kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাখাইন পরিস্থিতিতে চীনের গভীর উদ্বেগ

বিচারের মুখোমুখি হতে হেগে সু চি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাখাইন পরিস্থিতিতে চীনের গভীর উদ্বেগ

রোহিঙ্গা জেনোসাইডের মামলার মুখোমুখি হওয়ার প্রাক্কালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইকে মিয়ানমারে ডেকেছিলেন স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারে এলেন বটে; কিন্তু গভীর উদ্বেগ জানালেন রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে। এর পাশাপাশি তিনি রাখাইন রাজ্যসহ বিভিন্ন স্থানে চীনের প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তোড়জোড় দেখিয়েছেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, রোহিঙ্গাবিরোধী নেতাকর্মীদের স্লোগান এবং প্রার্থনা সঙ্গে নিয়ে গতকাল রবিবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে গেছেন সু চি। সেখানে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস, সংক্ষেপে আইসিজে) বিচারের মুখোমুখি হতে তাঁর এবারের সফর অতীতের যেকোনো সফরের চেয়ে আলাদা। কারণ তিনি নেদারল্যান্ডসে গেছেন জেনোসাইডের অভিযোগকে মিথ্যা প্রমাণ করতে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গতকাল রবিবার সকালে দ্য হেগের উদ্দেশে মিয়ানমার ছাড়েন সু চি। সু চির সমর্থনে মিয়ানমারে মিছিল ও তাঁর জন্য প্রার্থনা সভার এক দিন পর সু চিকে হাসিমুখে নেপিডোর বিমানবন্দরের দিকে যেতে দেখা গেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে দ্য হেগে শুনানির সময় সু চির পক্ষে দ্য হেগের রাস্তায় মিছিল করতে কয়েক ডজন সমর্থকও নেদারল্যান্ডসে গেছেন।

গত শনিবার সন্ধ্যায় নেপিডোতে ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকে সু চি মিয়ানমারের জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে জোরালো সমর্থন ও উৎসাহ দেওয়ার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিভাগের উপপরিচালক লিজিয়ান ঝাও গতকাল টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি নিয়ে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। রাখাইন রাজ্যের জনগণের জীবনজীবিকা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনে চীন মিয়ানমারকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।’

রোহিঙ্গা জেনোসাইডের জবাবদিহি ও প্রত্যাবাসন—দুই লক্ষ্যেই কাজ করছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এযাবৎ দুই দফা উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর চীন এ বিষয়ে দূতিয়ালি চালিয়ে যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জবাবদিহি ইস্যুতে চীনের আগ্রহ কম।

রোহিঙ্গা মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর জেনোসাইড ও অন্যান্য নিপীড়ন চালানোর দায়ে ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ওআইসির পক্ষে পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট মুসলিম রাষ্ট্র গাম্বিয়া গত মাসে আইসিজেতে মামলা করে। আগামীকাল থেকে তিন দিনের শুনানিতে আইসিজের ১৬ জন বিচারকের প্যানেল রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ‘অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার’ আবেদনের যৌক্তিকতা যাচাই করবেন। শুনানি শেষে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রায় হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে মিয়ানমার বাহিনীর বর্বর অভিযানে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, গণবাস্তুচ্যুতির মাত্রা দেখে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা ওই অভিযানে ‘জেনোসাইডের আলমত’ থাকার কথা বলেছেন।

বিশ্বসম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার মুখেও সু চি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার বাহিনীর অভিযানকে সমর্থন করেছেন। সেই সু চিই এখন মিয়ানমারকে জেনোসাইডের দায় থেকে বাঁচানোর উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত শনিবার তাঁর পক্ষে নেপিডোতে কয়েক হাজার সমর্থক মিছিল করেছে। অন্যদিকে জেনোসাইডের মামলায় রায় পক্ষে পেতে ইয়াঙ্গুনে সেন্ট মেরির ক্যাথেড্রালে প্রার্থনা সভায় অংশ নিয়েছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মিয়ানমারের ধর্মমন্ত্রী থুরা অং কো, যিনি গত বছরও রোহিঙ্গাদের বিষোদ্গার করেছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা