kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

‘আমার জন্য আমার বাবা পাখিটা চলে গেল...

যশোরে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবা খুন

যশোর অফিস   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেয়েকে উত্ত্যক্ত ও ইন্টারনেটে ছবি ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টার প্রতিবাদ করছিলেন আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) নামের এক বাবা। এ কারণে রাজ্জাককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী যুবক হোসেন আলীর বিরুদ্ধে। হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে যশোর উপশহরের ৬ নম্বর সেক্টরের সারথী মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুর রাজ্জাক ও হত্যায় অভিযুক্ত হোসেন আলী সারথী মিল এলাকার জাফর আলী বিশ্বাসের বাড়ির ভাড়াটিয়া। রাজ্জাক এলাকায় প্রহরীর চাকরি করতেন। হোসেন ইজি বাইকচালক। এলাকাবাসী জানায়, আব্দুর রাজ্জাকের মেয়েটি (২০) ভালো। তবে হোসেনের চরিত্র ভালো না। তাঁর একাধিক স্ত্রী আছে। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

নিহতের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, যে তরুণীকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছিল তাঁর আহাজারিতে শোকার্ত এলাকার পরিবেশ। প্রতিবেশীরা ভিড় করেছেন বাড়িতে। তরুণী চিত্কার করে কাঁদছিলেন আর বারবার বলছিলেন, ‘আমার জন্য আমার বাবা পাখিটা চলে গেল। ও বাবা ও পাখিরে...!’ তিনি আরো বলেন, ‘হোসেন আমার রেকর্ডিংয়ের কথা বলে আমাকে তার কথামতো চলতে বলে। অথচ কিসের রেকর্ডিং তাও আমি জানি না। আমি এ কথা বাড়িতে বলে দেই। এতে হোসেন ক্ষিপ্ত হয়। আমার বাবা এ কথা হোসেনের কাছে জানতে গেলে তর্ক-বিতর্ক হয়। হোসেন আমার বাবার বুকে লাথি মেরে বাবাকে মেরে ফেলে।’

নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, আব্দুর রাজ্জাকের মেয়েকে হোসেন উত্ত্যক্ত করতেন। হোসেন ওই তরুণীর ছবি ও ফোনালাপ রেকর্ড করে সেসব ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১৫ দিন ধরে তাঁর কথামতো চলতে বলছিলেন। বিষয়টি তরুণী তাঁর মা-বাবাকে জানান। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে রাজ্জাকের সঙ্গে হোসেনের দ্বন্দ্ব চলছিল। গতকাল সকালে বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। এ সময় রাজ্জাকের বুকে লাথি মারেন হোসেন। এতে রাজ্জাক পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। তাঁর মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। তাঁকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবার লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরে। এদিকে পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কাজল মল্লিক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।

নিহতের স্ত্রী বলেন, ‘আমার মেয়ের মালয়েশিয়াপ্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছে। জামাইয়ের বাড়ি খাজুরার তেজরোল গ্রামে। ১৮ দিন পরে জামাইয়ের বিদেশ থেকে আসার কথা। হোসেন আমার মেয়েকে বিরক্ত করত। তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।’

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, মৃতের পরিবার অভিযোগ দেওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা