kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

আশা, সরকার নতি স্বীকার করবে না

রাশেদা কে. চৌধূরী

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আশা, সরকার নতি স্বীকার করবে না

গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে দেশে একটি অসাধু ব্যবসায়ীচক্র ও স্বার্থান্বেষী মহল বিশেষ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। তারা দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, ক্ষতিগ্রস্ত করছে, জিম্মি করছে। তাদের শক্ত হতে মোকাবেলা করতে হবে।

আমরা জানি, আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলেই

তাদের চিহ্নিত করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। তাদের চিহ্নিত করাও হয় না। আইন তো আছে নানা রকম। প্রয়োজন তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। তত্ক্ষণিক বিচার করা। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিচার করতে হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল করতে হবে।

যে বা যারা গুজব ছড়ায় তাদের কিন্তু এজেন্ডা থাকে, অসত্ উদ্দেশ্য থাকে। এটাকে আমি ষড়যন্ত্রের চেয়েও বড় কিছু বলব। একটা অসাধু উদ্দেশ্য থেকে লবণসংকটের গুজব ছড়ানো হয়েছে। এটার পেছনে নিশ্চয়ই রয়েছেন অসাধু লবণ ব্যবসায়ীরা। এর জন্য জিম্মি হলো সাধারণ জনগণ। এসব গুজব বন্ধ করতে হলে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দরকার। না হলে অসাধু চক্র বারবার সুযোগ নেবে।

জনমনে এ প্রশ্নটিও এসেছে, সরকারের যে কতগুলো কর্মসূচি চলছে, কতগুলো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে, সেগুলোকেই কি পেছনে ফেলে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে? বনানীর আগুনে কত মানুষ প্রাণ দিল সে ঘটনাটা এখন সবাই ভুলে গেছে। অনেক কিছুই তো ধামাচাপা পড়ে গেছে। ব্যাংক লুট, ক্যাসিনো কারবার, পেঁয়াজসংকট—এগুলো তো অসাধু কারবারি, স্বার্থান্বেষী মহলের কাণ্ডকারখানা, ষড়যন্ত্র। এদের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিয়ে তো সরকারকেই বুঝিয়ে দিতে হবে, এসব চলবে না।

এই যে পরিবহনওয়ালারা রাস্তায় নেমে গেল। আইনটা তো তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই করা হয়েছে। অনেক কিছুই তো শিথিল করা হয়েছে। অনেক সময় দিয়ে এখন বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এখন তারা আরো সময় চায়। দেশের মানুষের প্রাণটাকে জিম্মি রেখে এ দেশের মানুষ আর কত সময় দেবে তাদের? মানুষের তো দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমরা মাতৃমৃত্যুর হার কামিয়ে এনেছি; শিশুমৃত্যুর হার কামিয়ে এনেছি। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। এদিকে কত মানুষ প্রতিদিন সড়কে প্রাণ হারাচ্ছে? আমরা একদিকে এগিয়ে যাচ্ছি, আরেক দিকে পিছিয়ে যাচ্ছি। সেটা কি চলতে থাকবে?

সরকার একটি আইন করেছে; এখন এটা প্রয়োগ করতে হবে। সব জায়গায় অসাধু ব্যবসায়ী ও স্বার্থান্বেষী মহল মানুষকে জিম্মি করে ফেলে—এটাই হচ্ছে দুঃজনক। আশা করব সরকার তাদের কাছে নতিস্বীকার করবে না।

লেখক : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা