kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আবার তিন সোনার দিন

শাহজাহান কবির, কাঠমাণ্ডু থেকে   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবার তিন সোনার দিন

এসএ গেমসে সোনা জয়ের উচ্ছ্বাস ফাতেমা মুজিব, মাবিয়া আক্তার ও জিয়ারুল ইসলামের। ছবি : মীর ফরিদ

আবার মাবিয়া। আবার অপেক্ষার পালা শেষ হওয়া। গেমসের প্রথম দুই দিনে চার সোনা মিলে যাওয়ার পর সেই যে আবার রুপা, ব্রোঞ্জে আটকে যাওয়া তা থেকে মুক্তি মিলবে কখন, কারোই জানা ছিল না। শ্যুটিংয়ে সোনা হাতছানি দিয়ে মিলিয়ে যায়, সাঁতারুরা পদকের লড়াইয়েই নেই। পোখারায় আর্চারি শুরু কবে—এই অপেক্ষায় যখন সবাই, তখনই গতবারের মতো ভারোত্তোলন থেকে আসে সোনার খবর। সোনাজয়ী সেই মাবিয়া আক্তার। গতবার দেশকে প্রথম সোনা এনে দিয়ে কেঁদে বুক ভাসিয়েছিলেন যিনি, কাল আবেগে ভাসলেন না, নিজেকে স্রেফ আবার জানান দিলেন তিনি। আর মাবিয়া যখন নিজেকে তুলে ধরেন, তখন বিদ্যুৎ তরঙ্গের মতোই সেই আত্মবিশ্বাস যেন সঞ্চারিত হয় বাংলাদেশের আর সব অ্যাথলেটের মধ্যে। গতবার যেমন হয়েছিল, সাঁতারে সেদিনই রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছিলেন মাহফুজা খাতুন। এদিন ভারোত্তোলনেই মাবিয়ার সঙ্গী হলেন জিয়ারুল ইসলাম। এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফেন্সিংয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সোনা জেতালেন ফাতেমা মুজিব।

ফেন্সিং দেশে অপ্রচলিত খেলা হলেও ফাতেমারা এই দক্ষিণ এশীয় গেমসের জন্য ঠিকই তৈরি হচ্ছিলেন। এসএ গেমসে প্রথম এই ডিসিপ্লিনটি যুক্ত হয়েছে। ২০১৪-তে বাংলাদেশ দল গিয়েছিল ইনচিয়ন এশিয়ান গেমসে। লজ্জা নিয়েই ফিরতে হয়েছিল সেখান থেকে। যথার্থ পোশাক না থাকায় বাংলাদেশের ফেন্সারদের অংশই নিতে দেওয়া হয়নি ওই আসরে। সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েই কাল দক্ষিণ এশিয়ার ১২ জন ফেন্সারকে পেছনে ফেলে সোনা জিতেছেন ফাতেমা। রুপা জিতেছেন নেপালের রাভিনা থাপা, ভারতের দিয়ানা দেবী জিতেছেন ব্রোঞ্জ। জিয়ারুলের সোনা ৭৬ কেজি ওজনশ্রেণিতে। স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে মোট ২৬২ কেজি তুলে তিনি সোনা জেতেন। রুপা জেতা নেপালের বিশাল সিং তুলেছেন ২৪৭ কেজি। স্ন্যাচেই ১২০ কেজি তুলে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের বেশ বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিয়েছিলেন জিয়ারুল। স্ন্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১৫ কেজি বিশালের। ১১৫ কেজি চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৪২ কেজি তোলেন জিয়ারুল। বিশাল ১৪০-এর বেশি তুলতে পারেননি। দুইবার ১৫৬ চেষ্টা করেও হার মেনেছেন। মাবিয়ার লড়াইটা হচ্ছিল শ্রীলঙ্কার বিসি প্রিয়ান্থির সঙ্গে। গুয়াহাটিতে মাবিয়া সোনা জিতেছিলেন ৬৩ কেজিতে। তিন বছর পর ৭৬ কেজি ওজনে তাঁর কাজটা সহজ ছিল না। স্ন্যাচে তো প্রিয়ান্থিই এগিয়ে গিয়েছিলেন তিন কেজিতে। প্রথম চেষ্টায় ৭৫ ও দ্বিতীয় চেষ্টায় ৮০ কেজি তুলে ফেলে মাবিয়া মিস করেছেন তৃতীয় লিফটটা। ৮৩ কেজি তুলতে চেয়েছিলেন, পারেননি। ওদিকে প্রিয়ান্থি সফল। তিনিও প্রথম দুই চেষ্টায় ৭৫ আর ৮০ তুলেছিলেন। তৃতীয়বারে তুলে ফেলেন ৮৩ কেজিও। ফলে স্ন্যাচে তিন কেজিতে পিছিয়ে থাকেন মাবিয়া।

ক্লিন অ্যান্ড জার্কে এই ব্যবধান পেরিয়ে যেতে পারবেন সেই আত্মবিশ্বাস নাকি ছিলই, “ক্লিন অ্যান্ড জার্কে আমার তো আত্মবিশ্বাস ছিলই। আমার চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন আমার কোচ। উনি বলেছিলেন, ‘চিন্তা কোরো না, আমিই তোমাকে পার করে দেব।’” কোচের নির্দেশনা ঠিকঠাক মেনে মাবিয়া প্রথম লিফটেই আসলে সোনা নিশ্চিত করে ফেলেন। ১০৫ কেজি তোলেন তিনি। প্রিয়ান্থি শুরু করেন ১০১ থেকে, সেটা তুলতেও ব্যর্থ, দ্বিতীয় চেষ্টায় সফল। এরপর তৃতীয় লিফটে ১০৪ কেজিও যখন তুলতে পারলেন না তখনই এসএ গেমসে টানা দ্বিতীয় আসরে সোনা নিশ্চিত হয়ে যায় মাবিয়ার। এরপর রেকর্ড অ্যাটেম্পট নিয়েছিলেন তিনি ১১০ কেজি তুলতে। দুইবারের চেষ্টায় যদিও পারেননি। তবে পোডিয়ামের সবচেয়ে উঁচু ধাপটায় দাঁড়াতে তাতে কোনো সমস্যাই হয়নি তাঁর। জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে নিয়েছিলেন, গেমসে তিন দিন পর আবারও বেজেছে তাই ‘আমার সোনার বাংলা’। পোখারায় তা প্রথম। দ্বিতীয়বারের জন্যও খুব বেশি অপেক্ষায় রাখেননি জিয়ারুল। এ নিয়ে টানা তিন আসরে দেশকে সোনা দিলেন ভারোত্তোলকরা। ২০১০-এ ঢাকায় প্রথম সোনাটাই জিতেছিলেন হামিদুল ইসলাম, ২০১৬-তে গুয়াহাটিতে মাবিয়া আবার প্রথম। কাল প্রথম ভারোত্তোলক হিসেবে টানা দ্বিতীয় গেমসে সোনা জেতার কৃতিত্বও গড়া হয়ে গেল তাঁর। প্রথম ফেন্সার হিসেবে দেশকে সোনা এনে দিয়ে ইতিহাসে ঠাঁই নিয়েছেন ফাতেমা মুজিবও। মাবিয়া-জিয়ারুল-ফাতেমা কীর্তিতে গেমসে এখন সাত সোনা বাংলাদেশের। গতবারের হিসাবে সাফল্যই। বাকি তিন দিনে আরো বেশ কয়েকটি সোনায় লক্ষ্য ডাবল ডিজিটের। তাতেও অবশ্য দলীয় অবস্থানে উন্নতি হবে না হয়তো। কারণ চতুর্থ স্থানে থাকা পাকিস্তান এরই মধ্যে জিতেছে ২০ সোনা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা