kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

ভারতীয় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদ

এবার পশ্চিমবঙ্গে সহিংস বিক্ষোভ

► যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ সতর্কতা
► সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ কংগ্রেসের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার পশ্চিমবঙ্গে সহিংস বিক্ষোভ

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে দেশটির আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের পর এবার সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল শনিবার দিনভর পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাসহ হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে রেলস্টেশনে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশকে মারধর এবং রেলপথ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। এর আগে দিল্লিতেও বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের জন্য ভারত ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে।

অন্যদিকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে শান্ত থাকার জন্য রাজ্যবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, সহিংসতা থামাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান সত্ত্বেও শনিবার সকাল থেকেই নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় শুরু হয় বিক্ষোভ, রেল-সড়ক অবরোধ। আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদ থেকে শুরু হয় এ সহিংস আন্দোলনের যাত্রা। গতকাল দিনভর কোথাও যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভ ধীরে ধীরে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পাল্টা লাঠিপেটাও করতে হয় পুলিশকে।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় রেলস্টেশনে কয়েক হাজার প্রতিবাদকারী শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ ঢুকে পড়ে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে রেলওয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে বিক্ষোভকারীরা। রেলওয়ে পুলিশ ফোর্সের (আরপিএফ) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পিটিআইকে জানান, বিক্ষোভকারীরা স্টেশন কমপ্লেক্সে ঢুকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, দুটি ভবন ও রেলওয়ে কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় তারা পুলিশ সদস্যদের নির্দয়ভাবে পিটুনি দেয়। জেলার ৩৪ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ এবং তিনটি রাজ্য সড়কে যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।

কলকাতা শহরে প্রতিবাদকারীরা বিক্ষোভ করলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে পার্ক সার্কাস ও এয়ারপোর্ট এলাকায় কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল প্রায় বন্ধ থাকে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক সায়ান্ত বসুর গাড়িতে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।

কলকতার পার্শ্ববর্তী হাওড়া জেলার সাঁকরাইল রেলস্টেশনে গতকাল দুপুরের পর কয়েক শ বিক্ষোভকারী ঢুকে স্টেশন কমপ্লেক্সের একাংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই ধরনের হামলা হয় জেলার উলুবেড়িয়া রেলস্টেশনেও। জেলার ডোমজুড়ে ৬ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদকারীরা। এ ছাড়া জেলার কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে ১৫টি গাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা।

গতকাল শিয়ালদহ ডিভিশনের বারাসত-হাসনাবাদ শাখায় বিক্ষোভের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে। হাসনাবাদ শাখার সোঁদালিয়া-লেবুতলা স্টেশনের মাঝে অবরোধ করা হয়। লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা শাখায় সকাল ৮টা থেকেই ওই শাখায় ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মালদহ ডিভিশনের আজিমগঞ্জ শাখাতেও বিক্ষোভের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বাসুদেবপুরে হল্ট স্টেশনেও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বীরভূম জেলায়ও।

হুগলি জেলার আরামবাগের হরিণখোলায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের সময় পুলিশ আচমকা লাঠিপেটা করলে বিক্ষোভকারীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। আসানসোলের বিএনআর মোড়ে বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। বর্ধমানের সেহারাবাজারে প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ তমলুক শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। প্রতিবাদ মিছিল বের হয় পুরুলিয়া শহরেও।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর আবেদন করেছেন। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আপনারা আইন নিজ হাতে তুলে নেবেন না। রাস্তা অবরোধ করবেন না। মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করবেন না। সরকারি সম্পত্তির কোনো ক্ষতি করবেন না। এ সব কাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমার অনুরোধ, জনতার মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করবেন না।’

সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ : অন্যদিকে ত্রিশুর এলাকার লোকসভা সদস্য ও কংগ্রেস নেতা টি এন প্রথাপন গতকাল নাগরিকত্ব সংশোধন আইন চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে  আবেদন করেছেন। তিনি এ বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন।

ভ্রমণ সতর্কতা : ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে সহিংসতার জের ধরে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইসরায়েল ও সিঙ্গাপুর নিজ নিজ নাগরিকদের জন্য ভারত ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের কর্মকর্তাদের জন্য আসাম সফর সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তর নাগরিকদের জন্য ভারত ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করে। এ ছাড়া কানাডা, ইসরায়েল ও সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে একই ধরনের সতর্কতা জারি করে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, এএফপি, আনন্দবাজার ও বর্তমান পত্রিকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা