kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফুটবলের সোনায় নেপালের মধুরেণ সমাপয়েৎ

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফুটবলের সোনায় নেপালের মধুরেণ সমাপয়েৎ

সমাপনীর খোঁজ নেয় কে! ওই যে ঊর্ধ্বশ্বাসে পুরো নেপাল ছুটছে দশরথের পথে। হাতে হাতে লাল ঝাণ্ডা। উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছেন একেকজন। সে কি আর সমাপনীর আতশবাজি আর ডিসপ্লের জন্য? কাঠমাণ্ডুর সব পথ এদিন দশরথে মিলেছিল। কারণ এদিন ফুটবল ফাইনাল। গোর্খালিরা সোনার জন্য লড়বে প্রতিবেশী ভুটানের বিপক্ষে। বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে স্বাগতিকরা কি আর ভুটানিদের বাধায় থামবে! পুরো নেপাল তাই সুজল শ্রেষ্ঠা, অনন্ত তামাঙ, অভিষেক রিজালদের ফুটবল শো দেখার অপেক্ষায় ছিল।

১৯৯৯-এ বাংলাদেশ যেভাবে হৃদয় ভেঙেছিল তাদের। এদিন তা হওয়ার ছিল না যেন। পুরো আসরে ফুটবলাররা যেভাবে মাতিয়ে রেখেছিলেন দশরথ, কাল সেই মনমাতানো পারফরম্যান্সে ভুটানকে ২-১ গোলে হারিয়ে গেমসের সমাপনীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় শুরুটা করে দিয়েছেন তাঁরা। সব দেশের অ্যাথলেটদের সমাপনী মার্চপাস্টের আগেই তাই গ্যালারি উপচানোা দর্শকদের হর্ষধ্বনির মাঝে স্টেডিয়াম ঘোরা হয়ে গেছে ফুটবলারদের। বর্ণক্রম অনুসারে মার্চপাস্টের শুরুতেই বাংলাদেশ। ইতিহাসের সর্বোচ্চ সোনা জিতেও সব দেশের মধ্যে পঞ্চম হয়েই থাকতে হয়েছে পদক তালিকায়। গুয়াহাটির গত আসরের চেয়ে এবার ডিসিপ্লিন বেড়েছে, বেড়েছে সোনার সংখ্যা। সেই সংখ্যায় এগিয়েছে তাই সবাই-ই। পাকিস্তান যেমন ৩১ সোনা নিয়ে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশকে। গত আসরে বাংলাদেশের পেছনে থাকা নেপালও ঘরের মাঠে গড়েছে তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫১ সোনা জেতার রেকর্ড। ভারতের (১৭২) পরই তারা। ৪০ সোনা শ্রীলঙ্কার। কারাতে, তায়কোয়ান্দো, উশুতেই নেপাল জিতেছে ২৭ সোনা। এর বাইরেও প্রায় প্রতিটি খেলায় সোনা যোগ করে সংখ্যাটাকে অভীষ্ট ৫০ পার করে দিয়েছে তারা। কখনো তেমন কিছু না পাওয়া অ্যাথলেটিকসেও এবার নিয়েছে তারা সোনা, কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে অবশ্য ম্যারাথনসহ দূরপাল্লার দৌড়গুলোতেই তারা ছিল সফল। একইভাবে চারটি সোনা তাদের সাইক্লিংয়ে। যে সাঁতারে তাদের কখনো সোনা আসেনি, এবার এক গৌরিকা সিংই তাদের সেই সাঁতারে চার সোনা জিতে দেশের নতুন ক্রীড়া তারকা হয়ে উঠেছেন। কাল ফুটবলের ফাইনাল চলাকালে গ্যালারিতে সেই গৌরিকাকে দেখে পুরো নেপাল তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে আরেকবার। মার্চপাস্টে এই গৌরিকার হাতেই ছিল পতাকা। মার্চপাস্টের পর পতাকা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা।

গেমসের শুরু থেকেই দশরথে আলাদা করে উড়ছে নেপাল, ভারত ও পাকিস্তানের পতাকা। ভারত সর্বশেষ আয়োজক, বর্তমান আয়োজক নেপাল, তার সঙ্গে পরবর্তী আয়োজক পাকিস্তানের পতাকা। তা নিয়ে গেমস জুড়েই অবশ্য প্রশ্ন। পাকিস্তানে পরের গেমস হবে তো? ভারত যাবে তো সেখানে? তবে কাল শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আরিফ হাসানের হাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে গেমস পতাকা তুলে দিয়েছেন নেপাল অলিম্পিকের প্রেসিডেন্ট জীবন রাম শ্রেষ্ঠা। জানানো হলো, আগামী ছয় মাসের মধ্যে গেমসের ভেন্যুও ঘোষণা করবে পাকিস্তান। জানা গেছে এই ছয় মাসে সব দেশকে রাজি করানোরও সময়সীমা তাদের। শ্রীলঙ্কা মালদ্বীপের সঙ্গে মিলে এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী আসরের স্বাগতিক হওয়ার ইচ্ছা জানিয়ে রেখেছে, যদি পাকিস্তান ব্যর্থ হয়। তবে পরের আসর যেখানেই হোক শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ার প্রস্তুতিতে, গেমসে তারিখ কয়েকবার পিছিয়ে, ভূমিকম্পের ধ্বংসাবশেষ পেছনে ফেলে নেপাল শেষ পর্যন্ত সফলভাবেই শেষ করতে পেরেছে তাদের মাটিতে তৃতীয় এই আসর। নেপালি সাংবাদিকরা এই শেষ বেলায় এসে অবশ্য লাঞ্ছিত হয়েছেন পুলিশের হাতে। ফুটবল ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামে ঢুকতে গিয়ে লাঠিপেটার মধ্যে পড়েন তাঁরা। এ নিয়ে পরে গ্যালারিতে প্রতিবাদ জানানোর সময়ও পুলিশ তাঁদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে। এই অংশটুকু বাদ দিলে পুরো নেপালই গর্ব করতে পারে এই আয়োজন নিয়ে। আগের দিন দ্বিতীয় ভেন্যু পোখারায় পর্দা নেমেছে এই আসরের। সেখানেও ছিল ফুটবল ফাইনাল, ভারতীয় মেয়েদের প্রথমবার হারের স্বাদ দিয়ে এসএ গেমসের সোনা জয়ের স্বপ্ন ছিল সবিতা ভাণ্ডারিদেরও। কিন্তু সেখানে শেষটা মধুর হয়নি, ভারতের কাছে হেরে রুপা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। পোখারা স্টেডিয়ামে আতশবাজি ফুটেছে তাই প্রায় জনশূন্য অবস্থায়। কাল ফুটবলের ফাইনাল হারও হয়তো পুরো সমাপনীই মাটি করে দিত। সেটা না হয়ে হলো মধুরেণ সমাপয়েৎ। মার্চপাস্ট, পতাকা হস্তান্তর আর বক্তৃতার পালা শেষে কৃষ্ণের বাঁশি, কি নেপাল আর্মড পুলিশের কসরত বা শেষের ড্রোন উড়িয়ে ডিজিটাল ডিসপ্লে—সবটাতেই তাই মেতে ছিল দশরথ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা