kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

ব্যর্থ হলে নতুন প্রজন্ম ক্ষমা করবে না

দুর্নীতি-সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ব্যর্থ হলে নতুন প্রজন্ম ক্ষমা করবে না

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৫, যা চলবে আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সম্মেলনে ২০০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। সম্মেলনস্থলে পৌঁছলে তাঁকে স্পেনের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো সানচেজ অভ্যর্থনা জানান। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এখন থেকেই কাজ শুরু করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যর্থ হলে নতুন প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।’

গতকাল সোমবার ফেরিয়া দা মাদ্রিদে ‘অ্যাকশন ফর সারভাইভাল : ভালনারেবল নেশনস কপ-২৫ লিডার্স সামিট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তাহলে তারা ক্ষমা করবে না। প্রতি মুহূর্তে আমাদের নিষ্ক্রিয়তা পৃথিবীর প্রতিটি জীবিত মানুষকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এখনই সময় কাজ করার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বের জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা। এটি এখন মানুষের জীবন ও পরিবেশ, বাস্তুশাস্ত্র এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। ১৯৯২ সালে আর্থ সামিটের পর থেকে আমরা গ্রিনহাউস গ্যাস হ্রাসে খুব বেশি অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি, এর নির্গমন এখনো বেড়ে চলেছে।’

মিয়ানমার থেকে নির‌্যাতনের মুখে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কারণে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নানাভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে পরিবেশ বিপর্যয়ের সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতাও আমাদের হয়েছে। সুতরাং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, এর প্রভাব এবং মোকাবেলার সক্ষমতা অভাবের ওপর ভিত্তি করে দুর্বল দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নিয়মিত সমর্থন এবং আলাদাভাবে উন্নয়ন তহবিল রাখতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘অভিবাসনের ক্ষেত্রে আমরা একটি কার্যকর অভিযোজন কৌশলের প্রতি আমরা গুরুত্ব দিই, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে চাই। স্থান হারানো মানুষের পুনর্বাসন এবং সুরক্ষার প্রতিও বিশ্বের নজর দেওয়া উচিত।’

জলবায়ু অভিবাসীদের দায়িত্ব নিন : বিশ্বসম্প্রদায়কে জলবায়ু অভিবাসীদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমাদের লোকেরা আমাদের কোনো দোষের জন্য বাস্তুচ্যুত হবে না, তাই আমরা আশা করি যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের থাকার ব্যবস্থা ও জীবিকা নির্বাহের দায়িত্ব বহন করবে।’

গতকাল মাদ্রিদে কপ-২৫-এর সাধারণ গোলটেবিল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘ন্যাশনাল প্ল্যান টু ইনক্রিজ অ্যাম্বিশন বাই-২০২০’, যার অর্থ দাঁড়ায় ২০২০ সালকে সামনে রেখে জাতীয় পরিকল্পনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১০০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক অবদানসহ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সব অর্থায়ন চুক্তি অনুসারে ক্ষতিপূরণ অনুসারে হতে হবে।’ তিনি বলেন, কনভেনশন এবং প্যারিস চুক্তি অনুসারে বিশেষ পরিস্থিতি এবং এলডিসির প্রয়োজন অনুযায়ী ‘বিশেষ করে হুমকির মুখে থাকা দেশগুলোর’ সাধারণ তবে পৃথক দায়বদ্ধতার নীতিকে স্বীকৃতি দেয় এবং জলবায়ু সংক্রান্ত অর্থায়নের প্রতিটি বিতরণব্যবস্থায় এ স্বীকৃতি মেনে চলতে হবে।

স্পেনের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেন শেখ হাসিনা। তিনি এর আগের ডাচ্ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। স্থানীয় সময় গতকাল বিকেলেই স্পেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং সন্ধ্যায় রাজপ্রাসাদে স্পেনের রাজা ও রানি আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার কথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর।

দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে : এদিকে স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় মাদ্রিদের ভিলা ম্যাগনা হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবর্ধনার আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানে তিনি সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, সমাজের এই ‘অসুস্থতা’ নির্মূল করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অসৎ পথে থেকে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে সৎ পথে থেকে নুন-ভাত খাওয়া অনেক ভালো। আমরা জাতির জনকের কাছ থেকে এই শিক্ষা পেয়েছি। আমাদের নতুন প্রজন্মকে এই শিক্ষা দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আগামী বছর সিভিএফ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বছর ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল মাদ্রিদে সাংবাদিকদের জানান, ‘কপ-২৫ নামে পরিচিত ২৫তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে মার্শাল আইল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট হিলডা হেইনির এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘সবাই যদি চায়, আমি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছি।’

মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করুন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে নেদারল্যান্ডস সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এ কে আব্দুল মোমেন প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের শুনানিতে যোগ দিতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি আপনাদের দেশ সফর করবেন। সে সময় নেদারল্যান্ডসের উচিত হবে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা।’ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিমও উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস, ইউএনবি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা