kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

বিআইডিএসের জরিপ

ঢাকায় বায়ু দূষণজনিত রোগে ভুগছে ১১% মানুষ

বিষণ্নতায় আক্রান্ত ৭১%

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকায় বায়ু দূষণজনিত রোগে ভুগছে ১১% মানুষ

ঢাকায় বসবাসরত মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ বায়ুদূষণজনিত রোগে ভুগছে। এর মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ৮ শতাংশ। এ ছাড়া সরাসরি বায়ুদূষণজনিত কারণ নয়, কার্ডিয়াক সমস্যায় ভুগছে ৮ শতাংশ আর ক্যান্সার আক্রান্তের হার ১.৩ শতাংশ। বায়ুদূষণ পরোক্ষে এ দুটি রোগে আক্রান্ত হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আর রাজধানীতে ৭১ শতাংশ মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে। এ ছাড়া ৬৮ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে জরিপ প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন বিআইডিএসের গবেষক মিতালী পারভীন। মূল প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে একজন মানুষ ২২ মাস আগে মারা যায়। বায়ুদূষণ না থাকলে ২২ মাস বেশি বাঁচতে পারত ওই মানুষ। ঢাকায় ৯৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩১ ওয়ার্ডকে বাছাই করে বিআইডিএস। প্রতিটি ওয়ার্ডের ১০০টি খানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সে হিসাবে জরিপটি করতে তিন হাজার ১০০ খানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিআইডিএস আয়োজিত দুই দিনের সম্মেলনের গতকাল ছিল শেষ দিন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা দেশে আয়বৈষম্য বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আইএলওর সাবেক স্পেশাল অ্যাডভাইজর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ এখন উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে; কিন্তু সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। প্রবৃদ্ধি এখন গোলকধাঁধায় পরিণত হয়েছে। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাংলাদেশে বৈষম্য বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়া তাদের দেশে প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে; সঙ্গে অসাম্য কমিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রাজিলেও প্রবৃদ্ধি বেড়েছে; কিন্তু বৈষম্য কমানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৈষম্যও বাড়ছে। এটা উদ্বেগজনক।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘বৈষম্যের কারণে প্রবৃদ্ধির ঢেউ ক্ষতি হতে পারে। বৈষম্য প্রবৃদ্ধিতে ছায়া ফেলতে পারে কি না সে বিষয়ে চিন্তা রয়েছে। প্রবৃদ্ধির সুফল সামাজিকভাবে সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। ভর্তুকি, কর রেয়াতসহ সরকারের বিভিন্ন সুবিধা বিতরণের সমস্যা আছে। কিভাবে ফাঁকফোকর বন্ধ করা যায় সে বিষয়ে আপনারা পরামর্শ দেবেন। ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আশা করি, বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সূচকের পরিবেশ উন্নত হবে।’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। তাই বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর আগামী পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। প্রতিবছর ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে আবার শোভন কর্মসংস্থান তৈরি আরো চ্যালেঞ্জ। দেশের প্রবৃদ্ধির হার আরো বাড়ানো সম্ভব যদি নীতি ও পরিকল্পনা ঠিকভাবে করা যায়।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এরই মধ্যে দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এগুলো হয়েছে বিভিন্ন খাতে কাঠামোগত সংস্কারের কারণে। শিল্প খাত, কৃষি খাত, ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন খাতে কিছু না কিছু সংস্কার হয়েছে; যার ফল পাওয়া যাচ্ছে। এই ধারা ধরে রাখতে হলে পরিবহন, তথ্য-প্রযুক্তি ও শিল্পসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করা এবং কাঠামোগত সংস্কার চলমান রাখতে পারলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়তে পারে। তিনি বলেন, অবকাঠামো ও দক্ষ জনশক্তিসহ বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে উন্নয়নের নতুন দুয়ার খুলে যেতে পারে। ২০৪১ সালে উন্নত দেশে যেতে হলে মূল দুটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। একটি হচ্ছে প্রবৃদ্ধি অর্জন। প্রবৃদ্ধি হবে উন্নয়নের চাকা আর এই চাকা সচল রাখতে চালক হবে সুশাসন। বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন বলেন, আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে মানবসম্পদ উন্নয়ন করতেই হবে। এ ছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতি উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আগামী ১০ বছর যদি ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যায়, তাহলে দারিদ্র্য নিরসন সম্ভব। বলতে গেলে দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা যাবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা