kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুপ্রিম কোর্ট ন্যক্কারজনক হট্টগোল : বিশেষজ্ঞ মত

এটা জোর খাটানোর রাজনীতি, শিষ্টাচার মানা উচিত

সুলতানা কামাল

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এটা জোর খাটানোর রাজনীতি, শিষ্টাচার মানা উচিত

আমাদের দেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি চলছে, তাতে উচ্চ আদালতে যে ঘটনা ঘটল, তা অন্ততপক্ষে আমার কাছে খুব একটা অপ্রত্যাশিত বা অস্বাভাবিক মনে হয় না। বিশেষ করে, যেই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মানীর মান থাকে না, কার সঙ্গে কে কখন কিভাবে আচরণ করবে সেই বোধটুকুও হারিয়ে যায়, অন্যায় অপশক্তির কাছে নৈতিকতার পরাজয় ঘটে, সেখানে তো এমন ঘটনা ঘটতেই পারে। অন্যদিক থেকে বললে—এসব রীতিমতো জোর খাটানোর রাজনীতির প্রতিফলন। যে যেভাবে পারে জোর খাটিয়ে কিছু একটা আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা চালায়, যেখানে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয় না। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না আমাদের এই সমাজে, এই দেশে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, আইন বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ওপর আস্থা না থাকলে যেমনটা হয়। কিন্তু এসবের দিকে না গিয়ে কিছু হলেই যে যার মতো জোর খাটানোর পথ বেছে নেয়।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক পরিবেশে যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা-মীমাংসার পথ রয়েছে। সংসদে আলোচনার সুযোগ থাকার কথা। সব কিছুর সঙ্গেই রাজনৈতিক শিষ্টাচার থাকা উচিত। শিষ্টাচার মানা উচিত। কিন্তু আমরা সব রাজনৈতিক দলের ভেতর থেকেই এমন ভদ্রতা বা শিষ্টাচারমূলক আচরণের ঘাটতি দেখছি। ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জন প্রতিপক্ষকে এমনভাবে হেয় করা, অসম্মান করা, অবজ্ঞা করার চর্চা দেখতে পাই, যেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের এমন জোর খাটানোর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে কখনোই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গণতন্ত্রের জায়গা থাকবে না।

লেখক : আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা