kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

জলবায়ু পরিবর্তনরোধী আন্দোলন

দেশের জন্য সোচ্চার বাংলাদেশের ‘গ্রেটা’ রেবেকা শবনম

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের জন্য সোচ্চার বাংলাদেশের ‘গ্রেটা’ রেবেকা শবনম

মাত্র ছয় বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায় রেবেকা শবনম। গত ১০ বছরে দেশের স্মৃতি তার অন্তর থেকে ম্লান তো হয়ইনি বরং দেশের কল্যাণের ভাবনায় তার পরিকল্পনা দৃঢ়তর হয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অত্যন্ত সপ্রতিভ ষোড়শী রেবেকা। আর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সে জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকি ও তা মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

স্পেনের মাদ্রিদে চলছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের অধিকার আদায়ে ওই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একদিকে বাংলাদেশ সরকারের হয়ে প্রধানমন্ত্রী যেমন চেষ্টা করে যাচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনি আন্দোলনকারীদের কাতারে থেকে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রেবেকা। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সে ম্যানহাটানে প্রায় দুই লাখ মানুষের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনরোধে সোচ্চার সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থানবার্গের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ম্যানহাটানে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের সামনের সারিতে ছিল রেবেকা শবনম। তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

বর্তমানে নিউ ইয়র্কে বসবাসরত শবনমের চেষ্টা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সে বিষয়ে সবাইকে জানানো। নিউ ইয়র্কে হাজারো মানুষের সামনে সে বলেছে, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, যা জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।’ বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে সে।

আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেবেকা বলে, ‘ভেবেছিলাম, যখন বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হবে তখন সবাই চুপ থাকবে। তবে সবার সাড়া দেখে আমি নিজেই অবাক। এটা শুধু পরিবেশগত সংকট না, এটা মানবাধিকার সংকটও। বাংলাদেশের নারীরা পাচারের শিকার হয়। আর এটা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আরো বেড়েছে। আমরা বাংলাদেশে থাকা নারী ও রোহিঙ্গাদের জানাতে চাই, তাদের জীবনের জন্য বিশ্বজুড়ে আন্দোলন করছি আমরা।’

রেবেকা আশা করছে, এবারের জলবায়ু সম্মেলনে আরো জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সে বলে, ‘আমরা চাই, এই সম্মেলনে যেন শুধু প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নোট নেওয়া না হয়। বরং জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধে যেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারসহ উন্নয়নের নামে পরিবেশবিধ্বংসী প্রবণতা বজায় রাখা হলে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশ। সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়বে দেশের নারী, শিশু ও রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। ভয়াবহ ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের নারী, শিশু ও রোহিঙ্গাদের জন্য কিভাবে সুবিচার নিশ্চিত করা যায়, সেটাই রেবেকার চিন্তার মূল বিষয়। আলজাজিরাকে সে জানিয়েছে, জলবায়ু আন্দোলনে বাংলাদেশের কথা কেউ যেন ভুলে না যায়, তা নিশ্চিত করতে লড়াই চালিয়ে যাবে সে। সূত্র : আলজাজিরা।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা