kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

২৬ জনকে আজীবন বহিষ্কার

বুয়েট শিক্ষার্থীদের বাকি দুই দাবি আদায়ের অপেক্ষা

আবরার হত্যাকাণ্ড

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বুয়েট শিক্ষার্থীদের বাকি দুই দাবি আদায়ের অপেক্ষা

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে স্থবির বুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আজীবন বহিষ্কারসহ তিন দাবির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে তাঁদের প্রথম দাবিটি পূরণ হয়েছে। আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৬ শিক্ষার্থীকে গত বৃহস্পতিবার আজীবন বহিষ্কার করেছে বুয়েট প্রশাসন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, বাকি দুটি দাবির বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ দেখেই ক্লাসে ফিরবেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, প্রথম দাবিটা কার্যকর হয়েছে। বাকি দাবি দুটির বিষয়েও কাজ চলছে। দ্রুতই বাকি দুটি দাবিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাকিল আনোয়ার বলেন, ‘তিনটি দাবি মেনে নিতে প্রশাসন তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছে। এর মধ্যে একটি দাবির বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি দুই দাবির বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ দেখে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ফিরব কি না তা জানানো হবে।’

ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবির মধ্যে আমরা ইতিমধ্যে প্রথমটা বাস্তবায়ন করেছি। বাকি দুটির কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া তিন সপ্তাহের মধ্যেই আমরা বাকি দুটি দাবি বাস্তবায়ন করতে পারব। তবে প্রথম দাবি বাস্তবায়িত হওয়ায় যদি শিক্ষর্থীরা মনে করে তারা পরীক্ষায় বসবে তাহলে আমরা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করব।’

শিক্ষার্থীদের বাকি দুটি দাবি হলো—আহসানউল্লাহ, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হলের র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবার সাংগঠনিক রাজনীতি করা হলে তার শাস্তির বিধান এবং একই সঙ্গে র‌্যাগিংয়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরির শাস্তির নীতিমালা প্রস্তুত করে বুয়েট অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেট থেকে অনুমোদিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে সংযুক্ত করা।’

এদিকে, আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ছয় শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বুয়েট প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার রাতে বুয়েটের বোর্ড অব রেসিডেন্স এ ডিসিপ্লিন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আজীবন বহিষ্কৃত ২৬ শিক্ষার্থী হলো—মেহেদী হাসান রবিন, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মুজাহিদুর রহমান, মেহেদী হাসান রাসেল, এহতেশামুল রাব্বী, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম, মুনতাসির আল জেমি, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মো. শামীম বিল্লাহ, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মুজতবা রাফিদ, মো. মিজানুর রহমান, মো. আশিকুল ইসলাম, এস এম মাহমুদ, ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না, অমিত সাহা, মাজেদুর রহমান, শামসুল আরেফিন, মোয়াজ আবু হোরায়রা, মো. আকাশ হোসেন, মোর্শেদ উজ জামান ও মুহতাসিম ফুয়াদ। তাঁদের মধ্যে আশিকুল ইসলামের নাম পুলিশের অভিযোগপত্রে ছিল না।

এ ছাড়া আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বিবেচনায় ছয় শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন—আবু নওশাদ সাকিব, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ গালিব, শাওন মিয়া, সাখাওয়াত ইকবাল অভি ও মো. ইসমাইল।

প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর পর থেকেই জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারসহ দশ দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটনার পরপরই ১৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বুয়েট প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ২৬ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করল বুয়েট প্রশাসন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা