kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবন্ধী সম্পর্কে নেতিবাচক মানসিকতা বদলাতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রতিবন্ধী সম্পর্কে নেতিবাচক মানসিকতা বদলাতে হবে

জাতীয় প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স সুবর্ণ ভবন উদ্বোধন শেষে গতকাল প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখার পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পর্কে ‘নেতিবাচক মানসিকতা’ পরিহার করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে ২৮তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২১তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উদ্যাপন এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কমপ্লেক্স ‘সুবর্ণ ভবন’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অটিজম নিয়ে আমাদের দেশে কোনো সচেতনতা   ছিল না। আজকে সেই অবস্থা নেই। মানুষ এখন যথেষ্ট সচেতন। আমরা সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা মানুষের কাছে এই কথাটাই বোঝাতে চাই অটিজম বা প্রতিবন্ধিতা, এটা কোনো অসুস্থতাও না, কোনো রোগও না।’

তিনি বলেন, ‘যে বাবা-মায়ের প্রতিবন্ধী সন্তান হয় তাদের জন্য এটা একটা বিরাট কষ্টকর বিষয়। সেটা দূর করবার জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে সব থেকে যেটা প্রয়োজন আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। আমরা ছোটবেলা থেকে পড়েছি কানাকে কানা বলিয়ো না, খোঁড়াকে খোঁড়া বলিয়ো না। এই শিক্ষাটা একেবারে ছোটবেলা থেকে আমাদের স্কুলের যারা ছোট বাচ্চা তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কারণ সবাই মানুষ। সবাই  একসঙ্গে চলবে। এটা হচ্ছে সব থেকে বড় কথা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সমাজটাকে আমরা গড়ে তুলতে চাই, একটা বৈষম্যহীন সমাজ। কারণ জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। কাজেই এই স্বাধীন দেশের সকল মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। সেটাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দেশের উন্নয়ন। এই উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা প্রতিবন্ধীদের গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তারা যেন কোনো রকম পেছনে পড়ে না থাকে।’

প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৯৯৯ সালে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে। তিনি বলেন, ‘পরে আমরা তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩; নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩ এবং পুনর্বাসন কাউন্সিল আইন ২০১৮ প্রণয়ন করেছি।’

শেখ হাসিনা জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের আরো প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন, যাতে তাদের অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন না হয়। তিনি বলেন, ‘কেবল আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়, বরং এই ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সাহায্য করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু সারা দেশে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিপুল ভূমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘ওই সব স্থানে আমরা আরো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারি এবং আমরা ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে অব্যবহৃত ও পতিত জমি খুঁজে বের করে আরো প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা, এমনকি কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বলয় কর্মসূচির অধীনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতা প্রদান করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদেরকে স্টাইপেন্ড ও বৃত্তি প্রদান করছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, “৮০ কোটি টাকা খরচ করে আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা, পুনর্বাসন, গৃহায়ণ এবং বিনোদনসহ বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে ‘সুবর্ণ ভবন’ নির্মাণ করেছি।”

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় প্রতিবন্ধী বালক-বালিকাদের সাফল্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার তাদের জন্য বিভিন্ন ক্রীড়া ও খেলাধুলার ওপর বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘শিগগির এ ব্যাপারে একটি প্রকল্প অনুমোদন করার পর আমরা তাদের জন্য একটি কমপ্লেক্স নির্মাণ করব। এ ছাড়া আমরা প্রতিবন্ধী শিশুদের খেলাধুলা অনুশীলনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সে একটি স্থানের উন্নয়ন ঘটাচ্ছি।’

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে একটি পরিদপ্তরে উন্নীত করার দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা লাভবান হবে না, বরং কিছুসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা লাভবান হবেন।’ তিনি বলেন, ‘ফাউন্ডেশনকে একটি পরিদপ্তরে রূপান্তরিত করা সঠিক নয়। ফাউন্ডেশন থাকলে আর্থিক অনুদান আসবে এবং ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সেবা প্রদান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ফাউন্ডেশন থাকা জরুরি।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বিশেষ অতিথি ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিয়া ও জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি সায়েদুল হক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পক্ষে আরো বক্তব্য দেন ন্যাশনাল স্পেশালাইজড এডুকেশন সেন্টারের পঞ্চম গ্রেডের শিক্ষার্থী ফেরদৌসী আখতার। পরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবেশিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তি, সমাজকর্মী ও সংগঠন, মা-বাবা ও সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার বিতরণ করেন। সূত্র : বাসস।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা