kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট

একাত্তরে দেশ বিদেশে একটাই স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একাত্তরে দেশ বিদেশে একটাই স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা’

“একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশ-বিদেশে সব স্বাধীনতাকামী বাঙালির একটাই স্লোগান ছিল, ‘জয় বাংলা’। শুধু বাঙালি নয়, কিছু পাকিস্তানি কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিও তখন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন। এ কারণে তখন তাঁদের কারাবরণও করতে হয়।”

‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনের ওপর শুনানিকালে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এমন মন্তব্য করেন। আদালত এই আবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সময় নির্ধারণ করেছেন।

রিট আবেদনকারী ড. বশির আহমেদ গতকাল নিজেই শুনানি করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু, মো. শাহ আলমসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার রিট আবেদন সমর্থন করে শুনানি করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. বশির আহমেদের করা এক রিট আবেদনে ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ, আইন ও শিক্ষা সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এরপর ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর এক আদেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে সরকারের বক্তব্য ও রাষ্ট্রীয় নীতি জানতে চাওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দুই বছর আগে জারি করা রুলের ওপর গতকাল শুনানি হয়।

শুনানিতে ড. বশির আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বের ১৬৩টি দেশে তাদের জাতীয় স্লোগান আছে। তাই আমরা বাংলাদেশেও জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান বা মোটো (মূলমন্ত্র) হিসেবে ঘোষণার নির্দেশনা চাচ্ছি।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘এটা সরকারের নীতিনির্ধারণের বিষয়। এ জন্য জাতীয় সংসদকে আইন করতে হবে। আমরা জাতীয় সংসদকে আইন করার নির্দেশ দিতে পারি না। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের রায় আছে।’

ড. বশির আহমেদ বলেন, নির্দেশনা না দিতে পারলে আদালত অভিমত প্রকাশ তো করতে পারেন।

এ সময় আদালত রিট আবেদনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জানতে চান। জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আমরা এই রিট আবেদনকে সমর্থন করি। আমাদের সংবিধানে জাতীয় প্রতীক, জাতীয় সংগীত, রাষ্ট্রীয় ধর্মসহ বিভিন্ন জাতীয় বিষয় নিয়ে বলা হয়েছে, কিন্তু জাতীয় স্লোগান নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা নেই। যদিও সংবিধানের ১৫০ (২) নম্বর অনুচ্ছেদে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণ সন্নিবেশিত হয়েছে। সেখানে শেষ অংশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান যুক্ত আছে। তাই আমাদেরও এ বিষয়টি সুনির্দিষ্ট হওয়া দরকার।”

এর আগে ৭ই মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণা চেয়ে করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানিকালে ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর আদালত বলেছিলেন, “ভারতে একজনের সঙ্গে আরেকজনের দেখা হলে তারা ‘জয় হিন্দ’ বলে সম্বোধন করেন। অথচ আমাদের এখানে সেটা নেই। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ‘জয় বাংলা’ বলা হতো, কিন্তু এখন এটা (জয় বাংলা) বললে বলা হয় যে ওটা তো একটি রাজনৈতিক দলের স্লোগান।” আদালতের এ মন্তব্যের ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ডিসেম্বরে ড. বশির আহমেদ এই রিট আবেদন করেন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা