kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ

দুদকের হানা, টেন্ডারের কাগজপত্র জব্দ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুদকের হানা, টেন্ডারের কাগজপত্র জব্দ

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার কেনাকাটায় দুর্নীতির তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের একটি দল দীর্ঘ সময় ধরে ক্রয় করা জিনিসপত্র খতিয়ে দেখেছে। বিভিন্ন মালের ছবিও উঠিয়ে নেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় টেন্ডারের বেশ কিছু দলিল জব্দ করেন তাঁরা।

জানা গেছে, দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে পাওয়া অভিযোগ এবং সংবাদমাধ্যমে প্রাপ্ত খবরের ওপর ভিত্তি করে হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নেয় দুদকের প্রধান কার‌্যালয়। পরে প্রধান কার‌্যালয় থেকে হবিগঞ্জ দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল অভিযান চালায় দুদকের দলটি।

অভিযানের নেতৃত্বদানকারী হবিগঞ্জ দুদকের সহকারী পরিচালক এরশাদ মিয়া বলেন, ‘প্রধান কার‌্যালয়ের নির্দেশে আমরা প্রাথমিক তদন্তে এসেছি। ক্রয় করা মালামালের দর সম্পর্কে বাজারে যাচাই করা হবে। পরবর্তী সময়ে দুর্নীতির প্রমাণ ও কমিশনের অনুমতি পেলে বিস্তারিত তদন্ত করবে দুদক। এটা আমাদের প্রাথমিক পদক্ষেপ। আর বিস্তারিত তদন্তের পর এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হবে।’

তবে অভিযানকালে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আবু সুফিয়ান এবং দরপত্র প্রস্তাব ও মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিব ডা. নাসিমা খানম ইভাকে খুঁজে পায়নি দুদক। এ সময় মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোলায়মান মিয়া ও প্রভাষক ডা. রোজিনা রহমানকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন দুদক কর্মকর্তারা।

দুদক হবিগঞ্জের সহকারী উপপরিচালক আব্দুল মালেক, উপসহকারী পরিচালক আব্দুল মোতালেব ও কনস্টেবল মো. ছদরুল আমীনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে নব প্রতিষ্ঠিত শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের কেনাকাটায় অনিয়ম তদন্ত করতে গত সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব (নির্মাণ ও মেরামত অধিশাখা) মো. আজম খানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মেডিক্যাল কলেজটির দায়িত্বশীল কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, দুদকের দলটি দুই ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে। এ সময় তাদের টেন্ডারের কার‌্যাদেশ, বিলের কপি, কমিটির কপি ও শিডিউল বিক্রির কপি প্রদান করা হয়। অধ্যক্ষের কাছে চাবি না থাকায় টেন্ডারের সাতটি গ্রুপের বিস্তারিত কাগজ প্রদান করা সম্ভব হয়নি। দলটি আলমারি, কনফারেন্স রুমের চেয়ার, র‌্যাক পরিদর্শন করে ও ছবি তুলে নেয়। তারা এসিগুলোও খুঁটিয়ে দেখে। তবে চাবি না থাকায় লাইব্রেরি ও ল্যাপটপ রুম দেখানো সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে প্রতিষ্ঠিত ওই মেডিক্যাল কলেজে ল্যাপটপ, প্রিন্টার, চেয়ার ও সাউন্ড সিস্টেমসহ প্রয়োজনীয় আসবাব বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে। একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর বছরে এ ধরনের অভিযোগকে কলেজটির এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পরই মন্ত্রণালয় তদন্তের উদ্যোগ নেয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ শহরের নিউফিল্ড মাঠে আওয়ামী লীগের বিশাল জনসভায় হবিগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বঙ্গবন্ধুকন্যার নামে কলেজটির নামকরণ করা হয়। এরপর ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি ৫০ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস শুরুর মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের।

তবে হবিগঞ্জবাসী ও আশপাশের জেলার মানুষের মনে বিপুল আশার সঞ্চার করে যাত্রা শুরু করা শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর বছরেই বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ান ১৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮১ হাজার ১০৯ টাকার টেন্ডার ভাগ-বাটোয়ারা করেন। সেখানে বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বাড়তি দামে জিনিসপত্র কিনে নিট বরাদ্দের বড় অংশই পকেটস্থ করা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা