kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশেষজ্ঞ মত

দুর্নীতি প্রতিরোধের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে

ড. ইফতেখারুজ্জামান

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




দুর্নীতি প্রতিরোধের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে

আমি মনে করি, এবারের দুর্নীতিবিরোধী দিবসটি বাংলাদেশে পালন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৫ সাল থেকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে এবারে বিশেষ অগ্রগতি হচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী নিজ থেকে বেশ জোরালোভাবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কথা বলছেন এবং বেশ কিছু অভিযান হয়েছে। বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অনেকগুলোর অনুসন্ধানও চলছে। এসব কারণে দেশবাসীর মধ্যে বিশেষভাবে একটা প্রত্যাশার জায়গা তৈরি করেছে। এসব থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধের উল্লেখযোগ্য সুযোগ ও সম্ভবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছি। এখন এটাকে কাজে লাগাতে হবে।

এই বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বসহকারে দেখছি এ কারণে যে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মূল বিষয়টিই হচ্ছে সকল অংশীজনকে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা; সরকারি-বেসরকারি পর্যায়, গণমাধ্যম, সচেতন নাগরিক সমাজ সবাই যার যার অবস্থান থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করবে।

এখন এই প্রত্যাশা তৈরি বা দুর্নীতিমুক্ত করতে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে এর সঙ্গে চ্যালেঞ্জও কিন্তু আছে। চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই সুযোগ কাজে লাগানোর। প্রধানমন্ত্রী যে তিনটি কথা বলছেন সেই কথাগুলোর বাস্তবায়ন করা। প্রধানমন্ত্রী নিজে তো আর সেগুলো বাস্তবায়ন করবেন না, তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী যাঁরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে যে প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে আছেন তাঁদেরকে সঠিকভাবে, নির্মোহভাবে এই কাজগুলো করতে হবে। তা কতটা করা হচ্ছে তার ওপরই নির্ভর করবে বাকি সাফল্য।

প্রধানমন্ত্রীর তিনটি কথার মধ্যে রয়েছে—দুর্নীতিকে শূন্য সহনশীলতায় রাখা, কাউকে ছাড় না দেওয়া এবং এই অভিযান দলের অভ্যন্তর থেকে শুরু করা হয়েছে। এই যে তিনটা বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আসা খুবই বড় ব্যাপার। মানে হচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই উপলব্ধি তৈরি হয়েছে। এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তবে চ্যালেঞ্জের মধ্যে আরো আছে যাঁরা দুর্নীতিমুক্তকরণের দায়িত্বে আছেন তাঁদের মধ্যেও দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে এবং সুবিধাভোগীও আছেন; যাঁরা দুর্নীতিমুক্ত করার আড়ালে দুর্নীতির সুরক্ষা দেন এমন মানুষও রয়েছেন। কাজেই এই চ্যালেঞ্জটি রয়ে গেছে। এ কারণেই এবারের দুর্নীতিবিরোধী দিবসটি বেশ তাৎপর্য বহন করছে। আমরা মনে করি দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই।

এই সঙ্গে আমি বলব, বাংলাদেশ সরকার যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ধারা-১৬ পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে, সেই অঙ্গীকারের মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে, দুর্নীতিবিরোধী শক্ত অবস্থান থাকবে, দুর্নীতি কমিয়ে আনা হবে, মানি লন্ডারিং বন্ধ করা হবে, দুর্নীতিবিরোধী যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোকে শক্তিশালী ও কার্যকর করা হবে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। এখন আমরা এই অঙ্গীকার কতটা পূরণ হলো সেটা দেখতে চাই। মানুষ তো আশাবাদী হতে চায়। এই সুযোগে এ অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন হবে বলে আমরা আশা করি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান : নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা