kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ফোক ফেস্ট

এশিয়া ও আফ্রিকান সংগীতের অপূর্ব মূর্ছনা

নওশাদ জামিল   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এশিয়া ও আফ্রিকান সংগীতের অপূর্ব মূর্ছনা

রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে গতকাল শিল্পী হিনা নাসরুল্লাহ সুফি ঘরানার পরিবেশনায় ফোক ফেস্ট মাতালেন। ছবি : তারেক আজিজ নিশক

সংগীতের সুরসুধা দেশকালের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। সুরের ভাষা যেমন সর্বজনীন, তেমনি তা সর্বকালের, সব দেশের। আফ্রিকার দেশ মালির কিংবদন্তি লোকসংগীত শিল্পী হাবিব কইটে যখন গান গেয়ে শোনাচ্ছিলেন, তখন তাঁর গানের কথা কতজনই আর বুঝতে পেরেছিল? বাণী বোঝা না গেলেও দর্শক-শ্রোতারা উদ্বেলিত হচ্ছিল সুরের জাদুতে। পাকিস্তানের সুফি ঘরানার সুরেলা কণ্ঠের শিল্পী হিনা নাসরুল্লাহর ক্ষেত্রেও একই কথা বলা চলে। তাঁর মরমি সুর পুরো আর্মি স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে দিয়েছিল প্রেম ও মানবতার স্বর্গীয় আবহ। পাশাপাশি বাংলাদেশের একঝাঁক নবীন-প্রবীণ লোকসংগীত শিল্পীর পরিবেশনা মাতিয়ে রাখে দর্শক-শ্রোতাদের। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে এশিয়া ও আফ্রিকার শিল্পীদের পরিবেশনায় ফোক ফেস্টের দ্বিতীয় দিনের আয়োজন ছিল প্রাণবন্ত ও উত্সবমুখর।

কার্তিকের শেষ সন্ধ্যা থেকে সামান্য শীত ছোঁয়ায় মধ্যরাত পর্যন্ত লোকসংগীতের সুরে সুরে স্টেডিয়ামভরা দর্শক-শ্রোতারা বিপুল আনন্দে এ আয়োজন উপভোগ করে।

ফোক ফেস্ট উপলক্ষে গতকাল ছুটির দিনে ব্যাপক দর্শক-শ্রোতার সমাগম ঘটে। সন্ধ্যা ৬টার আগে থেকে সংগীতপ্রেমীরা দলবেঁধে আসতে শুরু করে উত্সবস্থলে। রাত ৮টা নাগাদ গোটা স্টেডিয়ামের গ্যালারি, মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সংগীতপ্রেমীদের উপস্থিতিতে উত্সব প্রাঙ্গণ হয়ে উঠে এক মহামিলনমেলা। হাজারো শ্রোতার আগমনে দ্বিতীয় রজনী হয়ে উঠে অনবদ্য। রাত যত গড়াচ্ছিল, ততই বাড়ছিল দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি। 

ঠিক সন্ধ্যা ৬টায় জ্বলে উঠে মঞ্চের বাতি। আলো ঝলমলে মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের শিল্পীরা। ম্যাজিক বাউলিয়ানার শিল্পী শফিকুল ইসলামের পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উত্সব। শিল্পী শফিকুল একে একে গেয়ে শোনান ‘মন মজালে ওরে বাউলা গান’, ‘বন্ধু তুমি কই গেলা কই রইলা আমারে ছাড়িয়া’ এবং ‘কী সুন্দর এক গানের পাখি, সে মন নিয়া করে খেলা’।

দ্বিতীয় পরিবেশনা নিয়ে হাজির হন কামরুজ্জামান রাব্বি। আধ্যাত্মিক ঘরানার এই শিল্পী গেয়ে শোনান ‘ভাবেরই ঘরে আলেক শহরন আল্লাহ রাসুল বিরাজ করে’। তাঁর গাওয়া অন্য গানগুলো হলো ‘তোমার সঙ্গে কিসের পিরিতি’, ‘আমি তো ভালা না, ভালা লইয়াই থাইকো’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ ও ‘তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল’। কামরুজ্জামান রাব্বি লোকসংগীতে তেমন পরিচিত না হলেও তাঁর গানে দর্শক-শ্রোতারা নেচে-গেয়ে কণ্ঠ মেলায়। 

তৃতীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন কেরানীগঞ্জের বাউল কাজল দেওয়ান। সুপরিচিত এ শিল্পীর পরিবেশনায় ছড়িয়ে পড়ে সংগীতের অপূর্ব মূর্ছনা। তিনি গেয়ে শোনান ভাব-ভালোবাসার গান। দরাজ কণ্ঠে গেয়ে উঠেন ‘পিরিতের বাজার ভালো না’ গানটি। জনপ্রিয় এ গানের সঙ্গে দর্শক-শ্রোতাদের নাচতে দেখা যায়। তারপর একে একে আরো গেয়ে শোনান ‘আমি তোর পিরিতের দিওয়ানা’, ‘দিন ফুরাইলে ভাইঙ্গা যাইবো এ রঙ্গের মেলা’ ইত্যাদি গান।

দ্বিতীয় দিনে এ ছাড়া উত্সবে আলো ছড়ান বাংলাদেশের শিল্পী ফকির শাহাবুদ্দিন, মালির শিল্পী হাবিব কইটে ও পাকিস্তানের শিল্পী হিনা নাসরুল্লাহ। 

চতুর্থ পরিবেশনায় মঞ্চে আসেন মালির হাবিব কইটে। তাঁর দলের নাম বামাদা। মালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে মঞ্চ মাতান তাঁরা। অসম্ভব মনমোহন গানে তাঁরা দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন প্রায় এক ঘণ্টা। ভাষা মালির হলেও তাঁদের পরিবেশনা ছিল অপূর্ব। হাবিব কইটের চমত্কার গিটার বাদনে মিশে ছিল ক্লাসিকাল, ফ্ল্যামেনকো সুর। গানগুলোয় আফ্রিকান পারকাশানের কাজ উপভোগ করেছে শ্রোতারা।

মালির শিল্পীদের মুগ্ধতা ছড়ানো পরিবেশনা শেষ হতেই মঞ্চে আসেন ফকির শাহাবুদ্দিন। তিনিও বাউল ও সুফি ঘরানার গানে শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন প্রায় এক ঘণ্টা।

রাত ১০টা ৪০ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন পাকিস্তানের সুফি গানের শিল্পী হিনা নাসরুল্লাহ। উত্সবে তিনি উর্দুর পাশাপাশি সিন্ধি ও সারাইকি ভাষার গানও পরিবেশন করেন। মানবতা ও আধ্যাত্মবাদের মরমি সুরে বিমোহিত হয় শ্রোতারা।

আজ শনিবার আন্তর্জাতিক ফোক ফেস্টের সমাপনী দিন। আজ রাতের আয়োজনে মঞ্চ মাতাবেন বাংলাদেশের কাজল দেওয়ান, চন্দনা মজুমদার, পাকিস্তানের জুনুন এবং রাশিয়ার সাত্তুমা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা