kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাক্ষাৎকার
ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন

নতুন সরকারের কাছে গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশ

মেহেদী হাসান   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন সরকারের কাছে  গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত জোরালো ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক নতুন ব্রিটিশ সরকারের কাছে গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে তিনি এ কথা জানান। ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসনের সঙ্গে গতকাল যখন কালের কণ্ঠ’র কথা হয় ততক্ষণে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের জন্য এই ফলের অর্থ কী—জানতে চাইলে হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন বলেন, “আমি বলব, এটি সুস্পষ্ট ‘ম্যান্ডেট’, সুস্পষ্ট রায়। যুক্তরাজ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তুমুল আলোচনা-বিতর্ক হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জনগণ ভোট দিয়েছে। এটি স্পষ্ট ফল।”

হাইকমিশনার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর (বরিস জনসন) জন্য এটি স্পষ্ট যে তাঁর এখন ‘ম্যান্ডেট’ আছে ‘ব্রেক্সিটের’ (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া) পথে এগিয়ে যাওয়ার। তাঁর (ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী) একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী সামাজিক পরিকল্পনা আছে, যা তিনি আগামী দিনগুলোতে বাস্তবায়ন করবেন।”

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, “আমার মনে হয়, আমরা এমন একটি সরকার পেয়েছি যার সুস্পষ্ট ‘ম্যান্ডেট’ আছে। দেশ আরো এগিয়ে যাবে আমি আশা করছি।”

‘ব্রেক্সিট’ হতে যাচ্ছে—এটি এখন নিশ্চিত কি না জানতে চাইলে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, “আমার মনে হয়, আমরা তাই ধারণা করতে পারি। সরকার নির্বাচিত হয়েছে জোরালোভাবে এবং ব্রেক্সিট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েই। আমার মনে হয়, আমরা আশা করতে পারি ‘উইথড্রল অ্যাগ্রিমেন্ট’ (ব্রেক্সিটের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত চুক্তি) শিগগিরই পার্লামেন্টে পাস হবে। সরকার যেমন পরিকল্পনা করছে যে আমরা আগামী জানুয়ারি মাসের শেষে (২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ব। আমি মনে করি, এটিই হতে যাচ্ছে।”

যুক্তরাজ্যের নতুন সরকারের আমলে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কে কী কোনো পরিবর্তন আসবে কি না জানতে চাইলে রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, ‘যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক অত্যন্ত জোরালো। এই সম্পর্কে বাণিজ্য, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ অনেক মাত্রা আছে। আমি মনে করি, বিগত সরকারের মতো এই সরকারের সময়ও এই সম্পর্ক শক্তিশালী ও জোরালো হওয়াই অব্যাহত থাকবে।’

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চারজন বাংলাদেশি-ব্রিটিশ সদস্য নির্বাচিত হওয়াকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে হাইকমিশনার বলেন, “ব্রিটিশ সমাজে বাংলাদেশি ‘ডায়াসপোরা’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পার্লামেন্টসহ আমাদের জাতীয় জীবনে তাদের বিশাল ভূমিকা আছে। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের অবস্থান আরো দৃশ্যমান হওয়াকে অবশ্যই আমি স্বাগত জানাই।”

যুক্তরাজ্যের নতুন সরকারের আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পৃক্ততার কোনো ইঙ্গিত আছে কি না জানতে চাইলে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, এ রকম কিছু হবে। আমার মনে হয়, নতুন সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করা। তবে আমি বেশ নিশ্চিত যে বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পর্ক এবং এই সম্পর্কে অনেক মাত্রা আছে—এগুলোও নতুন সরকারের কাছে গুরুত্ব পাবে।’  তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া যুক্তরাজ্যের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ হলো দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা