kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আজ মাঠে গড়াচ্ছে বঙ্গবন্ধু বিপিএল

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আজ মাঠে গড়াচ্ছে বঙ্গবন্ধু বিপিএল

মূল স্টেডিয়ামে না, সুসজ্জিত সংবাদ সম্মেলন কক্ষেও না। বরং অনুশীলন মাঠের প্রায় অন্ধকারে অধিনায়কদের সম্মেলন। সেখানে আবার সব অধিনায়ক নেই। টুর্নামেন্টের ট্রফি পর্যন্ত নেই। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের সঙ্গে কাল সন্ধ্যার একাডেমি মাঠের এই ছবিটা যে একেবারেই বেমানান!

জৌলুস ছড়ানো সে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে তিন দিন আগে। আজ গড়াচ্ছে মাঠের লড়াই। এরই আবহে সাত দলের অধিনায়কদের এক ফ্রেমে আনার এ আয়োজন। কিন্তু সেটি রং হারিয়েছে নিতান্ত অবহেলায়। ঢাকা প্লাটুনের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ছিলেন না; দলের প্রতিনিধি হিসেবে রেখে গেছেন মমিনুল হককে। রংপুর রেঞ্জার্সের কেউই তো ছিলেন না। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মাহমুদ উল্লাহ, রাজশাহী রয়ালসের আন্দ্রে রাসেল, খুলনা টাইগার্সের মুশফিকুর রহিম, কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের দাসুন শানাকা, সিলেট থান্ডারের মোসাদ্দেক হোসেন উপস্থিত হন। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসেনও। তবে তাতে মেকি আনুষ্ঠানিকতা বড্ড প্রকট!

তবে আবহের এ বিবর্ণতা কেটে যাওয়ার আশা মাঠের লড়াইয়ে। যেখানে আজ দুপুর দেড়টায় মুখোমুখি চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স-সিলেট থান্ডার। আর দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স-রংপুর রেঞ্জার্স লড়বে জয়ের জন্য।

সিলেট থান্ডারের ডাগ আউটে থাকবেন সবচেয়ে বড় তারকা। কোচ হিসেবে হার্শেল গিবস। দলের ভালো খেলা নিয়ে আশাবাদী তিনি, ‘অন্যান্য দলের মতো বড় বড় তারকা আমাদের নেই। সে কারণে বেশি স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পারব। পরিচিতি যত কম, ভালো করার সম্ভাবনা তত বেশি। দলের সঙ্গে কথা হয়েছে। সবাই বেশ রোমাঞ্চিত, যা দারুণ কিছুর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।’ মোসাদ্দেক-মিঠুন-রনি-চার্লস-জিবন মেন্ডিসদের গড়পরতা দল নিয়ে চিন্তিত নন গিবস, ‘স্নায়ুর চাপ নিয়েও প্রত্যেকে রোমাঞ্চিত। আমিও। মাঠে ছেলেরা যেমন অনুভব করে; মাঠের বাইরে আমিও তেমন। যদি স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পারি, তাহলে যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব। এ খেলায় নিশ্চিত করে কিছু বলার উপায় নেই। আর আগেই তো বলেছি, জেতার জন্য বড় নামের প্রয়োজন নেই। অচেনা কেউ ঝলসে উঠলেই হয়।’ মাত্রই বাংলাদেশে এসে দলের মানসিক প্রস্তুতির দিকেই জোর এই প্রোটিয়া কিংবদন্তির, ‘আমাদের দলে স্পিনবৈচিত্র্য আছে। বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সান্টোকি। তবে টপ অর্ডারে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নেই। এ জায়গায় একটু পিছিয়ে আছি। তবে আমাদের যারা আছে, তাদের নিয়েই খেলতে হবে। যতটুকু দেখেছি, ছেলেরা প্রস্তুত আছে। আমি চাই, ওরা যেন কাল মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে খেলতে নামে।’

প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স আজ ইনজুরির কারণে পাবে না নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহকে। ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব পেয়ে ইমরুল কায়েস এ অভাব পূরণের দিকে তাকিয়ে, ‘উনাকে দুটো ম্যাচ মিস করব। এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। এ জায়গায় দেশি কেউ খেলতে পারে কিংবা বিদেশি। যে সুযোগ পায়, সেটি যেন কাজে লাগায়।’ আর আজ জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রত্যয়ও তাঁর কণ্ঠে, ‘শুরুটা সবাই ভালো করতে চায়। প্রথম ম্যাচ জিতলে সবার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। দেশের ক্রিকেটার ও দলের জন্য ভালো হবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী; সবাই আন্তরিকভাবে চাইব প্রথম ম্যাচটি জিততে।’

দ্বিতীয় ম্যাচে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে লড়বে রংপুর রেঞ্জার্স। দলটির অধিনায়ক হিসেবে আস্থা রেখেছে আফগানিস্তানের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবির ওপর। সেরা ফলের জন্য মুখিয়ে থাকার কথা জানান তিনিও, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমার ওপর আস্থা রাখায় টিম ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্রতিভাবান বাংলাদেশি ও বিদেশিদের নিয়ে আমরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল করেছি। টুর্নামেন্টে ভালো ফলের জন্য আমরা সেরাটাই দেব।’ নিজ দলে মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদের মতো পেস বোলার থাকায় আশ্বস্ত নবি, ‘ওরা থাকায় আমরা শক্তিশালী বোলিং বিভাগ হিসেবে খেলতে পারব। জুনাইদ খান আছে, সেও খুবই ভালো। আমরা চেষ্টা করব যেন রান তুলে ওদের ভালো করার সুযোগ দিতে পারি।’ আজকের ম্যাচের প্রতিপক্ষ কুমিল্লাকে নিয়ে যে সেভাবে হোমওয়ার্ক করা হয়নি, তা স্বীকার করেন। তবে এটিকে সমস্যা হিসেবে দেখেন না রংপুর রেঞ্জার্সের অধিনায়ক, ‘বাংলাদেশ আমার জন্য নতুন কিছু নয়। আট-নয় বছর যাবৎ এখানে নিয়মিত খেলছি। এখানকার কন্ডিশন বেশ ভালো জানি। এখন ম্যাচজয়ী একটি দল গড়ে তুলতে চাই।’

প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের অনুশীলন হয়েছে অগোছাল। এসএ গেমস ক্রিকেটে সৌম্য সরকারসহ দলের চার ক্রিকেটার। তাঁদের ছাড়া প্রস্তুতি নিলেও এটিকে সমস্যা মানছেন না পেসার আল আমিন হোসেন, ‘ওরা তো টি-টোয়েন্টি খেলার মধ্যেই আছে। এসেই এখানে ম্যাচ খেলবে। এটি বরং আমাদের জন্য আরো ভালো।’ প্রথম ম্যাচে জয়ের শুরুর লক্ষ্যের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের স্বপ্নটাও আকাশছোঁয়া কুমিল্লার এই পেসারের, ‘অবশ্যই আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’

চ্যাম্পিয়ন শেষ পর্যন্ত হবে একটি দল। তবে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের সাতটি দল চ্যাম্পিয়নের মতো ক্রিকেট খেললে পরেই সার্থকতা টুর্নামেন্টের। আবহের অগোছাল আয়োজনের মুখরক্ষার ঢালও!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা