kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাবলিক ভার্সিটিতে সন্ধ্যাকালীন কোর্স বন্ধের নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাবলিক ভার্সিটিতে সন্ধ্যাকালীন কোর্স বন্ধের নির্দেশনা

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সান্ধ্য কোর্স বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ ছাড়া উপাচার্যদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন, নতুন বিভাগ ও পদ সৃষ্টিতে ইউজিসির পূর্বানুমোদন গ্রহণ, নিয়োগ-পদোন্নতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসরণসহ ১৩ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এসব নির্দেশনাসংবলিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য সব কোর্স বন্ধের কথা বলা হয়েছে। সান্ধ্য কোর্স পরিচালনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভনিং কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স ও ইনস্টিটিউটের ছড়াছড়ি। নিয়মিত কোর্স ছাড়াও এসব বাণিজ্যিক কোর্সের মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে। এসব ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষার্থীরা কতটুকু লাভবান হচ্ছে সে ব্যাপারে প্রশ্ন থাকলেও এক শ্রেণির শিক্ষক কিন্তু ঠিকই লাভবান হচ্ছেন। তাঁরা নিয়মিত নগদ সুবিধা পাচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করছেন।’

মূলত রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের পরই ইউজিসি সান্ধ্য কোর্স বন্ধের নির্দেশনা দিল। দেশের সব বড় বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই সান্ধ্য কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে। এই কোর্সে উচ্চ হারে ফি আদায় করা হচ্ছে। এই ফিয়ের বেশির ভাগই শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন হয় বলে তাঁদেরও নিয়মিত কোর্সের চেয়ে সান্ধ্য কোর্সে আগ্রহ বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এখনো ইউজিসির চিঠি পাইনি। তবে একাডেমিক বিষয়গুলোর ব্যাপারে একাডেমিক কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেবে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত মে মাসে সন্ধ্যাকালীন কোর্সের ব্যাপারে তিনজন ডিনকে প্রধান করে তিনটি কমিটি করে দিয়েছি। তাদের প্রতিবেদনের পর আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কিছু আমরা করব না।’ 

ইউজিসির চিঠিতে আরো বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে উপাচার্যরা নিজেদের মেধা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য প্রতিপালন করে যাচ্ছেন। তবু নানা কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি অনুসরণে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। এসব কারণে উচ্চ শিক্ষা প্রশাসনে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা, যা কাম্য নয়। আরো বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন অনুষদ, বিভাগ, প্রগ্রাম ও ইনস্টিটিউট খোলা এবং নতুন পদ সৃষ্টি বা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমোদন নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ইউজিসি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে যে দেশের কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই নতুন বিভাগ, প্রগ্রাম ও ইনস্টিটিউট খুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে, যা বাঞ্ছনীয় নয়।

চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ এবং পদোন্নতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের আইন মেনে চলতে হবে। বিধিবহির্ভূতভাবে ‘সেশন বেনিফিট’ সুবিধা প্রদান এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিম্নতর গ্রেড থেকে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করা বাঞ্ছনীয় নয়। সরকারের আর্থিক বিধি লঙ্ঘন করে দেওয়া হচ্ছে ভূতাপেক্ষ জ্যেষ্ঠতা। এসব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি-বিধান এবং সরকারের নিয়ম-নীতি প্রতিপালন করা অবশ্যকর্তব্য। এ ছাড়া একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসির পরামর্শ নিতে পারবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা