kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

অলিকে চাপে ফেলার কৌশল বিএনপির

এনাম আবেদীন   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অলিকে চাপে ফেলার কৌশল বিএনপির

‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ তৈরি করে বিএনপিকে চাপে ফেলেছিলেন এলডিপি সভাপতি ড. অলি আহমদ। কিন্তু এবার সুযোগ পেয়ে সেই অলিকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে বিএনপি। এলডিপির ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের একই নামে পাল্টা দল গড়তে সবুজ সংকেত দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সে অনুয়ায়ী এলডিপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে আজ সোমবার অলির প্রতি আনাস্থা ব্যক্ত করবেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। সুবিধাজনক সময়ে এরপর ঘোষণা দেওয়া হবে পাল্টা ‘এলডিপি’র।

সূত্র মতে, বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন না ঘটালে কিংবা জাতীয় মুক্তি মঞ্চ বিলুপ্ত না করলে প্রয়োজনে নতুন ‘এলডিপি’কে স্বীকৃতি দিতে পারে বিএনপি। আর তেমনটি হলে ২০ দলীয় জোট থেকে ছিটকে পড়তে পারেন অলি আহমদ।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অলি আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপির কারো সঙ্গে আমার কোনো ঝগড়া নেই। কারণ আমি এলডিপি গোছানোর কাজ করছি।’ তিনি বলেন, ‘মনোনয়ন না পাওয়া ক্ষুব্ধ কয়েকজন নেতা এবং সংগঠনকে সময় না দিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন এমন নেতাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘২০ দলীয় জোট এখনো ভাঙেনি। তবে নানা মাধ্যমে আমরা কিছু খবর পাচ্ছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জোটের মধ্যে কোনো সংকট থাকলে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডাকলেই এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে।’

গত ২৬ জুন এলডিপি থেকে পদত্যাগকারী নেতা সাবেক হুইপ আবদুল করিম আব্বাসী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন এলডিপি গঠন করব নাকি বিএনপিতে যোগ দেব সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে গত এক যুগের বেশি অলি আহমদের সঙ্গে রাজনীতি করা জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে।’

২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটে যোগ দিয়েছিলেন অলি। আর ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর তখনকার ২৪ মন্ত্রী-এমপিকে নিয়ে বিএনপি থেকে বেরিয়ে গিয়ে দলকে বেশ বিপাকেই ফেলেছিলেন তিনি। পরে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে মিলে তিনি এলডিপি গঠন করলেও তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

এদিকে অলি আহমদ এককভাবে দল নিয়ন্ত্রণ করেন বলে তাঁর দলে আলোচনা আছে। এ কারণে দলের অনেক নেতাই বিভিন্ন সময় তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নিষ্ক্রিয় বা বিদ্রোহী হয়েছেন। ওই নেতারাই আজ একজোট হচ্ছেন বলে জানা গেছে। ওই নেতাদের মধ্যে আছেন সাবেক হুইপ আবদুল করিম আব্বাসী, সাবেক এমপি আবদুল্লাহ ও আবদুল গনি, দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ বাশার, সৈয়দ ইব্রাহিম রওনক, মোড়ল আমজাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মতিউর রহমান প্রমুখ।

জানা গেছে, ওই নেতারা এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ভেতরে ভেতরে অলি আহমদ কী তৎপরতা চালাচ্ছেন তা তাঁরা তারেক রহমানকে জানিয়েছেন।

সূত্র মতে, তারেক রহমানসহ বিএনপির সিনিয়র কোনো নেতার সঙ্গেই অলি আহমদের সম্পর্ক ভালো নয়। বিএনপির অনেকের মতে, অলি আহমদের মনোভাব এমন যে জিয়াউর রহমানের চেয়ে তিনিই বড় নেতা। বিএনপির মধ্যে আলোচনা আছে, ঘটনাচক্রে জিয়াউর রহমান বড় নেতা হয়েছেন—এমন কথা অলি ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় প্রায়ই বলে থাকেন। এরই মধ্যে গত মে মাসে এক বক্তৃতায় বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করায় দলটির নেতারা অলির ওপর আরো ক্ষুব্ধ হন।

বিএনপির কয়েক নেতার মতে, যদিও বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনে অলি আহমদ ও তাঁর দলকে জোটে নেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিককালে অলির তৎপরতা নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে ‘নতুন ধরনের সন্দেহ’ ঘনীভূত হয়েছে। দলটির নেতাদের কাছে খবর এসেছে যে জোটের পাশাপাশি বিএনপির কিছু নেতাকে ডেকেও অলি আহমদ তাঁর সঙ্গে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছেন। এমনকি কাউকে কাউকে লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে বলছেন, ভবিষ্যতে তিনিই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে যাবেন।

অবশ্য অলি আহমদ কালের কণ্ঠ’র কাছে দাবি করেছেন, বিএনপির কারো সঙ্গে তাঁর এ ধরনের কথা হয়নি।

জানা যায়, আগে থেকেই টানাপড়েন থাকলেও সম্প্রতি ‘নতুন তৎপরতার’ খবর জানাজানি হওয়ায় অলির ব্যাপারে নড়েচড়ে বসেছে বিএনপি নেতৃত্ব।

বস্তুত মুক্তি মঞ্চ গড়ার পর থেকেই অলি আহমদের সঙ্গে টানাপড়েন চলছে বিএনপির। একদিকে ২০ দলের শরিকদের নিয়ে অলির তৎপরতায় জোটে অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি হয়েছে; অন্যদিকে সাম্প্রতিককালে অলির বিভিন্ন সভায় বিএনপির সমালোচনা করা শুরু হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন এলডিপি গঠিত হলে জাতীয় মুক্তি মঞ্চ বিলুপ্ত করার জন্য অলি আহমদকেও শর্ত দেওয়া হবে। অন্যথায় নতুন এলডিপিকে ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।’ ওই নেতার মতে, অলি আহমদ যা করছেন সবই বিএনপিবিরোধী তৎপরতা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা