kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফের ক্ষমতায় জনসন নতুন ভোরের ডাক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ফের ক্ষমতায় জনসন নতুন ভোরের ডাক

বরিস জনসন

ব্রিটেনের এবারের সাধারণ নির্বাচনকে বলা হচ্ছিল ‘ব্রেক্সিট ইলেকশন’। শেষ পর্যন্ত ব্রেক্সিট ইস্যুই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দিয়েছে। ব্রেক্সিটবিরোধী লেবার পার্টির ইতিহাসে অন্যতম ভরাডুবি ঘটিয়ে কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দল কনজারভেটিভ পার্টি নিজেদের ইতিহাসে অন্যতম বড় জয় পেয়েছে। গতবারের চেয়ে ৪৮টি আসন বেশি পাওয়ায় এ ফলকে জনসনের ‘ব্যক্তিগত বিজয়’ও ভাবা হচ্ছে। এর ফলে শিগগিরই তিনি পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট বিল পাস করিয়ে নিতে পারবেন। বিপরীতে নিজেদের ঘাঁটিতেও শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে লেবারদের।

প্রধানমন্ত্রী জনসন এ বিজয়কে ‘নতুন ভোর’ আখ্যায়িত করে দ্রুত ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন এবং ভোটারদের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি সার্বক্ষণিক কাজ করবেন এবং জনগণের সরকার পরিচালনা করবেন। বিপরীতে লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি আর দলের নেতৃত্বে থাকছেন না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই তাঁর দলের সবচেয়ে খারাপ ফল, যা তাঁকে শিগগিরই পদ ছাড়তে বাধ্য করবে।

স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ভোট গণনা শুরু হয়। গতকাল শুক্রবার সকালের মধ্যেই ৬৫০টি আসনের মধ্যে ৬৪৯টি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়। বিকেলে বাকি ১টি আসনের ফলও ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে ৬৫০টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ৩৬৫টি আসনে জয় পায়, যা গতবারে চেয়ে ৪৮টি বেশি। আর প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি পেয়েছে ২০৩টি আসন, যা গতবারের চেয়ে ৫৯টি আসন কম।

নির্বাচনী ফলের আরেক লক্ষণীয় দিক হলো স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (এসএনপি) বড় জয়। স্কটল্যান্ডে ৫৯টি আসনের মধ্যে ৪৮টি আসনই জিতে নিয়েছে নিকোলা স্টারজিওনের দল, যা গতবারের চেয়ে ১৩টি আসন বেশি। ব্রেক্সিটবিরোধী এ দলটির এত বিপুলসংখ্যক আসন পাওয়ার তাৎপর্য অনেক। এ ফলকে স্কটল্যান্ডবাসীর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্টারজিওন।

নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টি পেয়েছে ১১ এবং আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) জয়লাভ করেছে আটটি আসনে। এ ছাড়া আইরিশ দল সিন ফেইন সাতটি, প্লেইড সাইমরু চারটি, এসডিএলপি দুটি এবং গ্রিন পার্টি ও অ্যালায়েন্স পার্টি একটি করে আসনে বিজয়ী হয়েছে।

গতকাল বিজয়ী ভাষণে বরিস জনসন তাঁর দলের কর্মীদের উদ্দেশ করে বলেন, “এটা হচ্ছে দেশের জন্য ‘নতুন ভোর’।” ১৯৯৭ সালে সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে লেবার পার্টির নেতা টনি ব্লেয়ারও একই কথা বলেছিলেন।

জনসন দাবি করেন, লেবার পার্টির অনেক সমর্থকও এবারের নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টিকে ভোট দিয়েছে। তাই তিনি লেবার পার্টির ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাদের অনেকেই এবার কনজারভেটিভ পার্টিকে সমর্থন করেছে একটি ‘জনগণের সরকার’ পরিচালনার জন্য। তিনি আরো বলেন, ‘হয়তো আগামীবারই আপনারা ফের লেবারেই ফিরে যেতে চাইবেন। যদি তাই হয়, তাও এবার আমার ওপর আস্থা রাখায় আমি কৃতজ্ঞ, আমি আপনাদের সমর্থনকে ব্যর্থ হতে দেব না। আমাকে ভোট দিয়ে আপনারা যে ঠিক কাজটিই করেছেন, তা নিশ্চিতে আমি সার্বক্ষণিক, দিন-রাত কাজ করার লক্ষ্য ঠিক করেছি, যেন ভবিষ্যতেও আপনারা আমাকেই সমর্থন করেন।’

জনসন জানান, টোরিদের এ অসামান্য জয়ে ব্রেক্সিট নিয়ে পার্লামেন্টে দীর্ঘদিন ধরে যে অচলাবস্থা চলছিল, তা নিরসনের প্রবল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা নির্ধারিত সময় ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই ব্রেক্সিট সম্পন্ন করব, এতে কোনো ‘যদি কিন্তু’ নেই।” এর আগে সকালে দলীয় নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছি যে কী ভূমিকম্পই না আমরা সৃষ্টি করেছি।’

পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় এবং এমপিদের বিরোধিতার কারণে এ পর্যন্ত ব্রেক্সিট কার্যকর করতে পারেনি কনজারভেটিভরা। এ অচলাবস্থা কাটাতেই প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগাম নির্বাচন ডেকেছিলেন।

বিবিসি লিখেছে, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আগামী সোমবার সামান্য রদবদল আসতে পারে সরকারেও। তারপর আগামী শুক্রবারই পার্লামেন্টে এমপিদের সামনে তোলা হবে ব্রেক্সিট বিল। পার্লামেন্টের অনুমোদন পেলে নির্ধারিত ৩১ জানুয়ারিতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) ঘটবে।

বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন : ভোটের ফল ঘোষণার মধ্যেই কানজারভেটিভ পার্টির এগিয়ে থাকার খবরে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইটারে এক পোস্টে তিনি এ জয়কে ‘বিশাল বিজয়’ উল্লেখ করে বলেন, এর মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিট-পরবর্তী লন্ডন ও ওয়াশিংটন নতুন বাণিজ্য চুক্তি করতে সক্ষম হলো। অভিনন্দন জানিয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, এটি পরিষ্কার বিজয়, যা দুই দেশের বন্ধুত্বকে সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘একসঙ্গে কাজ করতে আমি সামনের দিকে তাকিয়ে আছি।’ ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই ফল অ্যাটি-সেমিটিজমের বিষয়ে কনজারভেটিভ পার্টির মূল্যবোধের জয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট বরিস জনসনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তারা ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত। সূত্র : বিবিসি ও এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা