kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

অভিযানের মুখে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিপ্রতি ৭০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অভিযানের মুখে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিপ্রতি ৭০ টাকা

পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করলেও এখনো দেড় শ টাকার ওপর। তাই তো পাতাসহ নতুন পেঁয়াজের এত কদর। ৮০ টাকা কেজি দরে এ পেঁয়াজ কিনতে গতকাল শ্যামবাজারে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ল। ছবি : কালের কণ্ঠ

দুই দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে পেঁয়াজের কেজিপ্রতি দাম কমেছে ৭০ টাকা। তবে খুচরা বাজারে এখনো দাম কমার এই প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি। কী কারণে এই দাম কমতে শুরু করেছে জানতে চাইলে পাইকাররা জানান, চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। দামের অস্থিরতার কারণে খুচরা বিক্রেতারা যেমন পেঁয়াজ কিনছেন কম, তেমনি ভোক্তারাও রান্নায় পেঁয়াজের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। অস্থির পেঁয়াজের বাজারে গত শুক্রবার দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। আর আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

গতকাল সোমবার পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের আড়তে দেশি ভালোমানের পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৫০ টাকা, মিয়ানমারের কিছুটা নিম্নমানের পেঁয়াজ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মিসর-তুরস্কের বড় আকারের পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়তেও পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০০ টাকা কমার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে সরকার। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর বাজারে দ্রুত কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। অভিযানে কয়েকটি স্থানে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার এবং জরিমানার খবর জানিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরা।

গত রবিবার থেকে রাজশাহীতে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে। এক দিন আগে শনিবার রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫০ টাকা পর্যন্ত। আর ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি কেজি ২২০ টাকা। গতকাল সোমবার আরো কমেছে পেঁয়াজের দাম। রাজশাহী সদরসহ সব বাজারে অভিযানের খবর পেয়ে রবিবার দেশি পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকা কমে ২২০ টাকায় নেমে আসে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৮০ টাকা দরে। গতকাল দাম আরো কমেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, পেঁয়াজ আটকে রেখে কেউ বাণিজ্য করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে পেঁয়াজ নিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে দেওয়া হবে না।

নাটোরে পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি রোধে নাটোরের প্রধান দুটি বাজারে অভিযান চালায় জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেনের নেতৃত্বে গতকাল দুপুরে শহরের স্টেশন বাজার ও নিচাবাজারে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ব্যবসায়ীদের ১৬০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা যায়। অভিযানের খবর পেয়ে অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ সরিয়ে ফেলেন। অভিযানকালে সড়ক দখল করে পণ্য বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

রাজশাহীর বাঘায় এক দিনের ব্যবধানে ২৫০ টাকা কেজির পেঁয়াজ ১৬০ টাকায় নেমে এসেছে। গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাঘা বাজার মনিটর করতে গেলে এক লাফে ৯০ টাকায় নেমে আসে পেঁয়াজের কেজি। 

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে গতকাল গাজীপুর ইউনিয়ন অফিসে জব্দ করা পেঁয়াজ পাঁচ কেজির প্যাকেট ১৭৫ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। ইউএনও জানান, ১৬৯ জন ক্রেতার কাছে ৮২৫ কেজি জব্দ করা পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে। এ সময় ব্যবসায়ীদের এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রির অভিযোগে মাদারীপুরের শিবচর বাজারে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে দুই অসাধু ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। পরে সঠিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির শর্তে তাঁদের মুক্তি দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিংয়ের ঘোষণা দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান।

জয়পুরহাট শহরের নতুনহাট ও মাছ বাজারে ছয়জন পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করার পর পেঁয়াজের বাজারে কমতে শুরু করেছে দাম। ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা পেঁয়াজ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা কেজি। ব্যবসায়ীরা জানান, দাম বেশি নিলে জরিমানা করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ জন্য কোনো ব্যবসায়ী আর দাম বেশি নিতে সাহস পাচ্ছেন না।

গত শনিবার পেঁয়াজের বাজারে অভিযানে নামেন জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন চন্দ্র রায়। এ সময় মূল্যতালিকা না থাকায় ছয়জন পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায় বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম হাকিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ছয় ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। এরপর পেঁয়াজের বাজার কিছুটা কমেছে।

নবীগঞ্জে পেঁয়াজের দোকানগুলোয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। শহরের মধ্যবাজার এলাকায় গুদামে অতিরিক্ত পেঁয়াজ মজুদ রাখার অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন—নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী এবং নাটোর, জয়পুরহাট, শিবচর (মাদারীপুর), চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ), বাঘা (রাজশাহী), নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা