kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

সচিবালয় স্থানান্তরের নির্দেশ

বাহরাম খান   

২৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সচিবালয় স্থানান্তরের নির্দেশ

সচিবালয়ের জন্য রাজধানীর শেরেবাংলানগরে স্থায়ী স্থাপনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশা অনুযায়ী সংসদ ভবনের পাশে সচিবালয় হবে। বর্তমান সচিবালয়ের আশপাশে কোনো মন্ত্রণালয়ের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণের প্রয়োজন নেই।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সচিবালয়ের পাশে নতুন একটি ভবন নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা উঠলে প্রধানমন্ত্রী তা নাকচ করে দেন। বৈঠকে নির্ধারিত আলোচনা শেষে খাদ্য ভবন ও মাউশি ভবনের মাঝে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন নির্মাণের বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেছেন। হয়তো খুব তাড়াহুড়া করে কিছু হবে না। তবে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া যে প্রয়োজন তা প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে বোঝানো হয়েছে। তিনি বলেন, সচিবালয়ের জন্য স্থায়ী পরিকল্পনা করে বিশাল উদ্যোগ নিতে হবে। তাই দ্রুতই সচিবালয় স্থানান্তর হয়ে যাবে, তা বলা যায় না। আর সচিবালয় স্থানান্তরের পর বর্তমান সচিবালয়ের অবকাঠামো সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।

মন্ত্রিপরিষদের অন্য একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী চান স্বয়ংসম্পূর্ণ আধুনিক একটি সচিবালয় হোক; যেখানে সব মন্ত্রণালয়ের জায়গা হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সবাইকে হাতের কাছে পাবেন। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় মন্ত্রণালয়গুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় কাজের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা হয়।

এদিকে বেশ আগে থেকেই আলোচনা ছিল যে সচিবালয় বর্তমান আবদুল গণি রোডে থাকছে না। বিষয়টি নিয়ে সরকারে ঊর্ধ্বতন মহলে বেশ কয়েকবার আলোচনাও হয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১৫ সালে সচিবালয় স্থানান্তরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। তখন স্থপতি লুই আই কানের নকশার পূর্ণাঙ্গ কপি সরকারের সংগ্রহে না থাকায় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি ফেরত পাঠান। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মূল নকশা বাংলাদেশে আনা হয়। কিন্তু ওই নকশাকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে নতুন উদ্যোগ নেবে বলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

সচিবালয়সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশবিভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক সচিবালয়ের জন্য একটি স্কুলভবনকে সচিবালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। স্বাধীনতার পর সচিবালয়ে মোট ১১টি ভবন হয়েছে। আরো দুটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন।

জানা গেছে, ১৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ সরকারে বর্তমানে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের স্থান সচিবালয়ের চৌহদ্দির মধ্যে হয়নি স্থানাভাবের কারণে।

বাংলাদেশ টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোন আইন-২০১৯-এর খসড়া অনুমোদন : গতকালের মন্ত্রিসভায় ‘বাংলাদেশ টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোন আইন-২০১৯’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। প্রস্তাবিত খসড়ায় সাগরে জলদস্যুতার শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে সাগরে দস্যুতা, সন্ত্রাস, দূষণসহ সাগরে সংঘটিত অপরাধ ও আইনি কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। আর সাগরে সন্ত্রাস করতে গিয়ে কেউ হত্যাকাণ্ড ঘটালে তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের পর খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবারও মন্ত্রিসভায় ওঠানো হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব।

প্রসঙ্গত, খসড়া আইনটি পাস হলে ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম অ্যাক্ট ১৯৭৪’ আইনটি বাতিল হয়ে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা