাছে আত্মীয়দের সমর্থন দেওয়া, জনবিচ্ছিন্ন এবং স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সন্তানদের সমর্থন দেওয়ার কারণে তাঁদের বিদ্রোহী হতে হয়েছে। বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন সংসদ সদস্যের ছেলেও।

দক্ষিণে ১১ জন কাউন্সিলর দলীয় সমর্থন পাননি। তাঁদের মধ্যে সাতজন বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন। এঁরা হচ্ছেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান মিয়া, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে মুন্সী কামরুজ্জামান, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে তারিকুল ইসলাম সজীব, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে বিল্লাল শাহ, ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে দেলোয়ার হোসেন খান, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে ময়নুল হক মঞ্জু এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন ক্যাসিনো ঘটনায় আলোচিত-সমালোচিত যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত, ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড় দলে অনেকেরই অনেক প্রত্যাশা থাকে। সে কারণে বিদ্রোহ করে। তবে আওয়ামী লীগ আদর্শভিত্তিক সংগঠন। এখানে বিদ্রোহীদের স্থান হবে না। বিদ্রোহ করলে দল থেকে বিতাড়িত হতে হবে।’

৩০ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয় মো. হাসানকে। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম। এক সময়ে হাজি সেলিম ওই ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন। এলাকায় তাঁদের ব্যাপক প্রভাব। দলীয় প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে টিকে থাকতে পারবেন কি না—এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে ভোটারদের মধ্যে। ২ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন বিতর্কিত কাউন্সিলর আনিসুর রহমান। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী ঘরানার জহিরুল ইসলাম ভুঁইয়া। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করছেন দলীয় সমর্থনবঞ্চিত কাউন্সিলর সুলতান মিয়া।

৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন মোজাম্মেল হক। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর ও বিতর্কিত সাবেক যুবলীগ নেতা মোমিনুল হক সাঈদ এবং তাঁর স্ত্রী ফারহানা আহমেদ বৈশাখী। দুদকের অভিযোগে সাঈদের প্রার্থিতা আটকে গেলে নির্বাচন করবেন তাঁর স্ত্রী বৈশাখী। দলীয় প্রার্থীকে তাঁরা কোনোভাবেই ছাড় দেবেন না। ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন গোলাম আশরাফ তালুকদার। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগের দুই জাঁদরেল বিদ্রোহী। সাবেক ছাত্রনেতা খম মামুনুর রশিদ শুভ্র ও সেকেন্দার আলী। আওয়ামী লীগ প্রথমে সমর্থন দিয়েছিল শুভ্রকে, পরে পরিবর্তন করা হয়।

১৭ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন মাহাবুবুর রহমান। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হয়েছেন নুরুল আমিন। ২২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দুই জাঁদরেল প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন। দলীয় সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর তারিকুল ইসলাম সজীব আর দলীয় সমর্থন পেয়েছেন জিন্নাত আলী। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মকবুল হোসেন। ওই ওয়ার্ডে নির্বাচন করছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আলাউদ্দিন। কাউন্সিলর নির্বাচন করার প্রস্তুতি হিসেবে আরো চার বছর আগে থেকে এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন তিনি। ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের বড় অংশ তাঁর পক্ষে।

২৪ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছে মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদকে। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগের আরেক শক্ত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন মিয়া। এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে তাঁর। ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছে সালেহীনকে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্বাধীনতার সময় ভিন্ন রাজনীতি করতেন। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হিসেবে দাপটের সঙ্গে নির্বাচন করছেন কামালউদ্দিন কাবুল। এলাকার বেশির ভাগ কর্মী তাঁর পক্ষে কাজ করছেন। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হয়েছেন জাভেদ হাসান তম। ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন আবদুল মান্নান। বিদ্রোহী হয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর বিল্লাল শাহ।

৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন আবুল কালাম। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ফজলুল হক। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন আবদুর রহমান মিয়াজী, বিদ্রোহী হয়েছেন শাহাবুদ্দিন জনি। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন দুজন, আনোয়ার হোসেন অনু ও মশিউর রহমান খান। ওই ওয়ার্ডে সমর্থন দেওয়া হয়েছে নিজাম উদ্দিনকে। ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হয়েছেন তিনজন। মশিউর রহমান, রুহুল আমিন ও শাহ উল্লাহ। এই ওয়ার্ডে সমর্থন দেওয়া হয়েছে মো. নাছিমকে। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছে মাসুম মোল্লা। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হয়েছেন কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন।

৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন সাইদুল ইসলাম। বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন মোশাররফ হোসেন সরকার। ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে সমর্থন পেয়েছেন মোহাম্মাদ হোসেন। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান রতন। ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে সমর্থন পেয়েছেন ফিরোজ আলম। ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হয়েছেন দুজন ইউনুছ মিয়া বাহার ও মাহমুদুল হাসান সোহাগ। ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পাননি সারুলিয়া ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, সারুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম। তিনি বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করছেন। ওই ওয়ার্ডে সমর্থন দেওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে আসা মাহমুদুল হাসান পলিনকে। ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছে বিতর্কিত হাবিবুর রহমান হাসুকে। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হয়েছেন যুবলীগ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা