kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

হুইপ সামশুল, এমপি পংকজসহ ১০৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হুইপ সামশুল, এমপি পংকজসহ ১০৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব

এবার সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাসহ ১০৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের আওতায় থাকা এসব ব্যক্তির ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুদককে সরবরাহ করতে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অনুরোধ জানানো হয়েছে। গতকাল রবিবার দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষর করা এসংক্রান্ত একটি চিঠি বিএফআইউর প্রধান বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

ওই চিঠিতে ১০৫ জনের নাম, ঠিকানা ও পদবি উল্লেখ করে তাঁদের সব তথ্য চাওয়া হয়েছে। তালিকায় আছেন বর্তমান তিন সংসদ সদস্য, সাবেক এক সংসদ সদস্য, যুবলীগের দুই ডজন নেতা, কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও গণপূর্তের শীর্ষ পর্যায়ের ১৫ প্রকৌশলী।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অন্তত ১০০ জনের হিসাব চেয়ে বিএফআইউতে চিঠি পাঠায় দুদক। ওই তালিকার বেশ কয়েকজনের নামও এই তালিকায় আছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ‘শুদ্ধি’ অভিযান শুরুর পর দুদক প্রথমে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর কথা জানালেও এই তালিকা দিন দিন বড় হচ্ছে। দুদক এ পর্যন্ত ৩৪ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ১৪টি মামলায় আসামিদের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে যাঁদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, এনামুল হক আরমান, জি কে শামীম, গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনু, যুগ্ম সম্পাদক রূপন ভূঁইয়া, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাশেদুল হক ভূঁইয়া, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাতেনুল হক ভুইয়া, মো. জহুর আলম, হারুনুর রশিদ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা মোমিনুল হক সাঈদ, কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ, যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আনিসুর রহমান আনিস, ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান, তারিকুজ্জামান রাজিব, মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ও অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধান।

অনুসন্ধানের স্বার্থে যাঁদের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে আছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ, সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও তাঁর স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী, সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ওরফে ম্যাজিক রতন ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঈনুল হক মঞ্জু।

তালিকায় থাকাদের মধ্যে আছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে, আবদুল হাই, হাফিজুর রহমান মুন্সী, নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল হক মধু, শওকত উল্লাহ, ফজলুল হক, রোকন উদ্দিন, আফসার উদ্দিন, স্বপন চাকমা, ইলিয়াস আহমেদ ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মোমিন চৌধুরী, যুবলীগ দক্ষিণের সহসভাপতি সারোয়ার হোসেন মনা, যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেন স্বপন, নির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন, মিজানুর রহমান মিজান, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল, দেশের বাইরে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও নাদিম, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের আবুল কালাম, শিক্ষা অধিদপ্তরের ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমান, যুবলীগের গাজী সারোয়ার বাবু, বান্দরবানের সিলভান ওয়াই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মন্টু, এমডি ফজলুল করিম চৌধুরী স্বপন, পরিচালক এম মহসিন, উম্মে হাবিবা নাসিমা আক্তার, জিয়া উদ্দিন আবীর, জাওয়াদ উদ্দিন, জি কে শামীমের সহযোগী জিয়া, নাঈম, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাবিবুল হক তামিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক কে এম মাসুদুর রহমান, তাঁর স্ত্রী লুত্ফুন্নাহার লুনা, বাবা আবুল খায়ের খান, মা রাজিয়া খান, যুবলীগ দক্ষিণের সহসভাপতি মুরসালিক আহমেদ, তাঁর স্ত্রী কাওসারী আজাদ, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা কামরান প্রিন্স মোহাব্বত, যুবলীগের আকিয়ার রহমান দীপু, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান হোসেন খান ও কেন্দ্রীয় সদস্য হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা