kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

দ্রুতগতির ইন্টারনেট

জানুয়ারিতেই ২৬০০ ইউনিয়নে

মাসুদ রুমী   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জানুয়ারিতেই ২৬০০ ইউনিয়নে

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল যাচ্ছে তৃণমূলেও। এরই মধ্যে দুই হাজার ৩০০ ইউনিয়নে পৌঁছে গেছে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল সংযোগ। আরো ৩০০ ইউনিয়নে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছে যাবে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। সে সুবাদে আউটসোর্সিংসহ নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে গ্রামের মানুষ। সরকারি সেবার একটি বড় অংশও মিলবে অনলাইনে।

সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের আওতায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সামিট কমিউনিকেশনস ও ফাইবার অ্যাট হোম। ব্রডব্যান্ড সংযোগ স্থাপনের কাজ শেষ হলে ব্যক্তি পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পাবে গ্রামের মানুষ।

এই প্রকল্পের আওতায় ১০ কোটি মানুষকে ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনতে চায় তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগ। ২০২১ সালের মধ্যে সব ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন ও বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) সেন্টার প্রতিষ্ঠা প্রকল্প শেষ হলে মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপি ১ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি ১০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে। আইসিটি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ফাইবার অপটিক কেবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা দিয়ে তৃণমূলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর আওতায় দুই হাজার ৬০০ ইউনিয়নকে ফাইবার অপটিক কেবলের আওতায় আনা এবং দেশের সব ডিজিটাল সেন্টারে (ইউডিসি) বিপিও সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এক হাজার পুলিশ অফিসকে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে জিডি, অনলাইন পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনসহ নানা সেবা অনলাইনে পাওয়া যাবে। গ্রামে তথ্য-প্রযুক্তি সেবার মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান তৈরি এবং দারিদ্র্য ও ডিজিটাল বৈষম্য রোধ, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, গ্রামবাসীর জন্য সরকারের সেবা উন্নত করাসহ নানা উদ্যোগ রয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইউনিয়ন পর্যন্ত ফাইবার অপটিক কেবল নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণে আমরা ইনফো সরকার-৩ প্রকল্প হাতে নিয়েছিলাম। আশা করছি, ২০২০ সালের প্রথমার্ধেই সব কানেকটিভিটি শেষ হয়ে যাবে। এই প্রকল্প শেষ হওয়ার পর আমরা ‘কানেকটেড বাংলাদেশ’ নামে আরেকটি প্রকল্প নিচ্ছি। এর মাধ্যমে দুর্গম দ্বীপ, চর, পাহাড়ি অঞ্চলসহ সব ইউনিয়ন ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা কানেকটিভিটির আওতায় নিয়ে আসতে পারব। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ সব ক্ষেত্রেই যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।” তিনি বলেন, ‘আমরা এই উদ্যোগে ১০ কোটি মানুষকে কানেকটিভিটির আওতায় নেব। আশা করছি, আউটসোর্সিংসহ অন্যান্য কাজে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। জিডিপি বাড়বে ১ শতাংশ।’

ইনফো সরকার-৩-এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ড. বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, “এরই মধ্যে আমরা দুই হাজার ৩০০ ইউনিয়ন ও এক হাজার পুলিশ অফিসকে হাইস্পিড ইন্টারনেট কানেকটিভিটিতে যুক্ত করেছি। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে দুই হাজার ৬০০ ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট কানেকটিভিটির কাজ। এই সেবার ক্ষেত্রে ‘লাস্ট মাইল কানেকটিভিটি’ (ডেলিভারি পয়েন্ট থেকে চূড়ান্ত ব্যবহারকারীদের কাছে) সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে ফেব্রুয়ারিতে দরপত্র আহ্বান করা হবে।”

বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ গিগাবাইট ক্যাপাসিটি থাকবে। সঙ্গে রাউটার থাকবে। এর মাধ্যমে অন্যান্য সরকারি অফিস কানেক্ট করতে পারবে। প্রতিটি ইউনিয়নে ১০টি করে সরকারি অফিস কানেক্ট করলে দুই হাজার ৬০০ ইউনিয়নে ২৬ হাজার অফিস হাইস্পিড কানেকটিভিটির আওতায় আসবে। সরকারের প্রায় তিন হাজার ধরনের সেবা অনলাইনে পাওয়া যাবে। ই-কমার্স, ই-গভর্ন্যান্স উন্নয়নসহ শিক্ষার ডিজিটাইজেশন হবে। মানুষকে উৎসাহিত করতে আমরা সব ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে এক বছর ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘বিটিসিএল আগেই এক হাজার ২০০ ইউনিয়ন সংযুক্ত করেছে। আমরা দুই হাজার ৬০০ ইউনিয়ন করছি। বাকি ৭৭২টি দুর্গম ইউনিয়নে ২০২০ সালের মধ্যে ইন্টারনেট পৌঁছানোর জন্য আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। ২০২১ সালে আমরা ঘোষণা দিতে চাই—দেশের সব ইউনিয়ন হাইস্পিড ইন্টারনেটে সংযুক্ত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা