kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন

ব্লকে নির্মাণ হবে গ্রামীণ সড়ক

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় ► সরকারি দরপত্রেও বাধ্যতামূলক ব্লক ব্যবহারের শর্ত থাকবে

আরিফুর রহমান   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্লকে নির্মাণ হবে গ্রামীণ সড়ক

গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজে ইটের পরিবর্তে ব্লকের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যেসব গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করবে, সেগুলোতে ইটের ব্যবহার বন্ধ করে ব্লক ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যেসব ভবন নির্মাণ হবে, সেসবের দেয়াল ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ হবে ইটের পরিবর্তে ব্লকে। পাশাপাশি সলিং রোডেও ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহার করা হবে। সরকারি সব সংস্থায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বায়ুদূষণ কমিয়ে আনতে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

গত ৫ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে গঠন করে দেওয়া ১৫ সদস্যের কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের অপেক্ষায়। অনুমোদন মিললেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সরকারের সব সংস্থার যেকোনো প্রকল্পের বিপরীতে আহ্বান করা দরপত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ব্লক ব্যবহারের শর্ত থাকবে।

কারিগরি কমিটির আহ্বায়ক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, কমিটি সরকারের সব সংস্থার সঙ্গে বসে বাস্তবতার নিরিখে বেশ কিছু মতামত তুলে ধরেছে। সেগুলো চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি কাজে ইটের ব্যবহার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চায় সরকার। এ বিষয়ে সরকারের সব সংস্থা একমত পোষণ করেছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি কাজে ১০, পরের বছর ২০ এবং তার পরের বছর ৩০ শতাংশ ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। এভাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০, পরের বছর ৮০ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শতভাগ ব্লক ব্যবহার করা হবে।

কারিগরি কমিটি প্রতিবেদনে বলেছে, সরকারি নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রে সেতু, কালভার্ট, ভবনের ছাদ, বিম কলাম নির্মাণে বর্তমানে ইটের বদলে পাথর ব্যবহার করা হয়। যেহেতু বলা হয়েছে যে সরকারি কাজে ইটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে, তাই এখন মোটা দাগে ইট ব্যবহার হয় গ্রামীণ সড়ক, সলিং, ভবনের দেয়াল ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে। এসব জায়গায় ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহার এখন থেকে শুরু করা সম্ভব হবে। তবে বর্তমান চুক্তিবদ্ধ নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা যাবে না।

১৫ সদস্যের কারিগরি কমিটিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, এলজিইডি, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রতিনিধিও ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সড়ক ও মহাসড়কে ওপরের স্তরে বিটুমিনাস লেয়ারের পর বেইস লেয়ার ও সাব-বেইস লেয়ার নির্মাণে ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা ঠিক হবে না। এ বিষয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট সচিবালয়ে প্রথম আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি কাজে পুরোপুরি ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সবাই একমত হয়। ওই দিনই ১৫ সদস্যের কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা গত ২০ সেপ্টেম্বর হাউস অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্লক সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেন।

পরিবেশসচিব আবদুল্লাহ মোহসীন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দেশে বায়ুদূষণের প্রধান কারণ ইটভাটা, যেখানে কাঠ ও কয়লার ব্যবহার হচ্ছে। ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটা ৫৮ শতাংশ দায়ী। দেশে ইটভাটার সংখ্যা বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রাও। আমরা বায়ুদূষণের মাত্রা কমিয়ে আনতে সরকারি কাজে সিমেন্টের তৈরি ব্লক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২০২৫ সাল নাগাদ সরকারি কাজে ইট ব্যবহার বন্ধ করা হবে।’

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, সিমেন্টের তৈরি একটি ব্লক পাঁচটি ইটের সমান। প্রতিটি ইটের দাম ১০ টাকা হিসাবে পাঁচটি ইটের দাম পড়ে ৫০ টাকা। অন্যদিকে সিমেন্টের তৈরি একটি ব্লকে খরচ পড়ে ৪০ টাকা। এই খরচ আরো কমানো সম্ভব। আর সরকারি কাজে ইটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আগে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৯-এর ৩ ক ধারা অনুযায়ী সরকারি দপ্তরের জন্য ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা