kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কেনাকাটায় বাড়ছে অনলাইননির্ভরতা

শাখাওয়াত হোসাইন   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেনাকাটায় বাড়ছে অনলাইননির্ভরতা

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে বিলাসবহুল গাড়ি। সবই পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। ঘরে বসে পছন্দসই পণ্যটি নিজের করে নিতে অনেক মানুষের ভরসাই এখন অনলাইন শপিং সাইটগুলো। দিন দিন বাড়ছে অনলাইনে কেনাকাটা করা গ্রাহকের সংখ্যা। বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পণ্য অনলাইনে বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন খাতটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রতিদিন ৪০ হাজারের বেশি পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ইন্টারনেটকেন্দ্রিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশের এই বাজার দখলে নিতে এরই মধ্যে বহুজাতিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোও নিয়ে এসেছে বড় বিনিয়োগ। বহুজাতিক কম্পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভার্চুয়াল বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় রয়েছে বহু দেশীয় প্রতিষ্ঠানও। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সনাতন বাজারের চেয়ে অনলাইনে কেনাকাটা বেশি হবে বলে মনে করেন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) নেতারা।

ক্রেতাদের মতে, সারা বছরই কোনো না কোনো ছাড় থাকে অনলাইন কেনাকাটার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। ব্যস্ততার কারণে সরাসরি দোকান বা বাজারে না গিয়ে ঘরে বসেই পাওয়া যায় যেকোনো পণ্য। এতে সময় এবং অর্থ উভয়ই বাঁচে। এ ছাড়া শুরুর দিকে অনলাইনে কেনাকাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এক পণ্য নিতে চাইলে দেওয়া হতো অন্যটি। কিন্তু এখন বাসায় পণ্য পাওয়ার পর অর্থ পরিশোধ করলেই হয়। আবার পণ্য পছন্দ না হলে ফেরত দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। চাল-ডাল থেকে শুরু করে বিলাসবহুল গাড়ি—সবই অনলাইনে পাওয়া যায়।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী জায়েফ নূর সাঈদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি অনলাইনেই বেশি কেনাকাটা করি। কারণ সময় বাঁচে, অর্থেও ছাড় পাওয়া যায়। তবে এখনো অনেক অনলাইন বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। আমার অনেক বন্ধু বিকাশে অগ্রিম টাকা দিয়ে অনলাইনে পণ্য কিনে ঠকেছে।’

ই-ক্যাবের তথ্য মতে, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে অনলাইন প্রতিষ্ঠান ছিল ৫০টির মতো। কিন্তু বর্তমানে ই-ক্যাবের সদস্য রয়েছে এক হাজারের বেশি। এ ছাড়া আরো এক হাজার অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করলেও অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য পদ নেয়নি। এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যবসা পরিচালনা করছে ৫০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর অনলাইনে পণ্য সরবরাহের প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২৫ শতাংশ। অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে নিজের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ এবং অ্যাপের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করে থাকে। বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে থাকে আকর্ষণীয় অফার। ই-ক্যাব জানায়, কয়েক দিন আগে একটি অফার উপলক্ষে মাত্র চার দিনে দারাজে বিক্রি হয়েছে ১২৩ কোটি টাকার পণ্য।

তবে বিদেশে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ নেটওয়ার্ক শক্ত না হওয়ার কারণে অনলাইন ক্রয়াদেশ পাওয়ার পরও তা সরবরাহ করতে সমস্যা হয়। এ ছাড়া অনলাইনে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও রয়েছে বেশ জটিলতা। বাংলাদেশে অনলাইন নীতিমালা রয়েছে; কিন্তু এখনো অনলাইন আইন নেই।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহেদ তমাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ই-কমার্স বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ইতোমধ্যে। বাংলাদেশের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা আরো সম্প্রসারণ করার জন্য সরকারের দিক থেকে আরেকটু তৎপরতা বাড়ানো উচিত।’

দারাজ ডটকমের হেড অব পিআর ও মিডিয়া কমিউনিকেশন সায়ন্তনী তিশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভুঁইফোড় অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইনে কেনাকাটা করতে ভোক্তারা অনাগ্রহী হন। এ ছাড়া অনলাইনে পণ্য বেচাকেনার জন্য এখনো সচেতনতা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি দেশে।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বিশ্ব মোড়ল ‘অ্যামাজনের’ সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যালেক্সা বিশ্বের বিভিন্ন অনলাইনের র্যাংকিং নিয়ে কাজ করে। বাংলাদেশে কাজ করা অনলাইন কেনাকাটার প্রতিষ্ঠানগুলোও অ্যালেক্সার সদস্য।

অ্যালেক্সার তথ্য মতে, অনলাইন কেনাকাটার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ‘দারাজ ডটকম’। বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের মধ্যে দারাজের অবস্থান ১২তম। এর পরেই রয়েছে বহুজাতিক কম্পানি অ্যামাজন। অ্যামাজনের অবস্থান ১৫তম। এ ছাড়া দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে বিক্রয় ডটকম। অ্যালেক্সায় সাইটটির অবস্থান ৩০তম। এ ছাড়া চালডাল ডটকম, অথবা ডটকম, প্রিয়শপ, আজকের ডিল, স্বপ্ন, মীনাক্লিক, ইভ্যালি, বাগডুম, পিকাবো এবং রকমারি রয়েছে অ্যালেক্সা তালিকায় ওপরের দিকে। প্রতিদিন কয়েক লাখ ক্রেতা এসব অনলাইন সাইটে বিভিন্ন পণ্যের খোঁজ করে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ই-কমার্সের বিস্তার ঘটছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে অনলাইন বেচাকেনায়। এই ব্যবসার সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করছে সরকার।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা