kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্লোগান চূড়ান্ত গঠনতন্ত্রে আসছে না বড় পরিবর্তন

তৈমুর ফারুক তুষার   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্লোগান চূড়ান্ত গঠনতন্ত্রে আসছে না বড় পরিবর্তন

সরকারের অগ্রযাত্রা ও জাতীয় ঐক্যের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের স্লোগান চূড়ান্ত করা হয়েছে। ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ, এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ।’ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি প্রস্তাবিত দুটি স্লোগানের মধ্যে এই স্লোগানটি চূড়ান্ত করেছেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। এ ছাড়া দলের গঠনতন্ত্রে শব্দ ও ভাষাগত কিছু পরিমার্জন ছাড়া এবার তেমন কোনো বড় পরিবর্তন আসছে না। সম্মেলন মঞ্চের আবহে থাকছে নৌকা ও পদ্মা সেতু। আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতির কাজে জড়িত কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা কালের কণ্ঠকে এমনটা জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সূত্রগুলো জানায়, ২১তম জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি তাদের কাজ গুছিয়ে এনেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে দুটি স্লোগান প্রস্তাব করা হয়েছিল। একটি ছিল—শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বৃত্তায়নমুক্ত রাজনীতি/উন্নয়নের বাংলাদেশে থাকবে না আর

দুর্নীতি। আরেকটি ছিল—শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ/এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ। এই দুটি স্লোগানের মধ্যে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় স্লোগানটি চূড়ান্ত করে দেওয়ার পর পোস্টার ছাপা হয়। এরই মধ্যে জেলা ও মহানগরগুলোয় পোস্টার পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১০ ডিসেম্বরের পর রাজধানীতে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের পোস্টার লাগানো হবে।

আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে জেলা ও মহানগর কমিটিগুলোকে পোস্টার পাঠাতে শুরু করেছি। কয়েক দিনের মধ্যে রাজধানীতে পোস্টার লাগানো হবে। প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির কাজগুলো গুছিয়ে এনেছি।’ মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটির সূত্রগুলো জানায়, এবারের সম্মেলন মঞ্চ হবে পালতোলা একটি নৌকার আদলে। সঙ্গে থাকবে পদ্মা সেতু। নৌকার পাল জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে করা হবে। সামনে থেকে দেখলে মনে হবে পদ্মা সেতুর পাশে প্রমত্ত জলরাশির ওপর পালতোলা একটি নৌকা ভেসে আছে। সম্মেলনমঞ্চ ও আশপাশের এলাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এ দেশের মানুষের মুক্তি সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এমন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হবে। সম্মেলনস্থলে থাকবে সরকারের বড় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নানা তথ্যসংবলিত ফেস্টুন। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মঞ্চ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করা হবে। সেদিন থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্মেলনস্থল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে মঞ্চ ও আশপাশের এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর হাতে চলে যাবে। এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেট অংশ নেবেন। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল শোভাযাত্রা নিয়ে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র উপকমিটির সূত্রগুলো জানায়, এবারের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন আসছে না। তবে কিছু শব্দ ও ভাষাগত পরিমার্জন আসবে। এরই মধ্যে সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্পন্ন হওয়া কিছু পরিবর্তন গঠনতন্ত্রে সংযোজন হবে। গঠনতন্ত্র অনুসারে এত দিন আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের সংগঠনের নাম ছিল আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। বর্তমানে এই সংগঠনটির নাম বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। ফলে পরিবর্তিত নামটি গঠনতন্ত্রে সংযোজন করা হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র উপকমিটির সদস্যসচিব আফজাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার গঠনতন্ত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। দু-একটি বিষয় সময়োপযোগী করা হবে। এ বিষয়ে শনিবার আমাদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পুরো দেশ থেকে আসা প্রস্তাব এবং গঠনতন্ত্র উপকমিটির সদস্যদের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করে কিছু সিদ্ধান্ত হবে। এগুলো আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাব আকারে পেশ করা হবে।’

সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জেলা ও মহানগর কমিটির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের তালিকা ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাঠাতে বলেছেন। একই চিঠিতে তিনি ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা ও মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদকদের রিপোর্ট পাঠাতে অনুরোধ করেছেন। এ ছাড়া কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের খাদ্য কুপন বাবদ এক শ টাকা জমা দেওয়া ও প্রতি ২৫ হাজার জনসংখ্যার জন্য একজন করে কাউন্সিলর নির্বাচন করতে জেলা ও মহানগর কমিটিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা