kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিচারকদের প্রধানমন্ত্রী

সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন

আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তি, ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগ—নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে অবশ্যই যথাযথ সমন্বয় ও সুসম্পর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগ নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ একটি রাষ্ট্রের জন্য অনিবার্য। এই বিভাগগুলো তাদের নিজেদের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

ন্যায়বিচার, শান্তি এবং সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই বিভাগগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় জরুরি।’

শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) সুপ্রিম কোর্ট আয়োজিত ‘শান্তি ও উন্নয়নের জন্য ন্যায়বিচার’ শীর্ষক দিনব্যাপী জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন ২০১৯ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি অবস্থান আশা করি যেখানে রাষ্ট্রের এই তিনটি বিভাগ একে অন্যের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবে না। এতে ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তি বজায় রাখা ও সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ তৈরি করেছেন এবং এটি পরিবর্তনের কর্তৃত্ব শুধু তাঁরই। তিনি (রাষ্ট্রপতি) ‘রুলস অব বিজনেস’ও তৈরি করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৫১(১) এবং ৫৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারবে না। তবে কখনো কখনো রাষ্ট্রপতির জুরিসডিকশনের অধীন ইস্যুতে অর্ডার দিতে দেখছি।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় আশা করেন, দেশ, জনগণ ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিচারকরা তাঁদের মেধা ও সৃষ্টিশীলতা কাজে লাগিয়ে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবেন।

শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতির প্রস্তাব অনুযায়ী অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ জোরদারে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা বিদেশি ভাষায় বেশির ভাগ মামলার বাদী-বিবাদীর স্বল্প জ্ঞানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় মামলার রায় দেওয়ার জন্য বিচারপতিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইংরেজিতে স্বল্প জ্ঞানের কারণে অধিকাংশ বাদী-বিবাদীকে মামলার রায় বোঝার জন্য তাদের আইনজীবীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। মামলাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো রায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পর্কে জানার কোনো সুযোগ নেই এবং বহু ক্ষেত্রে এ জন্য তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতএব ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় বিচারের রায় প্রকাশ করা প্রয়োজন।’ তিনি আরো বলেন, বিচারপতিরা ইংরেজিতে রায় লিখতে পারবেন, তবে বাংলায় প্রকাশেরও ব্যবস্থা থাকা দরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত ইভ টিজিং, পাবলিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, চাঁদাবাজি, যানবাহন ও পরিবেশসংশ্লিষ্ট অপরাধ, পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ও ভেজাল ইত্যাদি বিভিন্ন অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ জন্য তিনি এই আদালতের আরো কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন এবং সেই সময়ের মধ্যে তিনি সংবিধান প্রণয়নসহ দেশের সব মৌলিক উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

তিনি বলেন, ওই সংবিধানে দেশের জনগণের ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা হয়। তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশের সব ধরনের উন্নয়ন প্রক্রিয়া থেমে যায়।

ইনডেমনিটি আইন বাতিলের রায় দিয়ে জাতির পিতার হত্যার বিচারের পথ সুগম করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানান।

ফেনী মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত হত্যার মতো কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশে আইন-শৃঙ্খলা এবং সুবিচার নিশ্চিতে বিচার বিভাগের উন্নয়নে তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিয়েছে এবং দেশব্যাপী আদালত ভবনের সংকট নিরসন এবং বিচারকদের আবাসন নিশ্চিতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো স্থাপন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী কুখ্যাত অপরাধীদের ঝুঁকি মোকাবেলায় বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিচারকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আবাসিক কমপ্লেক্সটি নির্মিত হয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর সরকার অসহায়, দরিদ্র এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ প্রশস্ত করার জন্য আইনি সহায়তা পরিষেবা আইন-২০০০ কার্যকর করেছে।

বাংলাদেশ একটি ডিজিটাল দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলাজট ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করার জন্য ই-জুডিশিয়ারি ব্যবস্থার প্রবর্তন জরুরি।

বিচার বিভাগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মহিলা বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সর্বপ্রথম সর্বোচ্চ আদালতে একজন মহিলা বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছিল। বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে এবং প্রয়োজনীয় আদালত কক্ষের সংকট কমাতে তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ১২৮ জেলায় জেলা জজ আদালত ভবন সম্প্রসারণ করেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাসহ সুপ্রিম কোর্টের ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের জন্য এরই মধ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। সরকার এরই মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের জন্য ১২৮টি গাড়ি কেনার অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র (এসডিজি) অর্জনের জন্য তাঁর সরকার সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার মো. আলী আকবর এবং মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র দায়রা জজ হোসনে আরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং সারা দেশের নিম্ন আদালতের বিচারকরা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় । সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা