kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাক্ষাৎকার

এবার প্রবীণদের অনেককে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে

কাজী জাফর উল্যাহ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য

৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



এবার প্রবীণদের অনেককে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে

কাজী জাফর উল্যাহ। তিনি আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি অর্থ উপকমিটির চেয়ারম্যান। সাবেক সংসদ সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর প্রভাবশালী সদস্য। আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি, নেতৃত্ব নির্বাচন, সরকারের শুদ্ধি অভিযান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা, ১৪ দলের সঙ্গে টানাপড়েন ইত্যাদি বিষয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন তৈমুর ফারুক তুষার।

 

কালের কণ্ঠ : আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে। সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি কেমন? এবারের সম্মেলনে ব্যয় কেমন হতে পারে?

কাজী জাফর উল্যাহ : আমাদের সম্মেলন প্রস্তুতি খুব সুন্দরভাবে চলছে। এরই মধ্যে সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন সফলভাবে শেষ হয়েছে। আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২০ ও ২১ ডিসেম্বর। সম্মেলনের খরচ যাতে কম হয়, তার জন্য আমরা একই মঞ্চে সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন করেছি। একই মঞ্চে আমাদের সম্মেলনও হবে। খুব সুশৃঙ্খলভাবে আমাদের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

 

কালের কণ্ঠ : সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আছে কি?

কাজী জাফর উল্যাহ : সভাপতি পদে পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাদের চাওয়া—শেখ হাসিনাই থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি। অন্য সব পদেই পরিবর্তন হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট করে এ কথা বলতে পারি না—হবেই। আবার এটাও বলতে পারি না—হবে না।

 

কালের কণ্ঠ : শোনা যাচ্ছে, এবারের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় পরিবর্তন আসন্ন। আসলেই কি বড় পরিবর্তন আসছে? কোন কারণগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হচ্ছে?

কাজী জাফর উল্যাহ : হতে পারে। আমরা দেখেছি, নেত্রী জাতীয় নির্বাচনের পর যখন মন্ত্রিসভা করেন তখন সিনিয়র লিডার যাঁরা ছিলেন, তাঁদের প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ বাদ পড়েছে। এবারও বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছি, জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে অনেক বড় পরিবর্তন আসবে। প্রবীণদের অনেককে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। নবীনদের জায়গা দিতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : বঙ্গবন্ধুর পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের কাউকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দেখার সম্ভাবনা আছে কি?

কাজী জাফর উল্যাহ : এখন পর্যন্ত আমরা এ ধরনের কোনো ইঙ্গিত পাইনি।

 

কালের কণ্ঠ : তৃণমূলে জেলা, মহানগর, উপজেলায় বর্ধিতসভা ও সম্মেলনের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন। এগুলো সামাল দিতে আপনারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

কাজী জাফর উল্যাহ : জেলায় একটু প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। এটা কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার না। কারণ পোস্ট-পদবি সবাই চায়।

 

কালের কণ্ঠ : এগুলো কিভাবে সামাল দিচ্ছেন?

কাজী জাফর উল্যাহ : ইউনিয়নে হলেও আওয়ামী লীগ, জেলায় হলেও আওয়ামী লীগ। আমরা চেষ্টা করি যাতে দূরত্বটা কমিয়ে আনা যায়। একেকটা পদে দেখা যায় চার-পাঁচজন প্রার্থী। বড় পদ দেওয়া যাবে মাত্র দুটি। দেখা যায় ছয়জন সভাপতি, পাঁচজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। এমন পরিস্থিতিতে আমরা বোঝানোর চেষ্টা করি, এখানে না পারলে অন্যখানে আপনাকে দেব। সমন্বয় করে আমরা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।

 

কালের কণ্ঠ : আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন নেতৃত্বে আসা কারো কারো বিরুদ্ধে নানা অপকর্মে যুক্ত থাকার বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে। আপনি কি মনে করেন এমন নেতৃত্ব দিয়ে সংগঠনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার সম্ভব?

কাজী জাফর উল্যাহ : ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের বিশাল চ্যালেঞ্জ সামনে। যে কমিটিগুলো হয়েছে, প্রতিটিতে আগে যাঁরা ছিলেন তাঁরা বাদ পড়েছেন। শুধু যে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক বাদ পড়েছেন এমন নয়, মূল যে কমিটি ছিল, সেখানেও পরিবর্তন হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : সরকারের তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার কারণ কী কী?

কাজী জাফর উল্যাহ : বিষয়টি আমাদের দলীয়ভাবেই ঠিক করা হয়েছে। নেত্রী সেই সিদ্ধান্তের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে এই শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন।

 

কালের কণ্ঠ : সরকারের শুদ্ধি অভিযানে এখন পর্যন্ত নানা অপকর্মে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতাকে ধরা হয়নি। তাঁদের ধরার সম্ভাবনা আদৌ আছে কি?

কাজী জাফর উল্যাহ : অবশ্যই আছে। এ ব্যাপারে আমাদের নেত্রীর মুখেই সরাসরি শুনেছেন। তিনি বলেছেন, কেউ-ই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কাউকে তিনি ছাড় দেবেন না। আমরাও মনে করি, নেত্রীর যে সিদ্ধান্ত সেটাই করা উচিত। কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত না।

 

কালের কণ্ঠ : আসছে জানুয়ারিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কথা শোনা যাচ্ছে। দুই সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে কি?

কাজী জাফর উল্যাহ : সম্মেলনের কারণে এখন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কাজ করার সময় পাচ্ছি না। জাতীয় সম্মেলনের পর আমরা সিটি করপোরেশন নিয়ে কাজ করব।

 

কালের কণ্ঠ : আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা সরকারের নানা সমালোচনা করছেন। শরিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্বের বিষয়টিও প্রকাশ্য। শরিকদের সঙ্গে দূরত্বের কারণগুলো জানতে চাই।

কাজী জাফর উল্যাহ : বাস্তব হচ্ছে, আমাদের শরিক দলের যাঁরা আছেন, গত সরকারের সময় আমরা তাঁদের মন্ত্রিত্বের সুযোগ দিয়েছি। এবার সে সুযোগটা হয়নি। এতে অনেকে মন্ত্রী হতে না পেরে হয়তো একটু অসন্তুষ্ট, মনঃক্ষুণ্ন। তবে আমি মনে করি, আমাদের শরিক দলগুলো আমাদের সঙ্গেই আছে। আমরা তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করি, তাদের কথাগুলো শুনি, সেগুলো নেত্রীর কাছে উপস্থাপন করি।

 

কালের কণ্ঠ : অনেকে বলেন, দমন-পীড়নের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোকে কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় তো শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তা আছে। আপনি কী মনে করেন?

কাজী জাফর উল্যাহ : আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সংসদীয় গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকতেই হবে। সেই স্বার্থেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ছাড় দিয়ে দিয়ে আমরা বিরোধীদের সুযোগ দিয়েছি। শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন, তিনি যা বলেন, তা-ই করেন।

 

কালের কণ্ঠ : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি আইনগত বিষয়। কিন্তু অনেকে বলেন, খালেদার মুক্তি আটকে আছে রাজনৈতিক ফায়সালা না হওয়ায়। আপনার মন্তব্য জানতে চাই।

কাজী জাফর উল্যাহ : আপনি ঠিকই বলেছেন, এটা আইনগত বিষয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক দিকটাও গুরুত্বপূর্ণ। অত্যন্ত দুঃখজনক, বিএনপি নেতারা এখন পর্যন্ত তাঁদের নেত্রীর পক্ষে একটা আন্দোলন পর্যন্ত করতে পারেননি। তাঁদের নিজেদের পদ-পদবি কী হবে, সেগুলো নিয়ে তাঁরা ব্যস্ত। আর লন্ডন থেকে যিনি কলকাঠি নাড়ান, তাঁর ওপরে তাঁদের নাচতে হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা