kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

নিজেরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই

► সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে
► অপপ্রচারে কান দেবেন না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



নিজেরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই

সশস্ত্র বাহিনী দিবসে গতকাল সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী পদক এবং অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করে যাওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। নিজেরা নিজের দেশকে গড়ে তুলতে চাই। কাজেই সবাই যার যার অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে নিজের দেশকে গড়ে তুলবেন—সেটাই আমি চাই।’

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারো কাছে হাত পেতে নয়, কারো কাছে মাথা নত করে নয়, বিশ্ব দরবারে বাঙালি মাথা উঁচু করে চলবে, সম্মানের সঙ্গে চলবে, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা চলব—এটাই আমাদের লক্ষ্য; আমরা সেভাবেই দেশকে গড়ে তুলতে চাই।’

‘অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বের পাঁচটি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ’—এ তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ তার উন্নয়ন বাজেটের ৯০ শতাংশ এখন নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছে।’

দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সর্বাবস্থায় চেইন অব কমান্ড মেনে ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যদি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে তাহলে অগ্রগতি অবশ্যম্ভাবী, এটা হতেই হবে। তাই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে তা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ যেন শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সে ব্যবস্থাই আমরা করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীকে ‘দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক’ আখ্যায়িত করে এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জনকল্যাণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি এ সময় সামপ্রতিককালের ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্যেরও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফ্ফর মহিউদ্দিন মোহাম্মাদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত।

অনুষ্ঠানে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. অধ্যাপক বি. চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরসহ ১৪ দলীয় নেতারা, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য বিশিষ্ট রাজনীতিকরা, বিদেশি কূটনীতিকরা, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্টজনরা, গণমাধ্যমের সম্পাদকরা, উচ্চ পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা ও তাঁদের সহধর্মিণীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র সদস্যদের, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের এবং বিদেশি কূটনীতিকসহ অনুষ্ঠানে আসা অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এর আগে সমপ্রসারিত এবং পুনর্নির্মিত সেনাকুঞ্জের বর্ধিতাংশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অপপ্রচারে কান দেবেন না : এর আগে সকালে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস হলে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমরা দেখি, অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়। আমি সবাইকে একটা কথা বলব, এই অপপ্রচারে কান দেবেন না।’

শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন অপপ্রচার বিশেষ করে পেঁয়াজ, লবণ প্রভৃতির সংকটের অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এটা করবে আমি জানি, এটা স্বাভাবিক। কাজেই সেটাকে মোকাবেলা করেই আমাদের চলতে হবে, আমরা সেভাবেই চলছি।’

মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৯ উপলক্ষে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও সাত বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্মানীর চেক ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের হাতে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ এবং ৯ জন সেনা সদস্য, দুজন নৌবাহিনীর সদস্য এবং তিনজন বিমানবাহিনীর সদস্যের হাতে শান্তিকালীন ‘বাহিনী পদক’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা ইতিহাস আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের কাহিনী শিশু, নাতি-নাতনি ও স্থানীয় জনগণের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা সব উপজেলাতে মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স তৈরি করে দিচ্ছি। কাজেই সেসব অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের দলিল-দস্তাবেজ আর নষ্ট হবে না এবং আগামী প্রজন্মের শিশুরা যুদ্ধের প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবে।’

মুক্তিযুদ্ধবিষযক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফ্ফর মহিউদ্দিন মোহাম্মাদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘শিখা অনির্বাণে’ রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা : সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতাযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী সেনাবাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল সকালে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি শিখা অনির্বাণের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকষ দল রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানায়। রাষ্ট্রপতি সেখানে রক্ষিত পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

প্রধানমন্ত্রীও শিখা অনির্বাণের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের মহান আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর অংশ হিসেবে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর বাছাইকৃত চৌকষ সদস্যের একটি দল গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণ চত্বরে সংরক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। শিখা অনির্বাণে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে যান, যেখানে তিন বাহিনী প্রধানরা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা