kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিই উচ্চারণ করেননি অং সান সু চি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিই উচ্চারণ করেননি অং সান সু চি

নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস, সংক্ষেপে আইসিজে) একবারের জন্যও জাতিগোষ্ঠী হিসেবে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। গতকাল বুধবার আদালতে শুনানির সময় তিনি কৌশলে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এড়িয়ে যান। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তিনি রাখাইনের বেসামরিক জনগণ ও মুসলমান জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেন।

নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডাব্লিউ) এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘আত্মপক্ষ সমর্থন করে অং সান সু চির দেওয়া যুক্তি অনর্থক। তিনি তাঁর বক্তব্যে হামলার শিকার হওয়া জনগোষ্ঠী হিসেবে রোহিঙ্গাদের নামটিও কখনো উচ্চারণ করেননি। একটি জনগোষ্ঠীর পরিচয় অস্বীকার করাও একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ। এটি অবশ্য নতুন নয়। ২০১৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ওই শব্দ (রোহিঙ্গা) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিলেন।’

আদালতে সু চির আইনজীবীদলের প্রশ্ন ও যুক্তিতর্ক নিয়েও সমালোচনা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ব্র্যাড অ্যাডামস টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘মিয়ানমার সঠিক আইনজীবীকেই ভাড়া করেছে। উইলিয়ম সাবাস তাঁর মোয়াক্কেল সু চির মতোই নিজেকে হৃদয়হীন প্রমাণ করেছেন। তিনি মূলত রোহিঙ্গাদের দুর্দশাকে নাকচ করেছেন। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ১০ হাজার নিহত হয়েছে। ব্যাপক হারে ধর্ষণ হয়েছে। গ্রামগুলো মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। শরণার্থী হয়েছে সাড়ে সাত লাখ।’

আরেক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘সু চির আইনজীবী অধ্যাপক উইলিয়ম সাবাস নিজেকেই বিব্রত করছেন। সাবাস আদালতকে বলেছেন যে কতজন নিহত হয়েছে, গাম্বিয়া সেই তথ্য দিতে পারেনি। এটি কেউ জানে না। কারণ তাঁর মোয়াক্কেল সু চি জাতিসংঘের তদন্তদলকে মিয়ানমারে ঢুকতেই দেননি। জাতিসংঘ তদন্তদলকে ঢুকতে দিন। তাহলে আমরা নিহতের সংখ্যা জানতে পারব।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক পরিচালক নিকোলাস বিকুলিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, সু চি রোহিঙ্গা সংকটের ভয়াবহতাকে লুকানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর জেনোসাইড অস্বীকার এবং এই সংকটের সঙ্গে যোগসূত্র আছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন আইন প্রণেতা সু চিকে পাঠানো এক চিঠিতে রোহিঙ্গা জেনোসাইডের বিচারপ্রক্রিয়ায় আইসিজেকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা