kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

ওয়াসার বক্তব্য হাইকোর্টে খারিজ

বুড়িগঙ্গায় স্যুয়ারেজ লাইন বন্ধের দায়িত্ব ওয়াসার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বুড়িগঙ্গায় স্যুয়ারেজ লাইন বন্ধের দায়িত্ব ওয়াসার

ওয়াসার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সোমবার হাইকোর্টকে জানানো হয়েছিল, বুড়িগঙ্গা নদীতে ৬৭টি প্রধান আউটলেট (স্যুয়ারেজ লাইন) পতিত হয়েছে, তার মধ্যে ঢাকা ওয়াসার মাত্র ১৬টি। ওয়াসার এমডির নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে দাখিল করা ওই প্রতিবেদন আদালত গ্রহণ না করে ক্ষোভ প্রকাশ করলে গতকাল মঙ্গলবার তা প্রত্যাহারের আবেদন করেন ওয়াসার আইনজীবী। এরপর আদালত ওয়াসার প্রতিবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন। নতুন হলফনামা দাখিলের জন্য ওয়াসা সময় চায়। আদালত ওয়াসার বিষয়ে আগামী ৮ ডিসেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

আদালত বলেছেন, ভূমি বা রাস্তার উপরিভাগের ড্রেন বাদে বুড়িগঙ্গায় যে ৬৮টি স্যুয়ারেজ লাইন বা ড্রেনেজ পড়েছে তা বন্ধ করার দায়িত্ব ওয়াসার। বুড়িগঙ্গার পানি দূষণমুক্ত রাখার স্বার্থেই এসব স্যুয়ারেজ লাইন ওয়াসার বন্ধ করা উচিত।

আদালত বুড়িগঙ্গার দুই পারে ৬৮টি স্যুয়ারেজ লাইনের বাইরে যদি আরো কোনো ড্রেন বা স্যুয়ারেজ লাইন থেকে থাকে তবে তা ৭ জুনয়ারির মধ্যে বন্ধ করতে বিআইডাব্লিউটিএকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া আদালতে দাখিল করা ২৭টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া আর কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে কি না তার তালিকাও দাখিল করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ  ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

আদালতে ওয়াসার পাশাপাশি বিআইডাব্লিউটিএর আইনজীবীও সময়ের আবেদন জানান। ওয়াসার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার এ এম মাছুম। বিআইডাব্লিউটিএর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মফিজুর রহমান। রিট আবেদনকারী মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমাতুল করিম।

বিভিন্ন সময় শুনানিতে ওয়াসার আইনজীবী এ এম মাছুম উপস্থিত না থেকে জুনিয়রকে পাঠানোর ঘটনায় হাইকোর্ট তাঁকে তিরস্কার করেছেন। আদালত বলেছেন, সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে ফি নিয়ে নিজে উপস্থিত না থাকা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

গত ১৮ জুন ওয়াসার দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুড়িগঙ্গায় ওয়াসার কোনো স্যুয়ারেজ লাইন নেই। কিন্তু এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন এলাকায় ৬৮টি স্থান দিয়ে দূষিত বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫০টি ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইন। এই দুই প্রতিবেদন দেখার পর গত ১৭ নভেম্বর ওয়াসার এমডিকে শোকজ করেন হাইকোর্ট। শোকজ নোটিশে আদালতের আদেশ অমান্য করা এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। ১৫ দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়। এ অবস্থায় ওয়াসার এমডির জবাব গত সোমবার হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। এতে বলা হয়, বুড়িগঙ্গায় ৬৭টি স্থান দিয়ে বর্জ্য পড়ছে। তার মধ্যে ওয়াসার লাইন ১৬টি। তাতে ২০১১ সালে হাইকোর্টের দেওয়া রায় যথাযথ বাস্তবায়ন না করায় নিঃশর্ত ক্ষমা চান। ওয়াসার এই দুই ধরনের প্রতিবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।

গতকাল শুনানিতে মনজিল মোরসেদ মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় ওয়াসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবেদন জানালে আদালত বলেন, ওয়াসার এমডিকে শাস্তি দিলে বা তাঁর চাকরি গেলে তো বুড়িগঙ্গার পানি বিশুদ্ধ হয়ে যাবে না। তাই আমরা দেখতে চাই তিনি আদালতের নির্দেশনার আলোকে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন। যেহেতু আজ (মঙ্গলবার) শুনানিতে ওয়াসার আইনজীবী উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে তাঁদের দেওয়া বক্তব্য সঠিক হয়নি। তাই তিনি তা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছেন। তাই তাঁদের প্রতিবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করা হলো।

এইচআরপিবির করা এক রিট মামলায় হাইকোর্ট ২০১১ সালে এক রায়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর থেকে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া নদীর পানি যাতে দূষিত না হয় সে জন্য সব ধরনের বর্জ্য ফেলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখনো কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে তরল বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা নদীর পানিকে দূষিত করছে। বিষয়টি এইচআরপিবির পক্ষ থেকে আদালতের নজরে আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুনানি হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা