kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

বছরে ৯০ লাখ টন প্লাস্টিক নদীতে পড়ছে

ভেসে গিয়ে পড়ছে সমুদ্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বছরে ৯০ লাখ টন প্লাস্টিক নদীতে পড়ছে

প্রতিবছর ৯০ লাখ টন প্লাস্টিক নদীতে গিয়ে পড়ছে। এরপর তা ভেসে গিয়ে পড়ছে সমুদ্রে। পদ্মা থেকে ৩০০ ধরনের প্লাস্টিক পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে এমন তথ্য দিয়েছে পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

কোমল পানীয়র বোতল থেকে শুরু করে থালা, জগ, প্রসাধনসামগ্রীর মোড়ক—সবই আছে ওই সব নমুনার তালিকায়। ব্যবহার করার পর সেসব বিভিন্ন জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে।

পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশ থেকে হিমালয় পর্যন্ত দৈবচয়নের ভিত্তিতে দুই হাজার ৫৭৫ কিলোমিটার অংশে জরিপ চালিয়ে ছোট ছোট ৫৬ হাজার প্লাস্টিক বর্জ্যের টুকরা পেয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। সে হিসাবে নদীর প্রতি কিলোমিটারে প্লাস্টিক বর্জ্য মিলেছে ২২ পিস করে। ‘উৎস থেকে সাগরে’ শিরোনামের একটি গবেষণা করতে গিয়ে এমন তথ্য মিলেছে। মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসে জরিপটি করা হয়েছে। বর্ষার সময় এবং শুকনো মৌসুমে পদ্মা নদীতে প্লাস্টিকের দূষণ কেমন হয় তা জানতে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ফেলো জেনা জ্যামবেক ও হিথার কোল্ডেওয়ের যৌথ নেতৃত্বে জরিপটি করা হয়েছে। তাতে নদী থেকে পানি, বাতাস, মাটি, প্লাস্টিকসহ মোট ৩০০ ধরনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ভোলা, চাঁদপুর ও রাজবাড়ীতে মোট আড়াই শ মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। মেরিন ডেব্রিস ট্র্যাকার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে প্লাস্টিক বর্জ্যগুলোর ধরন চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা স্থল ও পানিতে তিন হাজার কাঠের পচনশীল ড্রিফট কার্ড এবং ১০টি বোতল ট্যাগ ব্যবহার করে প্লাস্টিক বর্জ্যের গতিবিধি চিহ্নিত করেছে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাাফিকের ফেলো ও গবেষকদলের উপনেতা হিথার কোল্ডেওয়ে বলেন, সমুদ্রে প্লাস্টিকদূষণ শুধু বাংলাদেশেই নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। প্রতিবছর ৯০ লাখ টন প্লাস্টিক নদীতে গিয়ে পড়ছে। এরপর ভেসে গিয়ে সমুদ্রে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই জরিপের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষ এবং প্লাস্টিক কিভাবে পদ্মা নদী ও সমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত, তা আমাদের তথ্য ব্যবহার করে সচেতনতা তৈরি এবং এর সমাধানের পথ বের করা।’ শুকনো মৌসুমে জরিপ করার জন্য ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রতিনিধিদল এখন ঢাকায়। জরিপের দ্বিতীয় ধাপে তথ্য সংগ্রহ শেষ করে ফল বের করার কাজ শুরু করবে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের গবেষক বুশরা নিশাত গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই আমাদের এই জরিপের উদ্দেশ্য। তবে আমরা জরিপটি করতে গিয়ে একটি জিনিস লক্ষ করেছি, নদীতে বোতল কম পাওয়া যাচ্ছে। কারণ দেশে বোতল পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। আমরা বেশি পেয়েছি চিপস, চকোলেটসহ বোতলের উপরিভাগ (চিপ)।’ এদিকে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপির এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দিনে ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বঙ্গোপসাগরে পড়ছে। পরিমাণের দিক দিয়ে এটি বিশ্বে পঞ্চম। এই বর্জ্যের উৎস গঙ্গা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা হয়ে এগুলো সাগরে যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা