kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুপ্রিম কোর্টে ন্যক্কারজনক হট্টগোল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



সুপ্রিম কোর্টে ন্যক্কারজনক হট্টগোল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি নিয়ে গতকাল সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামী লীগ ছবি : কালের কণ্ঠ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে আদালতকক্ষে ন্যক্কারজনক হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা মুহুর্মুহু স্লোগান দেন। বিচারপতিদের এজলাস ত্যাগের সময় ‘ধর, ধর’ বলে চিৎকার করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আদালতকক্ষে তাঁদের অবস্থান ও হট্টগোলের কারণে আপিল বিভাগের কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

এ পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন হিসেবে বর্ণনা করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা দরকার।

বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁদের কথা না শুনেই জামিনের আবেদনের শুনানির সময় এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিলে তাঁরা আইনের ভেতরে থেকে এর প্রতিবাদ করেছেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দাখিল করারও কথা ছিল। কিন্তু মেডিক্যাল বোর্ড প্রতিবেদন দাখিল না করায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময়ের আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

এর পরই বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মুহুর্মুহু স্লোগান, মাঝে মাঝে সরকার সমর্থক আইনজীবীদের প্রতিবাদের মুখে চরম হৈচৈ-হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। ফলে বিচারকাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘খালেদা, জিয়া; জিয়া, খালেদা’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এ প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতি প্রথম ধাপে এজলাস ত্যাগ করেন। পরে সোয়া এক ঘণ্টার বেশি সময় নির্বিকার এজলাসে বসে থাকেন বিচারপতিরা।

গতকাল আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, অ্যাডভোকটে জয়নুল আবেদীন, এ জে মোহাম্মদ আলী, নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ কয়েক শ আইনজীবী।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মমতাজ উদ্দিন ফকিরসহ শতাধিক আইন কর্মকর্তা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। এ সময় সরকারপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আব্দুল মতিন খসরু, এ এম আমিন উদ্দিন, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, তানজিবুল আলম, সৈয়দ মামুন মাহবুবসহ শতাধিক আইনজীবী।

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশ থেকে দলের আটজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আদালতকক্ষে হট্টগোল : গতকাল সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। শুরুতেই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ভিসি বলেছেন, রিপোর্ট প্রস্তুত হয়নি। তাই দুই সপ্তাহ সময় চাচ্ছি।’

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের একটি রিপোর্ট তো আছে। সেটা দেখতে পারেন।’

তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটা পেলেন কোথায়? এটা তো গোপনীয় প্রতিবেদন।’ জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘যেহেতু আমাদের মাথাব্যথা, তাই আমরা জোগাড় করেছি। আমরা পুরোটাই এনেছি।’ এ কথা বলে রিপোর্টের কপি বিচারপতিদের সরবরাহ করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল এই রিপোর্টের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিবেচনায় জামিন চাচ্ছি।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা রিপোর্ট চেয়েছি। আগে সেই রিপোর্ট আসুক। আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) শুনব।’

প্রধান বিচারপতির এ কথার পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা হৈচৈ জুড়ে দেন। তখন জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আপনাদের (আপিল বিভাগ) প্রতি অনেক আশা। এ কারণে বারবার আপনাদের কাছে আসি।’

এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি পরবর্তী দিন ধার্য করে আদেশ দেন। এরপর জয়নুল আবেদীন শুনানির দিন এগিয়ে রবিবার বা সোমবার করার জন্য বারবার অনুরোধ জানাতে থাকেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি আদেশ দিয়ে বলেন, ‘কোনো বিলম্ব ছাড়াই ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। ১২ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানি।’

তখন জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘তারা (রাষ্ট্রপক্ষ) সব সময় যা বলছে আপনারা সেভাবেই বিশ্বাস করছেন এবং আদেশ দিচ্ছেন। গতকাল (বুধবার) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন।’ এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ‘শেম, শেম’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। সরকার সমর্থক আইনজীবীরাও পাল্টা প্রতিবাদ জানান। শুরু হয়ে যায় হট্টগোল। এ সময় প্রধান বিচারপতি মামলা শুনতে অপারগতা জানান।

খালেদা জিয়াকে সশরীরে আদালতে হাজির করা হোক : পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের উদাহরণ টেনে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, তাঁর (নওয়াজ) শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে চিকিৎসার জন্য। ওই দেশের বিচার বিভাগের চেয়ে আপনারা শক্তিশালী। তাই আপনারাও এ রকম একটা আদেশ দিতে পারেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কথা যদি বিশ্বাস না করেন তবে একটা আদেশ দিন যে খালেদা জিয়াকে সশরীরে আদালতে হাজির করা হোক।’

এ সময় খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ‘এই অ্যাটর্নি জেনারেলের পরামর্শে সরকার চলছে। তাঁর কারণেই খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মেরে ফেলা হচ্ছে।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আগে রিপোর্ট আসুক। তখন সব হবে।’

তখন সরকার সমর্থক আইনজীবীরা চিৎকার করে ব্যারিস্টার খোকনের বক্তব্যে প্রতিবাদ জানান। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা পাল্টা হৈচৈ করতে থাকেন। প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকায় বিচারপতিরা সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে এজলাস থেকে নেমে যান। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ‘ধর, ধর’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।

আদালতকক্ষের পেছনের দিক থাকা বিএনপিপন্থী জুনিয়র আইনজীবীরা সেখানে থাকা সিনিয়র আইনজীবীদের বের হতে বাধা দেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বের হতে চাইলে তাঁকে জুনিয়ররা বসিয়ে দেয়। আদালতকক্ষ থেকে আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যপক্ষের আইনজীবীরা বের হয়ে যাওয়ার পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা পুরো আদালতকক্ষে অবস্থান নেন। তাঁরা বলছিলেন, খালেদা জিয়ার জামিন না হওয়া পর্যন্ত আদালতকক্ষ ছাড়ব না। 

বিচারপতিরা এজলাসে চুপচাপ বসে থাকেন : সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে অন্য বিচারপতিরা এজলাসে বসেন। এ সময় জয়নুল আবেদীন দাঁড়িয়ে আদালতের আগের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সে আবেদনে সাড়া দেননি। তখন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিন চাই’।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা এখন আর কিছু শুনব না। অনেক বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। এ রকম অবস্থা আমার বিচারিক জীবনে দেখিনি। এটা নজিরবিহীন।’ আইনজীবীরা আবারও হৈচৈ করেন। জয়নুল আবেদীন প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘একটু শুনুন।’ জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।’

এ সময় জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা নই। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বক্তব্য দিয়ে বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন।’ তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা কারো কথায় নয়, কাগজ দেখে বিচার করব।’

তখন খালেদা জিয়ার অন্য আরো কয়েকজন আইনজীবী কথা বলতে চাইলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সিনক্রিয়েট করবেন না। সব কিছুরই একটা সীমা আছে।’

অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার নামের এক জুনিয়র আইনজীবীও জোড়হাত করে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে এ আইনজীবী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমাকে কারাগারে পাঠিয়ে ম্যাডামকে জামিন দিন।’

দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আরেকটি মামলা শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ওই সময় বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবীরা আদালতকক্ষ থেকে বের হতে চাইলে জুনিয়র আইনজীবীরা বাধা দেয়। এরই মধ্যে আদালতে উপস্থাপন করা মামলা শুনানি করতে শুরু করেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। কিন্তু বিএনপপন্থী আইনজীবীরা বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো মামলা শুনানি হবে না। এ সময় ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ‘আমরা শুনানি করব।’ অন্যদিকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। প্রায় ২০ মনিটি ধরে আজমালুল হোসেন শুনানির চেস্টা করেন। কিন্তু বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের স্লোগান, হৈচৈ, চিৎকারের কারণে তাঁর শুনানি বাধাগ্রস্ত হয়। ১২টা ৫ মিনিট থেকে তিনি আর শুনানি করতে পারেননি। তখন থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত তিনি ডায়াসে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকেন। অন্যদিকে বিচারপতিরা এজলাসে চুপচাপ বসে থাকেন।

মওদুদ আহমদকে বাধা বিএনপিপন্থী জুনিয়র আইনজীবীদের : এ অবস্থার মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আদালতকক্ষ থেকে বের হতে চাইলে বিএনপিপন্থী জুনিয়র আইনজীবীরা বাধা দেন। জুনিয়র এক আইনজীবীকে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যাওয়ার কথা বলে শেষ পর্যন্ত বের হতে পারেন। তবে কিছুক্ষণ পর আবার আদালতকক্ষে ফিরে আসেন।

চকোলেট-শিঙাড়া বিতরণ : গতকাল প্রথম দফায় বিচারপতিরা এজলাস থেকে নেমে গেলে ব্যারিস্টার খোকন বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে চকোলেট বিতরণ করেন। এর কিছুক্ষণ পর শিঙাড়া আনা হয়। তাঁরা আদালতকক্ষে বসেই শিঙাড়া খান। বিএনপির আইনজীবীরা চকোলেট মুখে আদালতকক্ষে অবস্থান করার পাশাপাশি হট্টগোল সৃষ্টি করেন। এজলাস থেকে নেমে যাওয়ার সময় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘সব কিছুর সীমা থাকা উচিত। আপনারা এজলাসকক্ষে যে আচরণ করেছেন, তা নজিরবিহীন।’

সেই প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ব্যর্থতার জন্য তাদের বিষ খাওয়া উচিত, চকোলেট নয়। বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করা উচিত।’ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি বলেন, ‘আজ খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য কোর্টকে জিম্মি করেছে বিএনপি।’

পাল্টাপাল্টি মিছিল : উভয় পক্ষের আইনজীবীরা চুপচাপ সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবন থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু আইনজীবী সমিতি ভবনে ঢুকতেই সরকার সমর্থক ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আলাদাভাবে মিছিল করেন।

সরকার ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বক্তব্য : গত ১২ বছরের মধ্যে এই প্রথম দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এই ধরনের নজিরবিহীন ঘটনার জন্য সরকার সমর্থক আইনজীবী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতারা পরস্পরকে দায়ী করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে দুই পক্ষই সংবাদ সম্মেলন করে।

সরকার সমর্থক আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন তাঁদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিনউদ্দিন ও পরিষদের সদস্যসচিব ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। তাঁরা বলেছেন, যাঁরা আদালতের বিচারকাজে বাধার সৃষ্টি করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য আপিল বিভাগের তালিকাভুক্ত আইনজীবী ছাড়া অন্যদের প্রবেশের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা যে আচরণ করেছেন, তা অভাবনীয়। নজিরবিহীন। বিচারকাজে বাধা সৃষ্টি করে ফ্যাসিবাদী আচরণ করেছে।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও জয়নুল আবেদীন। তাঁরা বলেছেন, তাঁরা জানতে পেরেছেন যে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল ও সরকারের কারণে এই প্রতিবেদন দাখিল করেনি বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। তাঁরা বলেন, আজকের এই ঘটনার দায়-দায়িত্ব অ্যাটর্নি জেনারেলের। আজকের ঘটনা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায়।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ গত ২৮ নভেম্বর এক আদেশে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে জানাতে বিএসএমএমইউর উপাচার্যকে নির্দেশ দেন। আদালত গতকাল খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য করেছিলেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বছর ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে সাত বছর কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এরপর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে জামিনের আবেদন করা হয়। হাইকোর্ট গত ৩১ জুলাই জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। এই খারিজের রায়ের বিরুদ্ধে গত ১৪ নভেম্বর আপিল করেন খালেদা জিয়া।

সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালত মিলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন ১৭টি মামলা বিচারাধীন। এ পর্যন্ত দুটি মামলায় (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা) তাঁর ১৭ বছর সাজা হয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন। আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর সাজার বিরুদ্ধে করা আপিলটিও আপিল বিভাগে বিচারাধীন। ওই দুই মামলায় জামিন পেলেই মুক্তি পেতে পারেন খালেদা জিয়া। তিনি বর্তমানে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের প্রিজন সেলের কেবিনে চিকিৎসাধীন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা