kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

গাজীপুরে ফ্যান কারখানায় আগুনে ১০ শ্রমিক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাজীপুরে ফ্যান কারখানায় আগুনে ১০ শ্রমিক নিহত

গাজীপুরে লাক্সারি ফ্যান তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুনে ১০ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দগ্ধ হয়েছেন আরো দুজন। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের কেশরিতা এলাকার কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনা তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। 

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্র জানায়, প্রত্যন্ত গ্রামের একটি দোতলা বাড়িতে চার বছর আগে গড়ে ওঠা কারখানাটির ছাদের ওপর টিন দিয়ে আরো একটি তলা তৈরি করা হয়েছিল। ওই টিনশেডের সিঁড়িতেই আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটিতে ৭০ জনের মতো শ্রমিক কাজ করছিলেন।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন রংপুর সদরের কাছু বকুলতলা গ্রামের তাজেল মিয়ার ছেলে ফরিদুল ইসলাম (১৮), গাজীপুর সদরের বাড়িয়া ইউনিয়নের কেশরিতা গ্রামের খলিলুর রহমান (২২), একই এলাকার বীরবলের ছেলে উত্তম (২৫), একই জেলার শ্রীপুর উপজেলার মারতা গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে রাশেদ (২৫) ও নজরুল ইসলামের ছেলে শামীম (২৬)। দগ্ধ দুজন হলেন কেশরিতা গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও জামুনা গ্রামের মো. হাসান।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক লাশ দাফন ও পরিবহনের জন্য নিহত প্রতিজনের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

কারখানার শ্রমিক হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, কারখানাটির প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় তিনিসহ অন্তত ৬০-৭০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ওপরের তলার টিনশেডের সিঁড়িতে আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পেয়ে নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার সবাই বাইরে বের হয়ে যান। ওপরের টিনশেডে ১৯ জন কাজ করছিলেন। তাঁদের অনেকে ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেন, অনেকে দৌড়ে বা লাফিয়ে নিচে পড়েন। দ্রুতই আগুন পুরো টিনশেডে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে তাঁর ফুফাতো ভাই ফরিদুল ইসলামও মারা গেছেন বলে জানান হাবিবুর।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ জানান, খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। পরে ভেতরে ঢুকে তৃতীয় তলা থেকে ১০ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত মনে করা হলেও তদন্তে আগুনের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভাষণ দাস জানান, দগ্ধ আনোয়ার ও হাসান আশঙ্কামুক্ত। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত কমিটি : অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহিনুর ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের লাশ দাফন ও পরিবহনের জন্য ২৫ হাজার করে টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা